ঢাকা, বাংলাদেশ। , মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত দেখা হলোনা বাবা-কন্যার,সড়কে ঝরলো প্রাণ

শ.ম.গফুর
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৮:০৯:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ৫৫ বার পঠিত
ঢাকার উত্তরা থেকে গন্তব্য কক্সবাজার। উদ্দেশ্য সমুদ্রসৈকত দর্শন।কিন্তু ভাগ্যের বিধিবাম।যাত্রার মাঝপথেই ছিটকে পড়লো বাবা-মেয়ের প্রাণ।ফলে
সমুদ্র দেখা হলো না বাবা-মেয়ের।
ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কের মীরসরাই উপজেলার ঠাকুরদিঘী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয় আরও চার জন। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- মোহাম্মদ গোলাম সরোয়ার (৪০) ও তার মেয়ে মুসকান (৩)।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঠাকুরদিঘী এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা চট্টগ্রামমুখী লেনে কাভার্ডভ্যানকে ঢাকার উত্তরা থেকে আসা একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দিলে প্রাইভেটকারটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত গোলাম সরোয়ার পরিবার নিয়ে ঢাকার উত্তরা থেকে কক্সবাজার বেড়াতে যাচ্ছিলেন।এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর বোরহান উদ্দিন বলেন, সকালে ঠাকুরদিঘী এলাকায় দ্রুতগামী একটি প্রাইভেটকার সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ডভ্যানেকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে বাবা-মেয়ে মারা যান। মরদেহ জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানা হেফাজতে রয়েছে।তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় গোলাম সারোয়ারের স্ত্রী ও ছেলে সামান্য আহত হয়েছেন। তারা এখন মোটামুটি সুস্থ আছেন। অপর দুজনকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কক্সবাজারে সড়কের জায়গা দখলদারের
পেটে!
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত উপজেলা উখিয়ার আরাকান সড়কে এখন অবৈধ পার্কিং ও ঝুপড়ি দোকান। উপজেলার কোটবাজার ও কুতুপালং এলাকায় সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ পার্কিং ও স্থাপনা, যার ফলে দুই মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় কাটছে ঘণ্টারও বেশি।যানজট ও বিশৃঙ্খলায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়োজিত শতশত যানবাহন, ভিআইপিদের চলাচল, রোগী বহনকারী যানবাহন, স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব অবৈধ বাজার ও পার্কিং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসলেও নিরসনে  স্থানীয় প্রশাসনের কোন মাথা ব্যথা নেই বললে চলে।এতে জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছেই।
 দেখা যায়, কোটবাজারে সড়কের পূর্ব পাশে সারি সারি করে পার্ক করা হয়েছে সিএনজি, অটোরিকশা, ইজিবাইক ও ছোট যানবাহন। আর সড়কের পশ্চিম পাশে গড়ে তোলা হয়েছে ঝুপড়ি দোকান। একই অবস্থা কুতুপালং বাজারেও। ফলে এসব বাজার এলাকাগুলোতে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।শুধু তাই নয়, মরিচ্যা বাজার, বালুখালী, থাইংখালী ও পালংখালী বাজারেও চিত্র প্রায় একই। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্রের দখল দাপট আর প্রশাসনের নীরবতায় প্রতিনিয়ত এ সড়ক দখল করে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি করছে একটি সিন্ডিকেট।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক ১০০ থেকে ২০০ টাকা এবং প্রতিটি গাড়ি পার্কিং থেকে ২০ থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। এসব অর্থ দিয়ে প্রশাসনের একাংশকে ‘ম্যানেজ’ করে দখল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে তারা।
সবচেয়ে হতাশার বিষয় হলো, এসব অবৈধ দখলের ঘটনা চোখের সামনে ঘটলেও তা দেখেও না দেখার ভান করছেন ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষ করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতিদিন কোটবাজার হয়ে অফিসে যাতায়াত করেন। কিন্তু এসি গাড়ির ভেতর থেকে তিনি এসব দুর্ভোগ উপলব্ধি করছেন না বলে স্থানীয়দের দাবি।কোটবাজার এলাকার আজিজ নামের এক পথচারী বলেন, বাজারে একটু যাওয়া মানেই ঘণ্টা জ্যামে বসে থাকা। জরুরি রোগী নিয়েও অনেক সময় বিপাকে পড়েছি। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের একপাশে সিএনজি, অন্য পাশে ঝুপড়ি দোকান সব মিলিয়ে সড়কের অবস্থা একেবারে নাজুক।রত্নাপালং উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানায়, আমার প্রতিদিন স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যায়। বাড়ি থেকে যেখানে ৫ মিনিট লাগে, সেখানে কোটবাজারের জ্যামের জন্য ঘণ্টা সময় হাতে নিয়ে বের হতে হয়। সকালে রাস্তায় গাড়ি একেবারে নড়ে না। এসব দেখভালের দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশ থাকা না থাকার সমান।
কুতুপালং বাজার এলাকার ফজল নামের এক এনজিও চাকরীজিবীবলেন, সকালে অফিসে যাওয়ার সময় প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় হাতে নিয়ে বের হতে হয়। কারণ, কুতুপালং বাজারে জ্যামে অফিস সময় কেটে যায়। এই বাজারের রাস্তা এখন ব্যবসায়ী ও পার্কিংয়ের দখলে। আমরা আর চলতে পারি না।কোটবাজার সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারী এক দোকানদার বলেন, আমরা এই দোকান করি অতিরিক্ত টাকা দিয়ে। আমরা কেন সড়ক দখল করব? আমরা টাকার বিনিময়ে এখানে বাজার বসিয়েছি। প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা করে প্রতি দোকান থেকে সংগ্রহ করে এক ভাই। টাকা দিয়ে নিরাপদে ব্যবসা করছি৷
গাড়ি পার্কিংয়ের দায়িত্বে থাকা এক লাইনম্যান জানান, এই পার্কিংয়ের বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আমাদের দিতে হয়। কারা নেয়, আমরা জানি না। আমরা শুধু নির্দেশ পালন করি। টাকা না দিলে পার্কিং করতে দেয় না৷ আমাদের পার্কিং বন্ধ করতে হলে নিরাপদ পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক৷কোটবাজার বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি খুরশেদ বাবুল বলেন, আমরা চাই অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদ হোক। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রতিদিন সকাল-বিকেল জ্যাম থাকলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এগুলো স্থায়ীভাবে রোধ করতে হলে রোড ডিভাইডার বসাতে হবে। অন্যথায় জ্যাম লেগেই থাকবে৷কোটবাজার ট্রাফিক সার্জন মনজুর’কে যানজটের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেন, সেনসিটিভ কিছু বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেছেন, সেগুলোর উত্তর আমার কাছে নেই। তারপরও জনবল সংকট আমাদের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আর বড় ইস্যুগুলো নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। তারপরও যানজট নিরসনে আমরা কাজ করছি।
শাহপুরী হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, কুতুপালং এলাকায় আগের তুলনায় যানজট একটু কমেছে। কোটবাজার যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে। আমরা নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করি। তবে প্রশাসনের সমন্বয় ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে আমরা শীঘ্রই যৌথ অভিযান পরিচালনা করব। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সড়ক দখল করে অবৈধ ঝুপড়ি দোকান ও পার্কিং উচ্ছেদের জন্য ইতিমধ্যে কাজ চলছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত দেখা হলোনা বাবা-কন্যার,সড়কে ঝরলো প্রাণ

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৮:০৯:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ঢাকার উত্তরা থেকে গন্তব্য কক্সবাজার। উদ্দেশ্য সমুদ্রসৈকত দর্শন।কিন্তু ভাগ্যের বিধিবাম।যাত্রার মাঝপথেই ছিটকে পড়লো বাবা-মেয়ের প্রাণ।ফলে
সমুদ্র দেখা হলো না বাবা-মেয়ের।
ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কের মীরসরাই উপজেলার ঠাকুরদিঘী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয় আরও চার জন। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- মোহাম্মদ গোলাম সরোয়ার (৪০) ও তার মেয়ে মুসকান (৩)।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঠাকুরদিঘী এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা চট্টগ্রামমুখী লেনে কাভার্ডভ্যানকে ঢাকার উত্তরা থেকে আসা একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দিলে প্রাইভেটকারটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত গোলাম সরোয়ার পরিবার নিয়ে ঢাকার উত্তরা থেকে কক্সবাজার বেড়াতে যাচ্ছিলেন।এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর বোরহান উদ্দিন বলেন, সকালে ঠাকুরদিঘী এলাকায় দ্রুতগামী একটি প্রাইভেটকার সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ডভ্যানেকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে বাবা-মেয়ে মারা যান। মরদেহ জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানা হেফাজতে রয়েছে।তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় গোলাম সারোয়ারের স্ত্রী ও ছেলে সামান্য আহত হয়েছেন। তারা এখন মোটামুটি সুস্থ আছেন। অপর দুজনকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কক্সবাজারে সড়কের জায়গা দখলদারের
পেটে!
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত উপজেলা উখিয়ার আরাকান সড়কে এখন অবৈধ পার্কিং ও ঝুপড়ি দোকান। উপজেলার কোটবাজার ও কুতুপালং এলাকায় সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ পার্কিং ও স্থাপনা, যার ফলে দুই মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় কাটছে ঘণ্টারও বেশি।যানজট ও বিশৃঙ্খলায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়োজিত শতশত যানবাহন, ভিআইপিদের চলাচল, রোগী বহনকারী যানবাহন, স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব অবৈধ বাজার ও পার্কিং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসলেও নিরসনে  স্থানীয় প্রশাসনের কোন মাথা ব্যথা নেই বললে চলে।এতে জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছেই।
 দেখা যায়, কোটবাজারে সড়কের পূর্ব পাশে সারি সারি করে পার্ক করা হয়েছে সিএনজি, অটোরিকশা, ইজিবাইক ও ছোট যানবাহন। আর সড়কের পশ্চিম পাশে গড়ে তোলা হয়েছে ঝুপড়ি দোকান। একই অবস্থা কুতুপালং বাজারেও। ফলে এসব বাজার এলাকাগুলোতে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।শুধু তাই নয়, মরিচ্যা বাজার, বালুখালী, থাইংখালী ও পালংখালী বাজারেও চিত্র প্রায় একই। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্রের দখল দাপট আর প্রশাসনের নীরবতায় প্রতিনিয়ত এ সড়ক দখল করে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি করছে একটি সিন্ডিকেট।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক ১০০ থেকে ২০০ টাকা এবং প্রতিটি গাড়ি পার্কিং থেকে ২০ থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। এসব অর্থ দিয়ে প্রশাসনের একাংশকে ‘ম্যানেজ’ করে দখল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে তারা।
সবচেয়ে হতাশার বিষয় হলো, এসব অবৈধ দখলের ঘটনা চোখের সামনে ঘটলেও তা দেখেও না দেখার ভান করছেন ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষ করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতিদিন কোটবাজার হয়ে অফিসে যাতায়াত করেন। কিন্তু এসি গাড়ির ভেতর থেকে তিনি এসব দুর্ভোগ উপলব্ধি করছেন না বলে স্থানীয়দের দাবি।কোটবাজার এলাকার আজিজ নামের এক পথচারী বলেন, বাজারে একটু যাওয়া মানেই ঘণ্টা জ্যামে বসে থাকা। জরুরি রোগী নিয়েও অনেক সময় বিপাকে পড়েছি। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের একপাশে সিএনজি, অন্য পাশে ঝুপড়ি দোকান সব মিলিয়ে সড়কের অবস্থা একেবারে নাজুক।রত্নাপালং উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানায়, আমার প্রতিদিন স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যায়। বাড়ি থেকে যেখানে ৫ মিনিট লাগে, সেখানে কোটবাজারের জ্যামের জন্য ঘণ্টা সময় হাতে নিয়ে বের হতে হয়। সকালে রাস্তায় গাড়ি একেবারে নড়ে না। এসব দেখভালের দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশ থাকা না থাকার সমান।
কুতুপালং বাজার এলাকার ফজল নামের এক এনজিও চাকরীজিবীবলেন, সকালে অফিসে যাওয়ার সময় প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় হাতে নিয়ে বের হতে হয়। কারণ, কুতুপালং বাজারে জ্যামে অফিস সময় কেটে যায়। এই বাজারের রাস্তা এখন ব্যবসায়ী ও পার্কিংয়ের দখলে। আমরা আর চলতে পারি না।কোটবাজার সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারী এক দোকানদার বলেন, আমরা এই দোকান করি অতিরিক্ত টাকা দিয়ে। আমরা কেন সড়ক দখল করব? আমরা টাকার বিনিময়ে এখানে বাজার বসিয়েছি। প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা করে প্রতি দোকান থেকে সংগ্রহ করে এক ভাই। টাকা দিয়ে নিরাপদে ব্যবসা করছি৷
গাড়ি পার্কিংয়ের দায়িত্বে থাকা এক লাইনম্যান জানান, এই পার্কিংয়ের বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আমাদের দিতে হয়। কারা নেয়, আমরা জানি না। আমরা শুধু নির্দেশ পালন করি। টাকা না দিলে পার্কিং করতে দেয় না৷ আমাদের পার্কিং বন্ধ করতে হলে নিরাপদ পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক৷কোটবাজার বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি খুরশেদ বাবুল বলেন, আমরা চাই অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদ হোক। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রতিদিন সকাল-বিকেল জ্যাম থাকলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এগুলো স্থায়ীভাবে রোধ করতে হলে রোড ডিভাইডার বসাতে হবে। অন্যথায় জ্যাম লেগেই থাকবে৷কোটবাজার ট্রাফিক সার্জন মনজুর’কে যানজটের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেন, সেনসিটিভ কিছু বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেছেন, সেগুলোর উত্তর আমার কাছে নেই। তারপরও জনবল সংকট আমাদের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আর বড় ইস্যুগুলো নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। তারপরও যানজট নিরসনে আমরা কাজ করছি।
শাহপুরী হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, কুতুপালং এলাকায় আগের তুলনায় যানজট একটু কমেছে। কোটবাজার যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে। আমরা নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করি। তবে প্রশাসনের সমন্বয় ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে আমরা শীঘ্রই যৌথ অভিযান পরিচালনা করব। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সড়ক দখল করে অবৈধ ঝুপড়ি দোকান ও পার্কিং উচ্ছেদের জন্য ইতিমধ্যে কাজ চলছে।