এম.জে.এ মামুন:
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ৪ নম্বর সুবিল ইউনিয়নে মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে মাদকবিরোধী র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দেবিদ্বার থানা পুলিশের উদ্যোগে ইউনিয়নের বুড়িরপাড় বাজারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
র্যালিতে সুবিল ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আলেম-ওলামা, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সমাজকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। র্যালিটি বুড়িরপাড় বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পরে আয়োজিত সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক এখন শুধু ব্যক্তি বা একটি পরিবারের সমস্যা নয়; এর নেতিবাচক প্রভাব সমাজের শান্তি, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের ওপর পড়ছে। তাই মাদকের বিস্তার রোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।
তারা বলেন, মাদকের চাহিদা কমানোর পাশাপাশি তরুণ ও কিশোরদের মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও সমাজকে আরও সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসা, সরবরাহ ও বিস্তারের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সন্তানদের চলাফেরা ও সঙ্গ সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন থাকার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বাবুল, ৪ নম্বর সুবিল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও বিএনপি নেতা সুহেল নেয়ামত সরকার, সুবিল ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ডা. গোলাম মোস্তফা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সুবিল ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মাওলানা তাজুল ইসলাম, দেবিদ্বার থানার এসআই ও সুবিল ইউনিয়নের বিট অফিসার মো. শাহাদৎ হোসেন, বুড়িরপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বশিরুল আলম, বুড়িরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাছির উদ্দিন মাস্টার, স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল জলিল, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক গোলাম মেহেদী সরকার এবং মোঃ হোসেন মেম্বারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সমাবেশে দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বাবুল বলেন, মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে সফল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদকের চাহিদা তৈরির কারণগুলো চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় সামাজিক উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।
তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি জনসচেতনতা এবং সামাজিক সম্পৃক্ততাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। মাদকমুক্ত দেবিদ্বার গড়ে তুলতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সর্বস্তরের জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
বক্তারা আরও বলেন, মাদক প্রতিরোধে পরিবারকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ ও মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে আরও সক্রিয় হতে হবে। কোনো এলাকায় মাদক ব্যবসা বা মাদক সরবরাহের তথ্য পাওয়া গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তা জানানোর আহ্বানও জানানো হয়।
কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে উপস্থিত সবাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বক্তারা মাদকের বিস্তার রোধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 






















