মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, গোবিন্দগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সমাজে একদল অবহেলিত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে অবস্থিত ‘মেহেরুননেছা বৃদ্ধাশ্রম’।কোনো সরকারি সহযোগিতা ছাড়াই একান্ত মানবিক তাড়নায় গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও স্বজনদের অবহেলায় পড়ে থাকা প্রায় ৪০ জন বাবা-মায়ের নিরাপদ নিবাসে পরিণত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে ২০১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর আপেল মাহমুদ নামে এক মানবিক উদ্যোক্তার হাত ধরে যাত্রা শুরু করে এই বৃদ্ধাশ্রমটি। পরিবারের মায়া-মমতা থেকে বঞ্চিত, নিঃসন্তান, সহায়-সম্বলহীন কিংবা সামর্থ্যবান সন্তান থেকেও যারা আজ একাকী—এমনই অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্য নিয়ে তিনি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন।আশ্রমের বর্তমান পরিস্থিতি বর্তমানে আশ্রমটিতে প্রায় ৪০ জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার, কেউ কেউ গুরুতর অসুস্থ।
জীবনের শেষ সময়ে এসে প্রিয়জনদের সান্নিধ্য পাওয়া তো দূরের কথা, যাদের খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ নেই, তারাই এই আশ্রমে খুঁজে পেয়েছেন এক টুকরো শান্তির নীড়।
প্রতিষ্ঠাতা আপেল মাহমুদ জানান, চরম আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই চলছে তাদের এই মহতী কার্যক্রম। সরকারি কোনো অনুদান বা বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা ছাড়াই আশ্রমটি টিকে আছে। মূলত প্রতিষ্ঠানের কার্যনির্বাহী সদস্যদের মাসিক চাঁদা এবং ৭-৮ জন নিবেদিতপ্রাণ উপদেষ্টার ব্যক্তিগত আর্থিক সহযোগিতায় কোনোমতে চলছে এই বৃদ্ধ নিবাসের দৈনন্দিন ব্যয়। আশ্রমে থাকা এই বয়োজ্যেষ্ঠদের খাবার, ওষুধ ও অন্যান্য সেবার খরচ বহন করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।
আশ্রম কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমিত সম্পদের ওপর নির্ভর করে ৪০ জন মানুষের দায়িত্ব নেওয়া অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবুও মানবতার খাতিরে তারা এই সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে স্থায়ী কোনো অনুদান বা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া বৃদ্ধ বাবা-মায়েদের এই সেবার পথযাত্রা অব্যাহত রাখা ভবিষ্যতে অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।অসহায় ও প্রবীণ এই মানুষগুলোর মুখে হাসি ফোটাতে এবং আশ্রমের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন আশ্রম সংশ্লিষ্টরা।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 



















