ঢাকা, বাংলাদেশ || শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

ড্রোন হামলায় লিবিয়ায় তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পশ্চিমে অবস্থিত জাওয়িয়া তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে জরুরি সেবা সংস্থাগুলো কাজ করছে। দুই দিনের মধ্যে এটি সেখানে তৃতীয় হামলার ঘটনা। খবর বিবিসির।

সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় শোধনাগারটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়। দেশটির ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশন (এনওসি) জানিয়েছে, হামলায় প্রায় ৪৫ লাখ লিটার জ্বালানি ধারণক্ষম একটি ট্যাংকে সরাসরি আঘাত লাগে। এতে ট্যাংকটিতে আগুন ধরে যায় এবং একপর্যায়ে সেটি ধসে পড়ে।

হামলা অব্যাহত থাকলে শোধনাগারটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে এনওসি।

লিবিয়ার অ্যাম্বুলেন্স অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিস মঙ্গলবার জানায়, আগুনে কোনো ‘গুরুতর আহতের’ খবর পাওয়া যায়নি। বেশির ভাগ রোগীকে ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টের কারণে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

জাওয়িয়া শোধনাগারটি লিবিয়ার সবচেয়ে বড় চালু তেল শোধনাগার। প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে এর।

এনওসি জানায়, গত কয়েক দিনে জাওয়িয়ায় একই ধরনের আরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটি ন্যাফথা সংরক্ষণাগার ও একটি পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রে দুটি ড্রোন হামলাও রয়েছে। এসব হামলার পেছনে কারা রয়েছে, তা তদন্ত করে বের করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

হামলার ঘটনাগুলো লিবিয়ায় চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিতিশীলতার চিত্র আবারও সামনে এনেছে। সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর গৃহযুদ্ধ শুরু হলে দেশটি কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

১৯৬৯ সালে ক্ষমতা দখল করে প্রায় চার দশক লিবিয়া শাসন করেন কর্নেল গাদ্দাফি। ২০১১ সালে পশ্চিমা সামরিক হস্তক্ষেপের সহায়তায় শুরু হওয়া বিদ্রোহে তিনি ক্ষমতাচ্যুত ও পরে নিহত হন।

গাদ্দাফির পতনের পর থেকে দেশটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি শক্তিকেন্দ্র রাজনৈতিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে আসছে। পূর্বাঞ্চলভিত্তিক একটি পক্ষের সমর্থনে রয়েছেন সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতার। অন্যদিকে রাজধানী ত্রিপোলিভিত্তিক পশ্চিমাঞ্চলের সরকার পরিচালনা করছেন প্রধানমন্ত্রী আবদুলহামিদ দবেইবাহ।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
23 October 2026

শিশুকে যৌন নিপীড়নের কথা স্বীকার করতেই মাদ্রাসা শিক্ষককে পেটালেন শিশুটির বাবা, ভিডিও ভাইরাল

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com

ড্রোন হামলায় লিবিয়ায় তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৫:২২:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পশ্চিমে অবস্থিত জাওয়িয়া তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে জরুরি সেবা সংস্থাগুলো কাজ করছে। দুই দিনের মধ্যে এটি সেখানে তৃতীয় হামলার ঘটনা। খবর বিবিসির।

সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় শোধনাগারটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়। দেশটির ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশন (এনওসি) জানিয়েছে, হামলায় প্রায় ৪৫ লাখ লিটার জ্বালানি ধারণক্ষম একটি ট্যাংকে সরাসরি আঘাত লাগে। এতে ট্যাংকটিতে আগুন ধরে যায় এবং একপর্যায়ে সেটি ধসে পড়ে।

হামলা অব্যাহত থাকলে শোধনাগারটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে এনওসি।

লিবিয়ার অ্যাম্বুলেন্স অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিস মঙ্গলবার জানায়, আগুনে কোনো ‘গুরুতর আহতের’ খবর পাওয়া যায়নি। বেশির ভাগ রোগীকে ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টের কারণে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

জাওয়িয়া শোধনাগারটি লিবিয়ার সবচেয়ে বড় চালু তেল শোধনাগার। প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে এর।

এনওসি জানায়, গত কয়েক দিনে জাওয়িয়ায় একই ধরনের আরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটি ন্যাফথা সংরক্ষণাগার ও একটি পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রে দুটি ড্রোন হামলাও রয়েছে। এসব হামলার পেছনে কারা রয়েছে, তা তদন্ত করে বের করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

হামলার ঘটনাগুলো লিবিয়ায় চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিতিশীলতার চিত্র আবারও সামনে এনেছে। সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর গৃহযুদ্ধ শুরু হলে দেশটি কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

১৯৬৯ সালে ক্ষমতা দখল করে প্রায় চার দশক লিবিয়া শাসন করেন কর্নেল গাদ্দাফি। ২০১১ সালে পশ্চিমা সামরিক হস্তক্ষেপের সহায়তায় শুরু হওয়া বিদ্রোহে তিনি ক্ষমতাচ্যুত ও পরে নিহত হন।

গাদ্দাফির পতনের পর থেকে দেশটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি শক্তিকেন্দ্র রাজনৈতিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে আসছে। পূর্বাঞ্চলভিত্তিক একটি পক্ষের সমর্থনে রয়েছেন সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতার। অন্যদিকে রাজধানী ত্রিপোলিভিত্তিক পশ্চিমাঞ্চলের সরকার পরিচালনা করছেন প্রধানমন্ত্রী আবদুলহামিদ দবেইবাহ।

Share this news as a Photo Card