
সাব্বির হোসেন : একটি দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো, অর্থনীতি কিংবা প্রযুক্তির অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে না; সুস্থ ও সচেতন জনগোষ্ঠীও টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। জনস্বাস্থ্য ভালো রাখতে সরকারের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, অনিরাপদ পানি, খাদ্যে ভেজাল, মশাবাহিত রোগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। এসব সমস্যা অনেক ক্ষেত্রে সামান্য সচেতনতা ও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে কমিয়ে আনা সম্ভব।
স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য নিয়মিত হাত ধোয়া, নিরাপদ পানি পান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন খাবার গ্রহণ, বাসাবাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার মতো অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে অসুস্থ হলে নিজের মতো করে ওষুধ না খেয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে পরিবেশের সম্পর্কও গভীর। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা, নালা-নর্দমা বন্ধ করে দেওয়া কিংবা খোলা জায়গায় বর্জ্য জমিয়ে রাখা শুধু পরিবেশ দূষণই ঘটায় না, বরং রোগজীবাণু ও মশার বিস্তারের সুযোগ তৈরি করে। তাই পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
শুধু সচেতনতা সৃষ্টি করলেই হবে না, সচেতনতার চর্চাও করতে হবে। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল, বাজার ও স্থানীয় সম্প্রদায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
জনস্বাস্থ্য রক্ষার দায়িত্ব কেবল চিকিৎসক বা স্বাস্থ্য বিভাগের নয়—এটি রাষ্ট্র ও নাগরিক উভয়ের সম্মিলিত দায়িত্ব। নিজের স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি অন্যের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর জন্যও প্রত্যেক নাগরিককে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। কারণ সচেতন নাগরিকই পারে সুস্থ, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে।

সাব্বির হোসেন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা 















