ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

আগামী ইউপি নির্বাচনে কেমন চেয়ারম্যান চান লোহাগাড়ার মানুষ?

মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম

আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তৎপরতা ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের কর্মকাণ্ড তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকে।

নির্বাচনের সম্ভাব্য পরিবেশ তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মধ্যেও শুরু হয়েছে আলোচনা—আগামী দিনে তারা কেমন চেয়ারম্যান চান?

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুধু নির্বাচনের সময় মানুষের পাশে থাকা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানো নয়, জনগণ চান এমন একজন চেয়ারম্যান, যিনি নির্বাচিত হওয়ার পরও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন এবং ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, চেয়ারম্যান হতে হবে সৎ, দায়িত্বশীল, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক মানসিকতার। দল-মত কিংবা ব্যক্তিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা শোনার মানসিকতা থাকতে হবে।

তাদের মতে, ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাট, কালভার্ট, ড্রেনেজ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিশুদ্ধ পানি ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো মৌলিক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে স্বচ্ছতার সঙ্গে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যাশাও রয়েছে।

তরুণদের প্রত্যাশা, চেয়ারম্যান শুধু উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেন না; মাদকবিরোধী কার্যক্রম, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং তরুণদের সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেবেন।

নারীদের প্রত্যাশা, নারীর নিরাপত্তা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে চেয়ারম্যানকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রবীণদের প্রত্যাশা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্থানীয় বিরোধ ও সালিশ-বিচারে চেয়ারম্যানকে হতে হবে ন্যায়পরায়ণ ও নিরপেক্ষ। কোনো পক্ষের প্রভাব কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্ক যেন বিচারিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত না করে, সেটিও তারা চান।

তবে মানুষের কথায় সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি উঠে এসেছে তা হলো চেয়ারম্যানের পদকে ক্ষমতা প্রদর্শনের জায়গা নয়, জনসেবার দায়িত্ব হিসেবে দেখতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার, ব্যানার-পোস্টার কিংবা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে জনগণ এখন প্রার্থীদের কাছে জানতে চায় নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের জন্য তাদের বাস্তব পরিকল্পনা কী? কীভাবে সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করবেন? কীভাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখবেন?

শেষ পর্যন্ত জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। তাই সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতার পাশাপাশি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে জনগণের প্রত্যাশা ও প্রার্থীদের বাস্তব কর্মপরিকল্পনার মিল।

লোহাগাড়ার মানুষের প্রত্যাশা যেন এক জায়গাতেই মিলছে চেয়ারম্যান এমন একজন হোন, যিনি ভোটের আগে জনগণের কাছে আসবেন, আর ভোটের পরও জনগণের পাশেই থাকবেন।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
11 October 2026

সৌদি আরবে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় কটিয়াদীর প্রবাসী ফয়সালের মৃত্যু

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

আগামী ইউপি নির্বাচনে কেমন চেয়ারম্যান চান লোহাগাড়ার মানুষ?

সর্বশেষ পরিমার্জন : ১০:৩৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম

আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তৎপরতা ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের কর্মকাণ্ড তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকে।

নির্বাচনের সম্ভাব্য পরিবেশ তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মধ্যেও শুরু হয়েছে আলোচনা—আগামী দিনে তারা কেমন চেয়ারম্যান চান?

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুধু নির্বাচনের সময় মানুষের পাশে থাকা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানো নয়, জনগণ চান এমন একজন চেয়ারম্যান, যিনি নির্বাচিত হওয়ার পরও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন এবং ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, চেয়ারম্যান হতে হবে সৎ, দায়িত্বশীল, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক মানসিকতার। দল-মত কিংবা ব্যক্তিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা শোনার মানসিকতা থাকতে হবে।

তাদের মতে, ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাট, কালভার্ট, ড্রেনেজ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিশুদ্ধ পানি ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো মৌলিক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে স্বচ্ছতার সঙ্গে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যাশাও রয়েছে।

তরুণদের প্রত্যাশা, চেয়ারম্যান শুধু উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেন না; মাদকবিরোধী কার্যক্রম, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং তরুণদের সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেবেন।

নারীদের প্রত্যাশা, নারীর নিরাপত্তা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে চেয়ারম্যানকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রবীণদের প্রত্যাশা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্থানীয় বিরোধ ও সালিশ-বিচারে চেয়ারম্যানকে হতে হবে ন্যায়পরায়ণ ও নিরপেক্ষ। কোনো পক্ষের প্রভাব কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্ক যেন বিচারিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত না করে, সেটিও তারা চান।

তবে মানুষের কথায় সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি উঠে এসেছে তা হলো চেয়ারম্যানের পদকে ক্ষমতা প্রদর্শনের জায়গা নয়, জনসেবার দায়িত্ব হিসেবে দেখতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার, ব্যানার-পোস্টার কিংবা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে জনগণ এখন প্রার্থীদের কাছে জানতে চায় নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের জন্য তাদের বাস্তব পরিকল্পনা কী? কীভাবে সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করবেন? কীভাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখবেন?

শেষ পর্যন্ত জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। তাই সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতার পাশাপাশি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে জনগণের প্রত্যাশা ও প্রার্থীদের বাস্তব কর্মপরিকল্পনার মিল।

লোহাগাড়ার মানুষের প্রত্যাশা যেন এক জায়গাতেই মিলছে চেয়ারম্যান এমন একজন হোন, যিনি ভোটের আগে জনগণের কাছে আসবেন, আর ভোটের পরও জনগণের পাশেই থাকবেন।

Share this news as a Photo Card