
আইয়ুব আলী, হোমনা: কুমিল্লার হোমনা উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী রামকৃষ্ণপুর বাজারসংলগ্ন চরলহনীয়া নৌকাঘাট এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। মৃত পশু, পচা বর্জ্য ও পলিথিনের স্তূপ থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। নাক চেপেও এ পথ দিয়ে চলাচল করা দায় হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিদিন ঘাট ব্যবহারকারী যাত্রী, বাজারের ক্রেতা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকাবাসী ।
তিতাস নদীর তীরে অবস্থিত রামকৃষ্ণপুর বাজারে পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা থেকে যাতায়াতের জন্য ভুরভুরিয়া এলাকায় দুটি ও চরলহনীয়ায় একটি মোট তিনটি খেয়াঘাট রয়েছে। তিনটি ঘাটেই ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে, এর মধ্যে চরলহনীয়া ঘাটের আশপাশে জমে থাকা বর্জ্য জনদুর্ভোগের পাশাপাশি নদীর পরিবেশের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘাটসংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা ও মৃত পশু পড়ে রয়েছে। পচা বর্জ্যের দুর্গন্ধে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাও কষ্টকর। এসব বর্জ্য তিতাস নদীর পানিতে মিশছে। নদীর পানিতে ভাসছে মৃত পশু, পলিথিন ও অন্যান্য আবর্জনা। পানির নিচেও জমে আছে পশুর হাড়সহ বিভিন্ন উচ্ছিষ্ট।
ঘাটটি দিয়ে প্রতিদিন নানা প্রয়োজনে মানুষ পারাপার হন। কেউ আসেন বাজার করতে, কেউ যান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, আবার কেউ যাতাযাত করেন ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক কাজে। কিন্তু ঘাটের এমন পরিস্থিতিতে তাঁদের প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধ সহ্য করে চলাচল করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে নদীতে বর্জ্য ফেলার কারণে পানিদূষণ ও জলজ পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এ নৌঘাটে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘাট এলাকায় ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ, জমে থাকা বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি তিতাস নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্হে কার্যকর নজরদারিও প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, জনদুর্ভোগ নিরসন ও নদীর পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। ঐতিহ্যবাহী রামকৃষ্ণপুর বাজারের গুরুত্বপূর্ণ এ নৌঘাটকে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় থেকে মুক্ত করে স্বাভাবিক যাতায়াতের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি তাঁদের।

আইয়ুব আলী, হোমনা 











