
রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী: রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশে অবস্থিত ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান প্রবেশপথ আটকে দোকান ঘর নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। সরকারি জায়গায় অবৈধ দখল ও যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্বাস্থ্য কেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
সরজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মূল প্রবেশ গেটটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার সুযোগে বসন্তপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক হাসান মিরল জায়গাটি নিজের দাবি করে সেখানে স্থায়ী দোকান ঘর তুলছেন।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, একই দাগে জেলা পরিষদের জায়গার ওপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস নির্মাণ করেছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতিসহ কয়েকজন নেতা। তবে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পার্টি অফিসের সাইনবোর্ড সরিয়ে সেটিও এখন দোকান ঘর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
হাসপাতালের কোয়ার্টারে বসবাসকারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালীরা সরকারি হাসপাতালের ঢোকার মুখ বন্ধ করে দোকান তুলছে, যা পুরোপুরি বেআইনি ও জনভোগান্তি সৃষ্টিকারী। স্থানীয়দের দাবি, অতি দ্রুত এই অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে রোগীদের যাতায়াতের পথ সুগম করতে হবে।
তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ফারুক হাসান মিরল দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগে আমার কেনা সম্পত্তির ওপর অবৈধভাবে গেট তৈরি করেছিল। তাছাড়া মূল গেট যেখানে হওয়ার কথা ছিল, সেখানে আওয়ামী লীগ নেতারা দখল করে পার্টি অফিস বানায়। আমি আমার ন্যায্য পাওনার বিষয়ে সরকারি বিভিন্ন দফতরে চিঠি দিয়ে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে নিজের জায়গা বুঝে নিয়ে ঘর তুলছি।”
অন্যদিকে ফারুকের এই দাবি পুরোপুরি নস্যাৎ করে বসন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরদার জানান, “হাসপাতালের গেটের জায়গা দখল করেই ফারুক দোকান তুলছে। ইউপি থেকে নিষেধ করা হলেও সে তা শুনছে না। প্রকৃতপক্ষে ওখানে ওর কোনো নিজস্ব জমিই নেই।”
বিষয়টি নিয়ে রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ ফয়জুর রহমান জানান, “জায়গাটি মূলত স্বাস্থ্য বিভাগের। আমরা দ্রুত স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে কথা বলে এবং ভূমির কাগজপত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
রাজবাড়ী জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ জামান বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা পুরোপুরি অবগত আছি। হাসপাতালের সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও প্রবেশপথ দখলমুক্ত করতে আমাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী 










