ঢাকা, বাংলাদেশ। , সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী

আবু জাফর বিশ্বাস, ঝালকাঠি
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:৫৬:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১০ বার পঠিত
আবু জাফর বিশ্বাস, ঝালকাঠি:  অবিভক্ত বাংলার প্রখ্যাত রাজনীতিক, কৃষক-শ্রমিকের অকৃত্রিম নেতা এবং বাংলার মানুষের প্রিয় ‘শেরে বাংলা’ এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার (২৭ এপ্রিল)। ১৯৬২ সালের এই দিনে তিনি ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবুল কাশেম ফজলুল হক। উপমহাদেশের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা করপোরেশনের মেয়র, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর এবং যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। জমিদারি প্রথার বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থান, প্রজাস্বত্ব রক্ষায় আইন প্রণয়ন, শিক্ষার বিস্তার এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে তার অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে তিনি উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব, অসাধারণ বক্তৃতা দক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ তাকে বাংলার জনমানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে দিয়েছে।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে শেরে বাংলার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়ায় তার জন্মস্থানেও নানা কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে।
বাংলার অবহেলিত কৃষক সমাজের মুক্তির পথপ্রদর্শক, অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক এবং গণমানুষের অকৃত্রিম নেতা শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক আজও ইতিহাসের পাতায় সমুজ্জ্বল হয়ে আছেন। তার আদর্শ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, মানবকল্যাণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রেরণা জোগাবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:৫৬:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
আবু জাফর বিশ্বাস, ঝালকাঠি:  অবিভক্ত বাংলার প্রখ্যাত রাজনীতিক, কৃষক-শ্রমিকের অকৃত্রিম নেতা এবং বাংলার মানুষের প্রিয় ‘শেরে বাংলা’ এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার (২৭ এপ্রিল)। ১৯৬২ সালের এই দিনে তিনি ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবুল কাশেম ফজলুল হক। উপমহাদেশের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা করপোরেশনের মেয়র, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর এবং যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। জমিদারি প্রথার বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থান, প্রজাস্বত্ব রক্ষায় আইন প্রণয়ন, শিক্ষার বিস্তার এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে তার অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে তিনি উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব, অসাধারণ বক্তৃতা দক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ তাকে বাংলার জনমানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে দিয়েছে।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে শেরে বাংলার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়ায় তার জন্মস্থানেও নানা কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে।
বাংলার অবহেলিত কৃষক সমাজের মুক্তির পথপ্রদর্শক, অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক এবং গণমানুষের অকৃত্রিম নেতা শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক আজও ইতিহাসের পাতায় সমুজ্জ্বল হয়ে আছেন। তার আদর্শ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, মানবকল্যাণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রেরণা জোগাবে।