মোঃমফিজুল ইসলাম,নীলফামকরী জেলা প্রতিনিধি:
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক সেমিনার ও সংক্ষিপ্ত কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতির আওতায় গৃহীত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কর্মসম্পাদন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে টেংগনমারী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মাদ নায়িরুজ্জামান। প্রধান আলোচক ছিলেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা.দেবদুলার রায়(এমবিবিএস, বিসিএস স্বাস্থ্য, সিসিডি-বারডেম, এমডি সাইকিয়াট্রি)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডা.আব্দুর রাজ্জাক।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা.জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কামারুজ্জামান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টেংগনমারী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশিকুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও জলঢাকা প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান, অনির্বাণ বিদ্যাতীর্থ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকনুজ্জামান চৌধুরীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তা ও সুধীজন।
সেমিনারে প্রধান আলোচক ডা. দেবদুলাল রায় শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ, বিষণ্নতা, উদ্বেগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের সুস্থ মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি বলেন, পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তিনি ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে আয়োজিত সচেতনতামূলক নাটক প্রতিযোগিতার বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। পুরো আয়োজনটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উপস্থিতরা আশা প্রকাশ করেন।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 



















