ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
তাজা খবর
কবি সাংবাদিক মৃণাল চৌধুরী সৈকতের শোকাহত পরিবার পরিজনের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন বিশিষ্ট জনের
কক্সবাজারে গহীন বনে ‘রহস্যময় ঘর’ ঘিরে চাঞ্চল্য
কিশোর গ্যাং সৃষ্টি মাদকেই
“কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন
উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ১৪৪ তম খুলনা দিবস!
চট্রগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হোমনার বাঘা শরীফ
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
ঐতিহাসিক মাদারীপুর মুক্ত দিবস

গাউছ-উর রহমান, মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০১:৩৯:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৩০ বার পঠিত

১০ ডিসেম্বর, ঐতিহাসিক মাদারীপুর মুক্ত দিবস। মাদারীপুরের সমাদ্দার এলাকায় পাকবাহিনীর সঙ্গে টানা ৩ দিন ২ রাতের রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধে এদিন মুক্ত হয় জেলা। হাজারো মুক্তিকামী মানুষ বিজয়ের স্লোগানে রাস্তায় নেমে আনন্দ-উল্লাসে ফেটে পড়ে। এই যুদ্ধে শহীদ হন জেলার সর্বকনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা সরোয়ার হোসেন বাচ্চু।
জেলার সদর, শিবচর, রাজৈর ও কালকিনিতে অসংখ্য গণহত্যা চালিয়েছে পাকবাহিনী এবং তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলসামসরা। পরবর্তীতে এসব গণকবর চিহ্নিত করে বিভিন্ন স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, মাদারীপুরে আলমগীর হোসাইন, স্টুয়ার্ট মুজিব ও খলিলুর রহমান খান ভারতের অম্বিকাপুর থেকে প্রশিক্ষণ শেষে পুলিশ, কৃষক, ছাত্রসহ সর্বস্তরের জনতা এক হয়ে মুক্তিবাহিনী গড়ে তোলেন। শুরু হয় পাকবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদরের সঙ্গে যুদ্ধ। পাকবাহিনী ও তাদের দোসরদের তান্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়ে নিরীহ মানুষ। বীর মুক্তিযোদ্ধারাও মারমুখী অবস্থান নেন।
নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই মুক্তিযোদ্ধাদের একের পর এক আক্রমণে হানাদার বাহিনী দিশেহারা হয়ে পড়ে। একে একে এলাকা ছাড়া হয়ে হানাদার ও তাদের দোসররা একীভূত হয় জেলা শহরের এ আর হাওলাদার জুট মিলের ক্যাম্পে। মুক্তিযোদ্ধারা ৮ ডিসেম্বর সারারাত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সমাদ্দার ব্রিজের চতুর্দিকে অবস্থান নেয়। ব্রিজটি জেড ফোর্সের মুক্তিযোদ্ধারা আগেই মাইন দিয়ে উড়িয়ে দেয়ায় শত্রুবাহিনী গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেটে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ এলাকা পার হচ্ছিল। তখনই খলিল বাহিনী প্রধান খলিলুর রহমান খানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা চতুর্মুখী আক্রমণ করে। তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়।
একটানা ৩ দিন ২ রাতের যুদ্ধে গ্রামবাসীও এগিয়ে আসে। ১০ ডিসেম্বর বিজয়ের আগ মুহূর্তে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা সরোয়ার হোসেন বাচ্চু শহীদ হন এবং গুরুতর আহত হন আখতারুজ্জামানসহ অনেকে। এই যুদ্ধে ৪০ জন পাক সেনা নিহত হয়। সন্ধ্যায় মেজর খট্টকের নেতৃত্বে ৩৯ জন পাকসেনা ও ১৫ জন রাজাকার আত্মসমর্পণ করে।
আত্মসমর্পণের পর বীর মুক্তিযোদ্ধারা আত্মসমর্পণকারীদের অস্ত্রশস্ত্র কভার করে সারা রাত সমাদ্দার ব্রিজে অবরোধ করে রাখেন। পরদিন ১১ ডিসেম্বর সকালে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় কলাগাছিয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে। ১২ ডিসেম্বর তাদের মাদারীপুরে এনে সাব-জেলে বন্দি করে রাখা হয়। শত্রুমুক্ত হয় মাদারীপুর।
আরও পড়ুন:




















