ঢাকা, বাংলাদেশ। , শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

কাউয়াদিঘি হাওরের ধানকাটা ও কালবৈশাখীতে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

সঞ্জয় মালাকার
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:৩২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৭ বার পঠিত

সঞ্জয় মালাকার:   মৌলভীবাজারের কাউয়াদিঘি হাওর এলাকায় বোরো ধান কাটার মহোৎসব শুরু হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় কৃষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহের বর্তমান পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো:

​কাউয়াদিঘি হাওরের বর্তমান ধান কাটা পরিস্থিতি

  • পুরোদমে চলছে কর্তন: কাউয়াদিঘি হাওর সংলগ্ন রাজনগর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন বিলে বোরো ধান কাটার কাজ এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে আগাম জাতের ধান (যেমন- বিআরআই-২৮ ও বিআরআই-৯৬) কাটার কাজ শেষের দিকে।
  • ফলন: এ বছর এখন পর্যন্ত ধানের ফলন বেশ আশাব্যঞ্জক। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে এবং বিঘা প্রতি ফলনও গত বছরের তুলনায় ভালো।
  • যন্ত্রের ব্যবহার: শ্রমিক সংকটের কথা মাথায় রেখে এবারও কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহার করে দ্রুত ধান কাটার চেষ্টা করছেন বড় কৃষকরা। তবে অনেক জায়গায় ডিজেল সরবরাহ ও তেলের দাম নিয়ে কৃষকদের কিছুটা উদ্বেগের খবর পাওয়া গেছে।

​কালবৈশাখী ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

  • ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস: আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এপ্রিলের শেষ কয়েক দিন ও মে মাসের শুরুতে সিলেট বিভাগে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ২৫ এপ্রিলের পর থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।
  • বজ্রপাতের ঝুঁকি: সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হাওর অঞ্চলে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। কাউয়াদিঘি হাওরের বিস্তৃত খোলা প্রান্তরে কৃষকদের জন্য বজ্রপাত একটি বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
  • শিলাবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল: যদিও এখন পর্যন্ত বড় কোনো পাহাড়ি ঢল বা আগাম বন্যার সতর্কবার্তা নেই, তবে কালবৈশাখীর সাথে শিলাবৃষ্টি হলে আধাপাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। এতে ধানের ছড়া ঝরে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

​কৃষকদের জন্য পরামর্শ

​১. দ্রুত ধান কাটা: কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী, ধানের ৮০ শতাংশ পেকে গেলে দেরি না করে দ্রুত কেটে ঘরে তোলা উচিত।

২. আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ: কাজ শুরুর আগে প্রতিদিনের স্থানীয় আবহাওয়ার আপডেটের দিকে নজর রাখা জরুরি।

৩. সুরক্ষিত স্থান: কালবৈশাখী ঝড় বা ঘন কালো মেঘ দেখা দিলে মাঠের খোলা জায়গায় না থেকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে বা বাড়িতে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

​কাউয়াদিঘি হাওরের নিচু এলাকার ধানগুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নিরাপদে গোলায় তুলতে পারলে বড় ধরনের আর্থিক লোকসান থেকে রক্ষা পাবেন স্থানীয় কৃষকরা।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

কাউয়াদিঘি হাওরের ধানকাটা ও কালবৈশাখীতে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:৩২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

সঞ্জয় মালাকার:   মৌলভীবাজারের কাউয়াদিঘি হাওর এলাকায় বোরো ধান কাটার মহোৎসব শুরু হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় কৃষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহের বর্তমান পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো:

​কাউয়াদিঘি হাওরের বর্তমান ধান কাটা পরিস্থিতি

  • পুরোদমে চলছে কর্তন: কাউয়াদিঘি হাওর সংলগ্ন রাজনগর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন বিলে বোরো ধান কাটার কাজ এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে আগাম জাতের ধান (যেমন- বিআরআই-২৮ ও বিআরআই-৯৬) কাটার কাজ শেষের দিকে।
  • ফলন: এ বছর এখন পর্যন্ত ধানের ফলন বেশ আশাব্যঞ্জক। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে এবং বিঘা প্রতি ফলনও গত বছরের তুলনায় ভালো।
  • যন্ত্রের ব্যবহার: শ্রমিক সংকটের কথা মাথায় রেখে এবারও কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহার করে দ্রুত ধান কাটার চেষ্টা করছেন বড় কৃষকরা। তবে অনেক জায়গায় ডিজেল সরবরাহ ও তেলের দাম নিয়ে কৃষকদের কিছুটা উদ্বেগের খবর পাওয়া গেছে।

​কালবৈশাখী ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

  • ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস: আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এপ্রিলের শেষ কয়েক দিন ও মে মাসের শুরুতে সিলেট বিভাগে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ২৫ এপ্রিলের পর থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।
  • বজ্রপাতের ঝুঁকি: সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হাওর অঞ্চলে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। কাউয়াদিঘি হাওরের বিস্তৃত খোলা প্রান্তরে কৃষকদের জন্য বজ্রপাত একটি বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
  • শিলাবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল: যদিও এখন পর্যন্ত বড় কোনো পাহাড়ি ঢল বা আগাম বন্যার সতর্কবার্তা নেই, তবে কালবৈশাখীর সাথে শিলাবৃষ্টি হলে আধাপাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। এতে ধানের ছড়া ঝরে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

​কৃষকদের জন্য পরামর্শ

​১. দ্রুত ধান কাটা: কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী, ধানের ৮০ শতাংশ পেকে গেলে দেরি না করে দ্রুত কেটে ঘরে তোলা উচিত।

২. আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ: কাজ শুরুর আগে প্রতিদিনের স্থানীয় আবহাওয়ার আপডেটের দিকে নজর রাখা জরুরি।

৩. সুরক্ষিত স্থান: কালবৈশাখী ঝড় বা ঘন কালো মেঘ দেখা দিলে মাঠের খোলা জায়গায় না থেকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে বা বাড়িতে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

​কাউয়াদিঘি হাওরের নিচু এলাকার ধানগুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নিরাপদে গোলায় তুলতে পারলে বড় ধরনের আর্থিক লোকসান থেকে রক্ষা পাবেন স্থানীয় কৃষকরা।