ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬
তাজা খবর
“কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন
উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ১৪৪ তম খুলনা দিবস!
চট্রগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হোমনার বাঘা শরীফ
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের দায়ে ফেঁসে যাচ্ছে ডাঃ লাকী সহ আরো আট জন!

বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো:
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৯:৩০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ৪১ বার পঠিত

প্রফেসর ডাক্তার শামসুন্নাহার লাকি তার গৃহপরিচারিকা আকলিমাকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন সহ ব্যাংকে জমাকৃত অর্থ ও জমি লিখে দেওয়ার ঘটনার সত্যতার প্রমাণ মিলেছে, ঘটনার বিবরণে জানা গেছে গৃহপরিচারিকা আকলিমা দীর্ঘদিন ডাক্তার লাকির বাসায় কর্মরত থাকা অবস্থায় শারীরিক অসুবিধার কারণে জানিয়ে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে আকলিমার প্রতি শুরু হয় ডাক্তার লাকি কর্তৃক মর্মান্তিক অত্যাচার ও পাশবিক নির্যাতন আর এই নির্যাতনের সময় লাকির সাথে জড়িত ছিল আরো আট জন।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরে সাধারণ জনগণের প্রশ্ন একজন চিকিৎসকমানেই মানব জাতির সুস্থ অসুস্থ বিপদ-আপদের অন্যতম কান্ডারী আর তাদেরই পরামর্শে সুস্থ হয় অসংখ্য অসুস্থ রোগী।
তবে একজন চিকিৎসক যখন হয়ে যায় নির্মম অত্যাচারী শাসক।
প্রফেসর ডাঃ লাকি নগরীর আহসান আহমদ রোডের ক্লিনিক ভিক্টোরিয়া নার্সিংহোম এর স্বত্বাধিকারী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে কাজ থেকে অবসর নেওয়ার কথা বলায় গৃহপরিচারিকার ওপর বর্বরতা নির্মম নির্যাতন করে প্রফেসর ডাঃ সামসুর নাহার লাকি। তবে এ ঘটনার পর গত ২ সেপ্টেম্বর মোসাঃ আকলিমা খাতুন বাদী হয়ে সামসুর নাহার লাকিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। ওই আদালতের বিচারক বিষয়টি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়ে আগামী ৩০ অক্টোবর মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।
এ মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন, আলিমুর রেজা, মিসেস মালি, কাজী আবুল হাসান, মোহাম্মাদ আলী, মোঃ ইলিয়াস, শাওলী হাসান এবং রাদ হাসান এরা সবাই ডাক্তার লাকির আজ্ঞাবহ। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এড. এম মাফতুম আহমেদ।
বাদীর লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, আকলিমা খাতুন ১৯৯৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ডাঃ সামসুর নাহার লাকির বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময় শারীরিক এবং পারিবারিক কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষমতার কথা চিকিৎসক সামসুর নাহার লাকিকে জানান। এ কথা শোনামাত্র তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন ওই চিকিৎসক।
২৭ জুলাই সামসুর নাহার লাকির নির্দেশে আকালিমাকে অবরুদ্ধ করে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। তার অবস্থা খারাপ দেখে চিকিৎসক ঢাকায় আত্মগোপনে চলে যান। ২ আগস্ট ঢাকা থেকে ফিরে এসে আবারও তাকে ভয়ভীতি দেখান। উপস্থিত আলিমুর রেজা ও কাজী আবুল হাসানের কিল ঘুষিতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আকলিমা। পরবর্তীতে সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ব্যাংক জমানতকৃত ডিপিএসের ৬ লাখ ৬১ হাজার ৪০০ টাকা উত্তোলন করে নেয়। এ ঘটনার পরও সামসুর রহমান লাকি ক্ষান্ত হননি। তার নির্দেশে তাকে আবারও আটকিয়ে রাখে দু’লাখ টাকা চাঁদা দাবিসহ জায়গা জমি লিখে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। পরবর্তীতে ছেলে এবং ভাই মুচলেকা দিয়ে তাকে সেখান থেকে মুক্ত করে নেওয়া হয়। এ ঘটনার পর চিকিৎসক সামসুর নাহার লাকিকে লিগ্যাল নোটিস এবং স্থানীয় থানা পুলিশ ও কমিশনারকে বিষয়টি অবগত করা হয়। কিন্তু এসবের কোন উত্তর না দিয়ে গৃহপরিচারিকা আকলিমাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অব্যাহত হুমকি দিচ্ছেন তিনি।
আইনজীবী মাফতুম আহমেদ বলেন, “আদালত মামলা নিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তভার খুলনার পিবিআইকে দিয়েছেন। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী দিন ধার্য্য করেছেন আদালত। আকলিমার ভাই বলেন, ৯৮ সালে স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর সামসুর নাহার লাকির বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ নেয় তার বোন আকলিমা খাতুন। বয়সের ভারে কাজ ছেড়ে দেওয়ার কথা বলায় তার ওপর নির্যাতন চালায় চিকিৎসক পরিবারের সদস্যরা। নির্যাতন করে ছাড় পাননি তারা অব্যাহত হুমকির মধ্যে থেকে অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছে।
আরও পড়ুন:






















