ঢাকা, বাংলাদেশ। , সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

কুবির বিজয় -২৪ হলে জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান

সাব্বির হোসেন, কুবি প্রতিনিধি: 
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:৩৩:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
  • / ৭৭ বার পঠিত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিজয়-২৪ হলের উদ্যোগে “স্মৃতিতে জুলাই” শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ জুলাই (বুধবার) বিকেলে হলের নিচতলায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ২০১১ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত, আহতদের সুস্থতা এবং ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। একইসঙ্গে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া আহত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম। আরও উপস্থিত ছিলেন হলের হাউস টিউটর মো. হাসান শাহরিয়ার এবং মো. গোলাম মাহমুদ পাবেল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন রাকিন খান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আন্দোলনের পটভূমি, তাৎপর্য এবং এর থেকে অর্জিত শিক্ষা তুলে ধরেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘দৈনিক সংবাদ’ পত্রিকার প্রতিনিধি চৌধুরী মাছাবিহ্ বলেন,“জুলাই আমাদের জন্য ট্রাজেডির মাস। ১১ জুলাই কুবির শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়েছিল রাজধানী। শাহবাগে সে সময় স্লোগান উঠেছিল— ‘কুবি হামলার জবাব চাই’। এসব মুহূর্ত কখনো ভোলার নয়।”

সভাপতির বক্তব্যে ড. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সূচনালগ্ন থেকেই আমি, মুতাসিম বিল্লাহ স্যার ও পাবেল স্যার সক্রিয়ভাবে কাজ করেছি। বাধার মুখেও আমরা পিছু হটিনি। আমি চেয়েছিলাম সম্মুখসারির যোদ্ধাদের সম্মান জানাতে। যদিও সবাইকে সম্মান জানানো সম্ভব হয়নি, শহিদদের ত্যাগ এবং নারী যোদ্ধাদের অবদান চিরস্মরণীয়। এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো আত্মতৃপ্তি, যা আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন,“জুলাই আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, র‌্যাগিং ও মাদকমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা। কিন্তু আমরা কি সত্যিই তা অর্জন করতে পেরেছি? আজও যদি কোনো শিক্ষার্থী বাজে অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে যায়, তবে আমাদের আত্মজিজ্ঞাসা করা উচিত— আমাদের ব্যর্থতা কোথায়?”

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন,“এই আন্দোলনে শ্রেণিভেদ না করে সকলেই অংশ নিয়েছেন। শিক্ষকরা অনেক বড় ভূমিকা রেখেছেন। যদিও শুরুতে সরাসরি জড়িত হলে রাজনৈতিক ট্যাগ জুটতো, পরবর্তীতে সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ আন্দোলনকে সফলতা এনে দেয়।”

অনুষ্ঠানজুড়ে শ্রদ্ধা, আত্মসমালোচনা ও শিক্ষণীয় বার্তায় উদ্ভাসিত ছিল “স্মৃতিতে জুলাই”। উপস্থিত শিক্ষার্থীরা এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে এমন উদ্যোগ আরও সম্প্রসারিত হোক— এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

কুবির বিজয় -২৪ হলে জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:৩৩:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিজয়-২৪ হলের উদ্যোগে “স্মৃতিতে জুলাই” শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ জুলাই (বুধবার) বিকেলে হলের নিচতলায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ২০১১ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত, আহতদের সুস্থতা এবং ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। একইসঙ্গে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া আহত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম। আরও উপস্থিত ছিলেন হলের হাউস টিউটর মো. হাসান শাহরিয়ার এবং মো. গোলাম মাহমুদ পাবেল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন রাকিন খান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আন্দোলনের পটভূমি, তাৎপর্য এবং এর থেকে অর্জিত শিক্ষা তুলে ধরেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘দৈনিক সংবাদ’ পত্রিকার প্রতিনিধি চৌধুরী মাছাবিহ্ বলেন,“জুলাই আমাদের জন্য ট্রাজেডির মাস। ১১ জুলাই কুবির শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়েছিল রাজধানী। শাহবাগে সে সময় স্লোগান উঠেছিল— ‘কুবি হামলার জবাব চাই’। এসব মুহূর্ত কখনো ভোলার নয়।”

সভাপতির বক্তব্যে ড. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সূচনালগ্ন থেকেই আমি, মুতাসিম বিল্লাহ স্যার ও পাবেল স্যার সক্রিয়ভাবে কাজ করেছি। বাধার মুখেও আমরা পিছু হটিনি। আমি চেয়েছিলাম সম্মুখসারির যোদ্ধাদের সম্মান জানাতে। যদিও সবাইকে সম্মান জানানো সম্ভব হয়নি, শহিদদের ত্যাগ এবং নারী যোদ্ধাদের অবদান চিরস্মরণীয়। এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো আত্মতৃপ্তি, যা আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন,“জুলাই আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, র‌্যাগিং ও মাদকমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা। কিন্তু আমরা কি সত্যিই তা অর্জন করতে পেরেছি? আজও যদি কোনো শিক্ষার্থী বাজে অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে যায়, তবে আমাদের আত্মজিজ্ঞাসা করা উচিত— আমাদের ব্যর্থতা কোথায়?”

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন,“এই আন্দোলনে শ্রেণিভেদ না করে সকলেই অংশ নিয়েছেন। শিক্ষকরা অনেক বড় ভূমিকা রেখেছেন। যদিও শুরুতে সরাসরি জড়িত হলে রাজনৈতিক ট্যাগ জুটতো, পরবর্তীতে সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ আন্দোলনকে সফলতা এনে দেয়।”

অনুষ্ঠানজুড়ে শ্রদ্ধা, আত্মসমালোচনা ও শিক্ষণীয় বার্তায় উদ্ভাসিত ছিল “স্মৃতিতে জুলাই”। উপস্থিত শিক্ষার্থীরা এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে এমন উদ্যোগ আরও সম্প্রসারিত হোক— এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।