শেখ রিফান আহমেদ : বাংলাদেশের অর্থনীতি শিল্প ও সেবাখাতের দিকে এগোলেও কৃষি এখনো দেশের জীবনরেখা। কোটি মানুষের কর্মসংস্থান, খাদ্য সরবরাহ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি এই খাত। জলবায়ু পরিবর্তন, আবাদি জমি হ্রাস এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে কৃষির আধুনিকায়ন এখন আর বিলাসিতা নয়; এটি জাতীয় প্রয়োজন।
কৃষক আজ নানা সংকটে রয়েছেন। সারের দাম, বীজের মান, সেচ ব্যয় এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়া—সব মিলিয়ে কৃষিকাজ অনেক ক্ষেত্রে অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। উৎপাদন বাড়লেও কৃষকের আয় সমানুপাতিকভাবে বাড়ছে না। ফলে নতুন প্রজন্ম কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
এই বাস্তবতায় প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির বিকল্প নেই। উন্নত বীজ, যান্ত্রিক চাষাবাদ, ড্রিপ সেচ, মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং আবহাওয়া তথ্যভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থাপনা উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে আরও সক্রিয় করতে হবে এবং কৃষকদের হাতে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ পৌঁছে দিতে হবে।
খাদ্য নিরাপত্তা শুধু ধান উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ডাল, তেলবীজ, ভুট্টা, ফল, শাকসবজি ও প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন বাড়াতে হবে। বহুমুখী কৃষি গ্রামীণ আয় বাড়াবে এবং পুষ্টি নিরাপত্তাও নিশ্চিত করবে।
কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থাও উন্নত করা জরুরি। পর্যাপ্ত হিমাগার, গ্রামীণ সংগ্রহকেন্দ্র এবং ডিজিটাল বাজারব্যবস্থা কৃষককে মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে।
খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ধরে রাখতে হলে কৃষিকে লাভজনক পেশায় পরিণত করতে হবে। কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, আর কৃষি বাঁচলে দেশ নিরাপদ থাকবে—এ সত্য আমাদের নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে স্থান পাওয়া উচিত।
-লেখক : সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক ভাবনা

শেখ রিফান আহমেদ, সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক ভাবনা 




















