ঢাকা, বাংলাদেশ , সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

চিকিৎসক সংকটে ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল

আবু জাফর বিশ্বাস, ঝালকাঠি:   ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের তীব্র সংকট চলছে। ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে অনুমোদিত ৬৬টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৩ জন। শূন্য রয়েছে ৫৩টি পদ। এর মধ্যে ২১ বিষয়ের চিকিৎসক পদে কোনো চিকিৎসক নেই। সহকারী সার্জনের ২০টি পদও শূন্য।
গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় চিকিৎসাসেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা। প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা না পেয়ে অনেক রোগীকে যেতে হচ্ছে বরিশালসহ অন্য এলাকার হাসপাতালে। এতে বাড়ছে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় ও দুর্ভোগ।
গতকাল শনিবার হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বহির্বিভাগের চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে রোগীদের দীর্ঘ সারি। চিকিৎসকের কক্ষে প্রবেশের জন্য অনেক রোগীকে আধা ঘণ্টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দীর্ঘ অপেক্ষায় রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অনেককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ এবং জরুরি বিভাগে ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে চিকিৎসকের সংখ্যা কম থাকায় কর্মরত চিকিৎসকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৩ সালে ৫০ শয্যা নিয়ে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। ২০০৩ সালে এটি ১০০ শয্যায় উন্নীত হয়। ২০১৮ সাল থেকে হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে।
হাসপাতালে চিকিৎসকের সংকট এক বছরের বেশি সময় ধরে চলছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে চারজন চিকিৎসককে সহকারী সার্জন হিসেবে পদায়ন করা হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র একজন যোগ দিয়েছেন। বাকি তিনজন যোগদান করেননি।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদও শূন্যঃ
হাসপাতালের ১০টি সিনিয়র কনসালট্যান্ট পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। তিনি ইএনটি বিভাগের চিকিৎসক। অর্থোপেডিক সার্জারি, সার্জারি, কার্ডিওলজি, চক্ষু, রেডিওলজি, অ্যানেসথেসিয়া, গাইনি, মেডিসিন ও শিশু বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্টের পদ শূন্য।
জুনিয়র কনসালট্যান্টের ১২টি পদের মধ্যে অর্থোপেডিক সার্জারি, সার্জারি ও অ্যানেসথেসিয়া বিভাগে একজন করে চিকিৎসক আছেন। বাকি নয়টি পদ শূন্য।
সহকারী সার্জনের অনুমোদিত ২০টি পদের একটিতেও চিকিৎসক নেই। জরুরি বিভাগের আটটি চিকিৎসা কর্মকর্তার পদের মধ্যে কর্মরত আছেন দুজন, শূন্য ছয়টি। চারটি মেডিকেল অফিসার পদের মধ্যে তিনজন কর্মরত, শূন্য একটি।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা টি এম মেহেদী হাসান বলেন, ‘চিকিৎসক সংকটের কারণে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ রোগী দেখতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী জরুরি বিভাগেও দায়িত্ব পালন করতে হয়।’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাসুম ইফতেখার বলেন, ‘সীমিত জনবল দিয়ে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীর চাপ বেশি হলে প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি আমাকেও মাঝেমধ্যে রোগী দেখতে হয়।
অন্য হাসপাতালে যেতে হচ্ছে রোগীদেরঃ
কার্ডিওলজি, চক্ষু, শিশু, গাইনি, রেডিওলজি, অ্যানেসথেসিয়া, সার্জারি ও অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকায় এসব রোগের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অনেক সময় অন্যত্র যেতে হচ্ছে।
সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের ইমাম হোসেন বলেন,‘হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না পেলে বরিশাল যেতে হয়। এতে চিকিৎসার খরচের পাশাপাশি যাতায়াত ও সময় দুটিই বাড়ে।
ঝালকাঠি পৌরসভার জেলেপাড়া রোডের বাসিন্দা কামাল সরদার বলেন, ‘হৃদ্‌রোগ বা চোখের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ দরকার হয়। সদর হাসপাতালে সেই চিকিৎসক না থাকলে রোগীকে অন্যত্র নিয়ে যেতে হয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঝালকাঠি জেলা সম্পাদক ইসমাইল মুসাফির বলেন, ১০০ শয্যার হাসপাতালে দিনের পর দিন এত বিপুলসংখ্যক চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) মো. রেফায়েতুল হায়দার বলেন, ‘বিভাগের সব উপজেলায় চিকিৎসক সংকট রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। বিশেষ করে ঝালকাঠি জেলার দিকে আমাদের আলাদাভাবে নজর রয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয়

‎বিধি বহির্ভূতভাবে সার বিক্রি: চিরিরবন্দরে মেসার্স জাহানারা ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০ | ফোন: ০৯৬৪৯২৩০২২০, ০১৯১৫৭০৮১৮৭, ই-মেইল: info.nagorikvabna@gmail.com

.nv-address-bar { background-color: #1565C0 !important; padding: 10px 20px !important; text-align: center !important; width: 100% !important; display: block !important; } .nv-address-bar p { color: #ffffff !important; font-size: 13px !important; margin: 0 !important; line-height: 1.6 !important; }
24 August 2026

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ, বাংলাদেশি আহত

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

চিকিৎসক সংকটে ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৫:৪১:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
আবু জাফর বিশ্বাস, ঝালকাঠি:   ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের তীব্র সংকট চলছে। ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে অনুমোদিত ৬৬টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৩ জন। শূন্য রয়েছে ৫৩টি পদ। এর মধ্যে ২১ বিষয়ের চিকিৎসক পদে কোনো চিকিৎসক নেই। সহকারী সার্জনের ২০টি পদও শূন্য।
গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় চিকিৎসাসেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা। প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা না পেয়ে অনেক রোগীকে যেতে হচ্ছে বরিশালসহ অন্য এলাকার হাসপাতালে। এতে বাড়ছে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় ও দুর্ভোগ।
গতকাল শনিবার হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বহির্বিভাগের চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে রোগীদের দীর্ঘ সারি। চিকিৎসকের কক্ষে প্রবেশের জন্য অনেক রোগীকে আধা ঘণ্টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দীর্ঘ অপেক্ষায় রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অনেককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ এবং জরুরি বিভাগে ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে চিকিৎসকের সংখ্যা কম থাকায় কর্মরত চিকিৎসকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৩ সালে ৫০ শয্যা নিয়ে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। ২০০৩ সালে এটি ১০০ শয্যায় উন্নীত হয়। ২০১৮ সাল থেকে হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে।
হাসপাতালে চিকিৎসকের সংকট এক বছরের বেশি সময় ধরে চলছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে চারজন চিকিৎসককে সহকারী সার্জন হিসেবে পদায়ন করা হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র একজন যোগ দিয়েছেন। বাকি তিনজন যোগদান করেননি।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদও শূন্যঃ
হাসপাতালের ১০টি সিনিয়র কনসালট্যান্ট পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। তিনি ইএনটি বিভাগের চিকিৎসক। অর্থোপেডিক সার্জারি, সার্জারি, কার্ডিওলজি, চক্ষু, রেডিওলজি, অ্যানেসথেসিয়া, গাইনি, মেডিসিন ও শিশু বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্টের পদ শূন্য।
জুনিয়র কনসালট্যান্টের ১২টি পদের মধ্যে অর্থোপেডিক সার্জারি, সার্জারি ও অ্যানেসথেসিয়া বিভাগে একজন করে চিকিৎসক আছেন। বাকি নয়টি পদ শূন্য।
সহকারী সার্জনের অনুমোদিত ২০টি পদের একটিতেও চিকিৎসক নেই। জরুরি বিভাগের আটটি চিকিৎসা কর্মকর্তার পদের মধ্যে কর্মরত আছেন দুজন, শূন্য ছয়টি। চারটি মেডিকেল অফিসার পদের মধ্যে তিনজন কর্মরত, শূন্য একটি।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা টি এম মেহেদী হাসান বলেন, ‘চিকিৎসক সংকটের কারণে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ রোগী দেখতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী জরুরি বিভাগেও দায়িত্ব পালন করতে হয়।’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাসুম ইফতেখার বলেন, ‘সীমিত জনবল দিয়ে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীর চাপ বেশি হলে প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি আমাকেও মাঝেমধ্যে রোগী দেখতে হয়।
অন্য হাসপাতালে যেতে হচ্ছে রোগীদেরঃ
কার্ডিওলজি, চক্ষু, শিশু, গাইনি, রেডিওলজি, অ্যানেসথেসিয়া, সার্জারি ও অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকায় এসব রোগের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অনেক সময় অন্যত্র যেতে হচ্ছে।
সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের ইমাম হোসেন বলেন,‘হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না পেলে বরিশাল যেতে হয়। এতে চিকিৎসার খরচের পাশাপাশি যাতায়াত ও সময় দুটিই বাড়ে।
ঝালকাঠি পৌরসভার জেলেপাড়া রোডের বাসিন্দা কামাল সরদার বলেন, ‘হৃদ্‌রোগ বা চোখের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ দরকার হয়। সদর হাসপাতালে সেই চিকিৎসক না থাকলে রোগীকে অন্যত্র নিয়ে যেতে হয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঝালকাঠি জেলা সম্পাদক ইসমাইল মুসাফির বলেন, ১০০ শয্যার হাসপাতালে দিনের পর দিন এত বিপুলসংখ্যক চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) মো. রেফায়েতুল হায়দার বলেন, ‘বিভাগের সব উপজেলায় চিকিৎসক সংকট রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। বিশেষ করে ঝালকাঠি জেলার দিকে আমাদের আলাদাভাবে নজর রয়েছে।

Share this news as a Photo Card