ঢাকা, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

ঝিনাইদহে সাইবার সেলের অভিযানে ১০৪ মোবাইল ও ৫৩ হাজার টাকা উদ্ধার

বিশেষ প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
মোঃ ফজলুল কবির গামা

ঝিনাইদহে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন অপরাধ দমন ও প্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের শনাক্তে কার্যকর ভূমিকা রাখছে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল। গত ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া ১০৪টি মোবাইল ফোন এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)-এর মাধ্যমে ভুলবশত প্রেরিত ৫৩ হাজার ৪০৯ টাকা উদ্ধার করেছে সাইবার সেল।

উদ্ধার করা মোবাইল ফোন ও টাকা বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে প্রকৃত মালিক ও প্রাপকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্ধারকৃত সামগ্রী হস্তান্তর করেন ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন্ হাছান, পিপিএম-সেবা।

সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ জেলায় অনলাইনভিত্তিক অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে সাইবার সেল গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত অপরাধ, ক্লু-লেস হত্যা, ডাকাতি ও দস্যুতা, বিকাশ প্রতারণা, সাইবার বুলিং, হারানো মোবাইল উদ্ধার এবং নিখোঁজ ও অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারে প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দমনে কাজ করছে সেলটি।

গত আড়াই মাসে সাইবার সেলের সদস্যরা মহেশপুরের আলোচিত নিঝুম অপহরণের রহস্য উদ্ঘাটন, কালীগঞ্জ ও কোটচাঁদপুরের দস্যুতা মামলায় চার আসামিকে গ্রেপ্তার এবং দেশীয় অস্ত্র ও ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করেন। এছাড়া ঝিনাইদহ সদর ও কালীগঞ্জ থানার অপহরণ মামলায় দুই ভিকটিমকে উদ্ধার এবং দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময়ে গাজীপুরের ল্যাভেন্ডার গ্রুপের চেয়ারম্যান এক চীনা নাগরিকের এক কোটি টাকা চুরির ঘটনায় মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করে ৮৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। কোটচাঁদপুরে অজ্ঞান করে এক কলেজ শিক্ষিকার কাছ থেকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় অজ্ঞান পার্টির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি ঝিনাইদহে আলোচিত অর্পিতা আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলার আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সাইবার সেল আরও জানায়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, টিকটক, টেলিগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাটসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিংয়ের শিকার ৪০ জন ভিকটিমকে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে নিখোঁজ হওয়া আটজন ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

মোবাইল ফোন ও টাকা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ মোসফেকুর রহমানসহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের কর্মকর্তা ও সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন্ হাছান বলেন, সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি ও অপপ্রচার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এসব অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মানুষের সচেতনতাই একটি নিরাপদ ডিজিটাল সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ অঙ্গীকারবদ্ধ।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
15 October 2026

জামালপুরে জাল ডলার সদৃশ নোটসহ গ্রেপ্তার ২,জব্দ মোটরসাইকেল ও মোবাইল

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com

ঝিনাইদহে সাইবার সেলের অভিযানে ১০৪ মোবাইল ও ৫৩ হাজার টাকা উদ্ধার

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৯:১৯:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
মোঃ ফজলুল কবির গামা

ঝিনাইদহে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন অপরাধ দমন ও প্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের শনাক্তে কার্যকর ভূমিকা রাখছে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল। গত ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া ১০৪টি মোবাইল ফোন এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)-এর মাধ্যমে ভুলবশত প্রেরিত ৫৩ হাজার ৪০৯ টাকা উদ্ধার করেছে সাইবার সেল।

উদ্ধার করা মোবাইল ফোন ও টাকা বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে প্রকৃত মালিক ও প্রাপকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্ধারকৃত সামগ্রী হস্তান্তর করেন ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন্ হাছান, পিপিএম-সেবা।

সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ জেলায় অনলাইনভিত্তিক অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে সাইবার সেল গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত অপরাধ, ক্লু-লেস হত্যা, ডাকাতি ও দস্যুতা, বিকাশ প্রতারণা, সাইবার বুলিং, হারানো মোবাইল উদ্ধার এবং নিখোঁজ ও অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারে প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দমনে কাজ করছে সেলটি।

গত আড়াই মাসে সাইবার সেলের সদস্যরা মহেশপুরের আলোচিত নিঝুম অপহরণের রহস্য উদ্ঘাটন, কালীগঞ্জ ও কোটচাঁদপুরের দস্যুতা মামলায় চার আসামিকে গ্রেপ্তার এবং দেশীয় অস্ত্র ও ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করেন। এছাড়া ঝিনাইদহ সদর ও কালীগঞ্জ থানার অপহরণ মামলায় দুই ভিকটিমকে উদ্ধার এবং দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময়ে গাজীপুরের ল্যাভেন্ডার গ্রুপের চেয়ারম্যান এক চীনা নাগরিকের এক কোটি টাকা চুরির ঘটনায় মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করে ৮৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। কোটচাঁদপুরে অজ্ঞান করে এক কলেজ শিক্ষিকার কাছ থেকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় অজ্ঞান পার্টির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি ঝিনাইদহে আলোচিত অর্পিতা আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলার আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সাইবার সেল আরও জানায়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, টিকটক, টেলিগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাটসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিংয়ের শিকার ৪০ জন ভিকটিমকে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে নিখোঁজ হওয়া আটজন ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

মোবাইল ফোন ও টাকা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ মোসফেকুর রহমানসহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের কর্মকর্তা ও সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন্ হাছান বলেন, সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি ও অপপ্রচার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এসব অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মানুষের সচেতনতাই একটি নিরাপদ ডিজিটাল সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ অঙ্গীকারবদ্ধ।

Share this news as a Photo Card