ঢাকা, বাংলাদেশ। , শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

জামালপুর জেলা লোডশেডিংয়ে গ্রামে দুর্ভোগ চরমে

আব্দুল আওয়াল
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:১৭:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২৩ বার পঠিত
আব্দুল আওয়াল:   তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জামালপুর  জেলা। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জেলার সাত উপজেলা—জামালপুর সদর, ইসলামপুর , বকশীগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ  ও সরিষাবাড়ী জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেশি হওয়ায় সেখানে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দিনে জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮০ মেগাওয়াট, যা বর্তমানে ৫০ থেকে ৬০ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়। কিন্তু সরবরাহ কম থাকায় নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয়ভাবে ৩৩ কেভি স্ক্যাডা সিস্টেমের মাধ্যমে লোড নিয়ন্ত্রণ করায় স্থানীয় পর্যায়ে অনেক সময় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।
ইসলামপুর উপজেলায় চাহিদা প্রায় ১৮ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ৪ থেকে ৫ মেগাওয়াট। ফলে দিনের বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। জাতীয় গ্রিডে লো ফ্রিকোয়েন্সির কারণে এনএলডিসি স্ক্যাডা অপারেশনের মাধ্যমে ফিডার বন্ধ রেখে লোড ম্যানেজমেন্ট করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ঘনঘন লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়াশোনায় ব্যাঘাতের অভিযোগ করেছেন। ইসলামপুরের  শিক্ষার্থী মৌউরি আক্তার জানায়,  বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই অভিযোগ করেছে জামালপুর পৌর  শহরের রাকিব হোসেনও।
এদিকে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানে ক্রেতা কমে যাচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই দোকান বন্ধ করতে হওয়ায় লোকসান বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে পণ্যের সরবরাহও ঠিক রাখা যাচ্ছে না।
ইজিবাইক চালকদের আয়েও প্রভাব পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাটারি চার্জ দিতে না পারায় তারা নিয়মিত ট্রিপ দিতে পারছেন না। তীব্র গরমে রাতে ঘুমাতে না পেরে দুর্ভোগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের।
সমাজকর্মীরা বলছেন, আমদানিনির্ভর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে এই সংকট আরও প্রকট হচ্ছে। তারা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেওয়ানগঞ্জ,বকশীগঞ্জ উপজেলা সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ পাচ্ছে এবং সর্বনিম্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছে ইসলামপুর উপজেলা।
জামালপুর জেলা  আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এসব এলাকায় মোট চাহিদা প্রায় ১৮০ মেগাওয়াট হলেও বর্তমান সক্ষমতায় তা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না।
জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ব্যবস্থাপক শহিদুর রহমান জানান, চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ের দ্বৈত চাপে জামালপুর জেলা মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছেই।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

জামালপুর জেলা লোডশেডিংয়ে গ্রামে দুর্ভোগ চরমে

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:১৭:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
আব্দুল আওয়াল:   তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জামালপুর  জেলা। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জেলার সাত উপজেলা—জামালপুর সদর, ইসলামপুর , বকশীগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ  ও সরিষাবাড়ী জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেশি হওয়ায় সেখানে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দিনে জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮০ মেগাওয়াট, যা বর্তমানে ৫০ থেকে ৬০ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়। কিন্তু সরবরাহ কম থাকায় নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয়ভাবে ৩৩ কেভি স্ক্যাডা সিস্টেমের মাধ্যমে লোড নিয়ন্ত্রণ করায় স্থানীয় পর্যায়ে অনেক সময় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।
ইসলামপুর উপজেলায় চাহিদা প্রায় ১৮ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ৪ থেকে ৫ মেগাওয়াট। ফলে দিনের বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। জাতীয় গ্রিডে লো ফ্রিকোয়েন্সির কারণে এনএলডিসি স্ক্যাডা অপারেশনের মাধ্যমে ফিডার বন্ধ রেখে লোড ম্যানেজমেন্ট করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ঘনঘন লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়াশোনায় ব্যাঘাতের অভিযোগ করেছেন। ইসলামপুরের  শিক্ষার্থী মৌউরি আক্তার জানায়,  বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই অভিযোগ করেছে জামালপুর পৌর  শহরের রাকিব হোসেনও।
এদিকে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানে ক্রেতা কমে যাচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই দোকান বন্ধ করতে হওয়ায় লোকসান বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে পণ্যের সরবরাহও ঠিক রাখা যাচ্ছে না।
ইজিবাইক চালকদের আয়েও প্রভাব পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাটারি চার্জ দিতে না পারায় তারা নিয়মিত ট্রিপ দিতে পারছেন না। তীব্র গরমে রাতে ঘুমাতে না পেরে দুর্ভোগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের।
সমাজকর্মীরা বলছেন, আমদানিনির্ভর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে এই সংকট আরও প্রকট হচ্ছে। তারা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেওয়ানগঞ্জ,বকশীগঞ্জ উপজেলা সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ পাচ্ছে এবং সর্বনিম্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছে ইসলামপুর উপজেলা।
জামালপুর জেলা  আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এসব এলাকায় মোট চাহিদা প্রায় ১৮০ মেগাওয়াট হলেও বর্তমান সক্ষমতায় তা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না।
জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ব্যবস্থাপক শহিদুর রহমান জানান, চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ের দ্বৈত চাপে জামালপুর জেলা মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছেই।