ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

কু-প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় তরুণীর গোসলের গোপন ভিডিও ধারণ ॥ থানায় অভিযোগ

মোঃ মাসুদ রেজা, সিরাজগঞ্জ
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৮:১৪:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৭৭ বার পঠিত

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"square_fit":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

সিরাজগঞ্জ শহরে এক তরুণীর গোসলের সময় গোপনে ভিডিও ধারণের চেষ্টার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার অভিযোগে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা শুধু আইনগত ব্যবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে, এই ধরনের সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার দুঃসাহস না দেখায়। ঘটনাটি গত ৯ আগস্ট, শুক্রবার বিকেল সারে ৫টার দিকে সিরাজগঞ্জ সদর পৌরসভার সয়াগোবিন্দ প্রামানিকপাড়া এলাকায় ঘটে। ভুক্তভোগী তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এলাকার মৃত মলিন খানের ছেলে মো. আওয়াল খান প্রেম (৩৫) বেশ কিছুদিন ধরেই ভুক্তভোগী তরুণীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তিনি তরুণীর পিছু নিয়ে তাকে কু-প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। তরুণী তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়, আওয়াল খান হুমকি দিয়ে বলেন, তিনি এমন কিছু করবেন যাতে তরুণী নিজেই তার কাছে যেতে বাধ্য হন।

এই হুমকির রেশ ধরেই গত ৯ আগস্ট বিকেলে ওই তরুণী যখন নিজ বাড়ির গোসলখানায় গোসল করছিলেন, তখন তিনি উপরের দিকে তাকাতেই এক ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। পাশের ঘর থেকে দেয়ালের উপর দিয়ে একটি মোবাইল ফোন তার দিকে তাক করা। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি চিৎকার শুরু করলে তার মা ছুটে আসেন। মায়ের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত আওয়াল খান দ্রুত মোবাইলটি সরিয়ে ফেলে।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। সরেজমিনে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা মো. শামীম শেখ বলেন, ঘটনার দিন মেয়েটির চিৎকার শুনে আমরা সবাই ছুটে আসি। এসে দেখি, পাশের ঘরের জানালা দিয়ে গোসলের ভিডিও করার চেষ্টা করা হয়েছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর সুষ্ঠু ও সর্বোচ্চ বিচার চাই।

আরেক বাসিন্দা এবং সমাজের একজন অভিভাবক হিসেবে মো. রফিক কঠোর ভাষায় বলেন, আমাদের প্রত্যেকের ঘরেই মা-বোন আছে। যে বা যারা এই ধরনের নোংরা মানসিকতা নিয়ে সমাজে বাস করে, তারা সমাজের কীট। আমরা চাই পুলিশ প্রশাসন যেন কোনো চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যা দেখে অন্য কোনো অপরাধীর অন্তর কেঁপে ওঠে।

ভুক্তভোগীর ভাই কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার বোনের সাথে যা ঘটেছে, তা যেন আর কোনো বোনের সাথে না ঘটে। আমরা প্রশাসনের কাছে শুধু বিচার চাই না, আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি। অপরাধী যেন কোনোভাবেই পার না পায়।

অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্ত আওয়াল খান প্রেম পলাতক রয়েছেন। ঘটনার রাত থেকে তার বাড়িতে তাকে পাওয়া যায়নি এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে, যা তার অপরাধী মানসিকতারই প্রমাণ দেয়।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান জানান, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

কু-প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় তরুণীর গোসলের গোপন ভিডিও ধারণ ॥ থানায় অভিযোগ

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৮:১৪:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫

সিরাজগঞ্জ শহরে এক তরুণীর গোসলের সময় গোপনে ভিডিও ধারণের চেষ্টার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার অভিযোগে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা শুধু আইনগত ব্যবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে, এই ধরনের সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার দুঃসাহস না দেখায়। ঘটনাটি গত ৯ আগস্ট, শুক্রবার বিকেল সারে ৫টার দিকে সিরাজগঞ্জ সদর পৌরসভার সয়াগোবিন্দ প্রামানিকপাড়া এলাকায় ঘটে। ভুক্তভোগী তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এলাকার মৃত মলিন খানের ছেলে মো. আওয়াল খান প্রেম (৩৫) বেশ কিছুদিন ধরেই ভুক্তভোগী তরুণীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তিনি তরুণীর পিছু নিয়ে তাকে কু-প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। তরুণী তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়, আওয়াল খান হুমকি দিয়ে বলেন, তিনি এমন কিছু করবেন যাতে তরুণী নিজেই তার কাছে যেতে বাধ্য হন।

এই হুমকির রেশ ধরেই গত ৯ আগস্ট বিকেলে ওই তরুণী যখন নিজ বাড়ির গোসলখানায় গোসল করছিলেন, তখন তিনি উপরের দিকে তাকাতেই এক ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। পাশের ঘর থেকে দেয়ালের উপর দিয়ে একটি মোবাইল ফোন তার দিকে তাক করা। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি চিৎকার শুরু করলে তার মা ছুটে আসেন। মায়ের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত আওয়াল খান দ্রুত মোবাইলটি সরিয়ে ফেলে।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। সরেজমিনে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা মো. শামীম শেখ বলেন, ঘটনার দিন মেয়েটির চিৎকার শুনে আমরা সবাই ছুটে আসি। এসে দেখি, পাশের ঘরের জানালা দিয়ে গোসলের ভিডিও করার চেষ্টা করা হয়েছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর সুষ্ঠু ও সর্বোচ্চ বিচার চাই।

আরেক বাসিন্দা এবং সমাজের একজন অভিভাবক হিসেবে মো. রফিক কঠোর ভাষায় বলেন, আমাদের প্রত্যেকের ঘরেই মা-বোন আছে। যে বা যারা এই ধরনের নোংরা মানসিকতা নিয়ে সমাজে বাস করে, তারা সমাজের কীট। আমরা চাই পুলিশ প্রশাসন যেন কোনো চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যা দেখে অন্য কোনো অপরাধীর অন্তর কেঁপে ওঠে।

ভুক্তভোগীর ভাই কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার বোনের সাথে যা ঘটেছে, তা যেন আর কোনো বোনের সাথে না ঘটে। আমরা প্রশাসনের কাছে শুধু বিচার চাই না, আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি। অপরাধী যেন কোনোভাবেই পার না পায়।

অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্ত আওয়াল খান প্রেম পলাতক রয়েছেন। ঘটনার রাত থেকে তার বাড়িতে তাকে পাওয়া যায়নি এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে, যা তার অপরাধী মানসিকতারই প্রমাণ দেয়।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান জানান, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।