স্টাফ রিপোর্টার , রাজশাহী : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক মো. আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘ ২৩ দিন কারাভোগের পর আদালতের আদেশে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, মো. আবুল কালাম আজাদ গোদাগাড়ী এলাকার একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি মেসার্স নাহার এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স এম.এ ব্রিকস এবং মা ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী। এছাড়াও তিনি সোনামসজিদ আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপ এবং রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আরসিসিআই) সদস্য হিসেবে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি তিনি নিয়মিতভাবে ভ্যাট ও আয়কর প্রদান করে আসছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়ে আসছিলেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতেও একাধিক মামলায় তাকে জড়ানো হয়েছিল এবং তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করা হয়। এসব বিষয় তুলে ধরে তিনি গত ১৯ জুলাই সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে তিনি ব্যবসা পরিচালনার স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
অভিযোগ রয়েছে, আবেদন জমা দেওয়ার পরদিন ২০ জুলাই গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি যৌথ দল গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিষালবাড়ী এলাকায় তার বাসভবনে অভিযান চালায়। সেখান থেকে তাকে আটক করা হয় এবং পরে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আজাদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জের ধরে তাকে হয়রানি করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, একটি পক্ষ তাকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পরিবারের সদস্যরা বলেন, গ্রেপ্তারের পর থেকে তারা চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন এবং এখনো নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা কাটেনি।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যক্তিগত কোনো বিরোধের কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। একটি চলমান মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়েছে।
দীর্ঘ ২৩ দিন কারাগারে থাকার পর গত ১৩ আগস্ট আদালত থেকে জামিন লাভ করেন মো. আবুল কালাম আজাদ। কারামুক্তির পর তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং সব ধরনের বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে।
একই সঙ্গে তিনি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর পরিবার নিয়ে তিনি উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলের কয়েকজন সদস্যও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ব্যবসায়ীদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ায় তদন্ত হওয়া উচিত, তবে সেই তদন্ত হতে হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গত।
তারা আরও বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে হলে আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বজায় রাখা এবং সকল পক্ষের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত ঘটনা যাচাইয়ের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
এদিকে এলাকায় ঘটনাটি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এই পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান হবে।
বর্তমানে জামিনে মুক্ত থাকলেও মো. আবুল কালাম আজাদ তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, নিজের ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার সুযোগ এবং পরিবারসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 



















