ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবে নতুন কমিটির বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মিষ্টিমুখ, এ কার্যক্রম থেকে বাদ মুলধারার সাংবাদিকরা

গোলাপগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি : শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। ক্ষমতাগ্রহণের আগেই গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবে নতুন কমিটির বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মিষ্টিমুখ করানো হয়, কিন্তু বাদ পড়ে যান ১৯৯৪ সাল থেকে ধরে রাখা পুরাতন প্রেসক্লাব সদস্যরা, শুধু গ্রুপে দাওয়াত দেওয়া হয় আম ভাবে, এতে করে যার মনে হয় তিনি আসিয়েন না হলে নেই, মুলতো এ প্রেসক্লাবের প্রকৃত কোন সাংবাদিকদের দাওয়াত দেওয়া হয় নাই। শুধুমাত্র নিজেরদের বলয় ধরে রাখতে কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। এ নিয়ে অনেক সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ১৭টি পদের বিপরীতে মোট ৪৭টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। তবে ৮৪ জন ভোটারের তালিকা নিয়ে স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ভোটারদের একটি বড় অংশ বিএনপি ও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং পেশাদার সাংবাদিক রয়েছেন মাত্র ১০ থেকে ১২ জন। বাকি সদস্যরা বিভিন্ন রাজনৈতিক বলয়কে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে সদস্যপদ লাভ করেছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ২ অক্টোবর রাত ৩টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন এবং বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে একটিুদ্ধকর গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। ওই বৈঠকে পূর্বনির্ধারিত সমঝোতার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাধারণ সদস্যদের সামনে একটি ‘আই ওয়াশ’ বা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনের দিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতের সিলেট জেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
১৭টি পদের বিপরীতে বিভিন্ন পদে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও শেষ পর্যন্ত দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মেরুকরণে বিভক্ত হয়ে প্রার্থীরা জয়লাভ করেন।
বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এনামুল হক এনাম (৪১ ভোট) বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মাহফুজ আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন ৩১ ভোট। সিনিয়র সহ-সভাপতি বিএনপির প্রার্থী আজিজুর রহমান খান (৫১ ভোট) বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জহুরুল ইসলাম পেয়েছেন ২৩ ভোট। সহ-সভাপতি জামায়াতের প্রার্থী বদরুল আলম (৫০ ভোট) বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপি প্রতিদ্বন্দী আব্দুল খালিক পেয়েছেন ৩৩ ভোট। সাধারণ সম্পাদক জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (৪৪ ভোট) বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ইমরান আহমদ পেয়েছেন ৩৯ ভোট। সহ-সাধারণ সম্পাদক বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আজিজ বাবর (৩৩ ভোট) বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াতের সাকিব আল মামুন পেয়েছেন ৩১ ভোট। কোষাধ্যক্ষ আনোয়ার হুমায়ুন (৪৬ ভোট) বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলোয়ার হোসেন মাহমুদ পেয়েছেন ৩৭ ভোট। ক্রীড়া সম্পাদক মো. তামিম আহমদ (৪০ ভোট) সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ফাহাদ হোসাইন (৪৪ ভোট)। প্রচার সম্পাদক ফাহিম আহমদ (৩৪ ভোট)। প্রকাশনা সম্পাদক শাকেল উদ্দিন (৪১ ভোট)। দফতর সম্পাদক ওলিউর রহমান তামিম (৩৭ ভোট)। তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক সামিল হোসেন (৪৭ ভোট)। প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক সালমান কাদের দিপু (৩৬ ভোট) (যিনি অতীতে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে বিএনপির ছত্র ছায়ায় রয়েছেন।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
11 October 2026

সৌদি আরবে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় কটিয়াদীর প্রবাসী ফয়সালের মৃত্যু

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবে নতুন কমিটির বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মিষ্টিমুখ, এ কার্যক্রম থেকে বাদ মুলধারার সাংবাদিকরা

সর্বশেষ পরিমার্জন : ১০:৪২:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

গোলাপগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি : শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। ক্ষমতাগ্রহণের আগেই গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবে নতুন কমিটির বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মিষ্টিমুখ করানো হয়, কিন্তু বাদ পড়ে যান ১৯৯৪ সাল থেকে ধরে রাখা পুরাতন প্রেসক্লাব সদস্যরা, শুধু গ্রুপে দাওয়াত দেওয়া হয় আম ভাবে, এতে করে যার মনে হয় তিনি আসিয়েন না হলে নেই, মুলতো এ প্রেসক্লাবের প্রকৃত কোন সাংবাদিকদের দাওয়াত দেওয়া হয় নাই। শুধুমাত্র নিজেরদের বলয় ধরে রাখতে কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। এ নিয়ে অনেক সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ১৭টি পদের বিপরীতে মোট ৪৭টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। তবে ৮৪ জন ভোটারের তালিকা নিয়ে স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ভোটারদের একটি বড় অংশ বিএনপি ও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং পেশাদার সাংবাদিক রয়েছেন মাত্র ১০ থেকে ১২ জন। বাকি সদস্যরা বিভিন্ন রাজনৈতিক বলয়কে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে সদস্যপদ লাভ করেছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ২ অক্টোবর রাত ৩টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন এবং বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে একটিুদ্ধকর গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। ওই বৈঠকে পূর্বনির্ধারিত সমঝোতার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাধারণ সদস্যদের সামনে একটি ‘আই ওয়াশ’ বা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনের দিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতের সিলেট জেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
১৭টি পদের বিপরীতে বিভিন্ন পদে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও শেষ পর্যন্ত দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মেরুকরণে বিভক্ত হয়ে প্রার্থীরা জয়লাভ করেন।
বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এনামুল হক এনাম (৪১ ভোট) বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মাহফুজ আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন ৩১ ভোট। সিনিয়র সহ-সভাপতি বিএনপির প্রার্থী আজিজুর রহমান খান (৫১ ভোট) বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জহুরুল ইসলাম পেয়েছেন ২৩ ভোট। সহ-সভাপতি জামায়াতের প্রার্থী বদরুল আলম (৫০ ভোট) বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপি প্রতিদ্বন্দী আব্দুল খালিক পেয়েছেন ৩৩ ভোট। সাধারণ সম্পাদক জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (৪৪ ভোট) বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ইমরান আহমদ পেয়েছেন ৩৯ ভোট। সহ-সাধারণ সম্পাদক বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আজিজ বাবর (৩৩ ভোট) বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াতের সাকিব আল মামুন পেয়েছেন ৩১ ভোট। কোষাধ্যক্ষ আনোয়ার হুমায়ুন (৪৬ ভোট) বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলোয়ার হোসেন মাহমুদ পেয়েছেন ৩৭ ভোট। ক্রীড়া সম্পাদক মো. তামিম আহমদ (৪০ ভোট) সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ফাহাদ হোসাইন (৪৪ ভোট)। প্রচার সম্পাদক ফাহিম আহমদ (৩৪ ভোট)। প্রকাশনা সম্পাদক শাকেল উদ্দিন (৪১ ভোট)। দফতর সম্পাদক ওলিউর রহমান তামিম (৩৭ ভোট)। তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক সামিল হোসেন (৪৭ ভোট)। প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক সালমান কাদের দিপু (৩৬ ভোট) (যিনি অতীতে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে বিএনপির ছত্র ছায়ায় রয়েছেন।

Share this news as a Photo Card