ঢাকা, বাংলাদেশ , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

দেবিদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়ায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন

এম.জে.এ মামুন:

যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে কুমিল্লার দেবিদ্বার ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সুন্নী জনতার উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে দেবিদ্বার উপজেলার সুবিল, মোগসাইর, রাঘবপুর, ফতেহাবাদসহ আশপাশের এলাকা এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার পোমকাড়া ও বেড়াখলা গ্রামের সুন্নী জনতা নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মোগসাইর-এগারগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমবেত হতে থাকেন। সকাল ৬টার দিকে সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সুবিল বাশারিয়া দরবার শরীফের মাঠে এসে সমবেত হয়।

অন্যদিকে সুবিল স্বর্ণকারপাড়া ও আশপাশের এলাকা থেকেও পৃথক একটি র‍্যালি বের করা হয়। সেটিও স্থানীয় বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সুবিল বাশারিয়া দরবার শরীফে এসে পৌঁছায়। পরে দুটি র‍্যালি একত্রিত হয়ে সহস্রাধিক ধর্মপ্রাণ মানুষের অংশগ্রহণে ফতেহাবাদ বাজারের দিকে যায় এবং বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় বাশারিয়া দরবার শরীফের মাঠে এসে সমবেত হয়।
র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ধর্মীয় স্লোগান ও নাতে রাসুলের মাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।

র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা ‘নারায়ে তাকবির—আল্লাহু আকবার’, ‘নারায়ে রিসালাত—ইয়া রাসূলাল্লাহ (সা.)’সহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্লোগান দেন। এ সময় পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

পরে সুবিল বাশারিয়া দরবার শরীফের মাঠে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তাৎপর্য ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও সুন্নাহ নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আশেকে রাসূল (সা.) মো. আবুল খায়েরের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন ইসলামি আলোচক মুফতি মাওলানা মো. কবির হোসাইন রেজা, মাওলানা মো. মবিনুল ইসলাম আল-কাদরী, হাফেজ মো. মোতালেব হোসাইন, মোগসাইর-এগারগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আশেকে রাসূল (সা.) মো. শফিকুল ইসলাম এবং আশেকে রাসূল (সা.) মো. আনোয়ার হোসেন সরকারসহ অনেকে।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন মানবজাতির জন্য এক মহান নিয়ামত ও আলোর বার্তা। তাঁর পবিত্র জীবনাদর্শ, মানবিকতা, ন্যায়, সাম্য, ত্যাগ, ক্ষমা ও সম্প্রীতির শিক্ষা অনুসরণ করলেই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ ও আদর্শকে নিজেদের জীবনে বাস্তবায়নের জন্য বক্তারা সবার প্রতি আহ্বান জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ২ নম্বর ইউসুফপুর ইউনিয়ন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি হযরত মাওলানা শেখ মো. এরশাদুর রহমান মোজাহেদী, সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মো. ওমর ফারুক মেম্বার, সুবিল বাশারিয়া দরবার শরীফের খাদেম আশেকে রাসূল (সা.) মো. গোলাম মোস্তফা মোমেন, মো. মাঈনুদ্দিন সরকার, মোগসাইর পাক পাঞ্জাতন জামে মসজিদের সাবেক ইমাম হাজী মো. আব্দুল মান্নান আল-আবেদী, আশেকে রাসূল (সা.) মো. হাবিবুর রহমান (হাবিব), মো. আল-আমীনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। র‍্যালি, আলোচনা সভা ও ধর্মীয় কর্মসূচিকে ঘিরে সকাল থেকেই স্থানীয় সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মিলাদ ও কিয়াম অনুষ্ঠিত হয়। পরে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং সমগ্র মানবজাতির শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ আখেরি মোনাজাত করা হয়।

উল্লেখ্য, ১২ রবিউল আউয়ালকে মুসলিম বিশ্বের একটি বড় অংশ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মস্মরণে ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালন করে থাকে। ঐতিহাসিকভাবে মহানবী (সা.)-এর জন্মসন ও জন্মতারিখ নিয়ে বিভিন্ন মত থাকলেও প্রচলিত ইসলামী ঐতিহ্যে ১২ রবিউল আউয়াল বিশেষভাবে স্মরণীয়। এ দিনকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মিলাদ, আলোচনা, দরুদ, নাত ও ধর্মীয় নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

হোমনায় পুকুর খননের নামে সরকারী খাসজমি থেকে বালু বিক্রির অভিযোগ ! শ্যালো মেশিন জব্দ

৫০/এফ, ইনার সার্কুলার ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০ | ফোন: ০৯৬৪৯২৩০২২০, ০১৯১৫৭০৮১৮৭, ই-মেইল: info.nagorikvabna@gmail.com

.nv-address-bar { background-color: #1565C0 !important; padding: 10px 20px !important; text-align: center !important; width: 100% !important; display: block !important; } .nv-address-bar p { color: #ffffff !important; font-size: 13px !important; margin: 0 !important; line-height: 1.6 !important; }
26 August 2026

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

দেবিদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়ায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৭:২৯:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

এম.জে.এ মামুন:

যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে কুমিল্লার দেবিদ্বার ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সুন্নী জনতার উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে দেবিদ্বার উপজেলার সুবিল, মোগসাইর, রাঘবপুর, ফতেহাবাদসহ আশপাশের এলাকা এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার পোমকাড়া ও বেড়াখলা গ্রামের সুন্নী জনতা নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মোগসাইর-এগারগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমবেত হতে থাকেন। সকাল ৬টার দিকে সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সুবিল বাশারিয়া দরবার শরীফের মাঠে এসে সমবেত হয়।

অন্যদিকে সুবিল স্বর্ণকারপাড়া ও আশপাশের এলাকা থেকেও পৃথক একটি র‍্যালি বের করা হয়। সেটিও স্থানীয় বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সুবিল বাশারিয়া দরবার শরীফে এসে পৌঁছায়। পরে দুটি র‍্যালি একত্রিত হয়ে সহস্রাধিক ধর্মপ্রাণ মানুষের অংশগ্রহণে ফতেহাবাদ বাজারের দিকে যায় এবং বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় বাশারিয়া দরবার শরীফের মাঠে এসে সমবেত হয়।
র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ধর্মীয় স্লোগান ও নাতে রাসুলের মাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।

র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা ‘নারায়ে তাকবির—আল্লাহু আকবার’, ‘নারায়ে রিসালাত—ইয়া রাসূলাল্লাহ (সা.)’সহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্লোগান দেন। এ সময় পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

পরে সুবিল বাশারিয়া দরবার শরীফের মাঠে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তাৎপর্য ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও সুন্নাহ নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আশেকে রাসূল (সা.) মো. আবুল খায়েরের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন ইসলামি আলোচক মুফতি মাওলানা মো. কবির হোসাইন রেজা, মাওলানা মো. মবিনুল ইসলাম আল-কাদরী, হাফেজ মো. মোতালেব হোসাইন, মোগসাইর-এগারগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আশেকে রাসূল (সা.) মো. শফিকুল ইসলাম এবং আশেকে রাসূল (সা.) মো. আনোয়ার হোসেন সরকারসহ অনেকে।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন মানবজাতির জন্য এক মহান নিয়ামত ও আলোর বার্তা। তাঁর পবিত্র জীবনাদর্শ, মানবিকতা, ন্যায়, সাম্য, ত্যাগ, ক্ষমা ও সম্প্রীতির শিক্ষা অনুসরণ করলেই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ ও আদর্শকে নিজেদের জীবনে বাস্তবায়নের জন্য বক্তারা সবার প্রতি আহ্বান জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ২ নম্বর ইউসুফপুর ইউনিয়ন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি হযরত মাওলানা শেখ মো. এরশাদুর রহমান মোজাহেদী, সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মো. ওমর ফারুক মেম্বার, সুবিল বাশারিয়া দরবার শরীফের খাদেম আশেকে রাসূল (সা.) মো. গোলাম মোস্তফা মোমেন, মো. মাঈনুদ্দিন সরকার, মোগসাইর পাক পাঞ্জাতন জামে মসজিদের সাবেক ইমাম হাজী মো. আব্দুল মান্নান আল-আবেদী, আশেকে রাসূল (সা.) মো. হাবিবুর রহমান (হাবিব), মো. আল-আমীনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। র‍্যালি, আলোচনা সভা ও ধর্মীয় কর্মসূচিকে ঘিরে সকাল থেকেই স্থানীয় সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মিলাদ ও কিয়াম অনুষ্ঠিত হয়। পরে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং সমগ্র মানবজাতির শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ আখেরি মোনাজাত করা হয়।

উল্লেখ্য, ১২ রবিউল আউয়ালকে মুসলিম বিশ্বের একটি বড় অংশ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মস্মরণে ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালন করে থাকে। ঐতিহাসিকভাবে মহানবী (সা.)-এর জন্মসন ও জন্মতারিখ নিয়ে বিভিন্ন মত থাকলেও প্রচলিত ইসলামী ঐতিহ্যে ১২ রবিউল আউয়াল বিশেষভাবে স্মরণীয়। এ দিনকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মিলাদ, আলোচনা, দরুদ, নাত ও ধর্মীয় নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

Share this news as a Photo Card