ঢাকা, বাংলাদেশ। , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
বাড়তি দাম দিয়েও মিলছে না সিলিন্ডার ॥ দুর্ভোগ চরমে

তীব্র এলপিজি গ্যাস সংকটে রাজশাহীবাসী

অপু দাস
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৭:৩৯:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৮৪ বার পঠিত
অপু দাস: রাজশাহীতে হঠাৎ করেই এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করেও অনেক ভোক্তা সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে পারছেন না। ফলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ডিলার পর্যায় থেকে নিয়মিত ও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে অর্ডার দেওয়ার পরও প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক কিংবা তারও কম সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে দোকানগুলোতে গ্যাস এলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে।
বিক্রেতাদের অভিযোগ, সংকটের সুযোগে কিছু ক্ষেত্রে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হলেও সিলিন্ডারের সংখ্যা খুবই সীমিত থাকছে। ফলে তারা ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না। এতে দোকানদারদের সঙ্গে ক্রেতাদের অসন্তোষ ও ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।
ভোক্তারা জানান, এক সপ্তাহ আগেও যে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ১ হাজার ২৫০ টাকায় কেনা যেত, বর্তমানে সেটির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতিটি সিলিন্ডারের জন্য অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে ৩৫০ টাকা গুনতে হচ্ছে। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারের রান্নার খরচ বেড়ে গেছে, যা সংসার পরিচালনায় নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।
বাজার পরিদর্শনে দেখা গেছে, রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে মূলত ওমেরা ও ফ্রেশ ব্র্যান্ডের এলপিজি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য কোম্পানির সিলিন্ডার খুব কমই দেখা যাচ্ছে বা একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না। বিকল্প ব্র্যান্ডের অভাবে ক্রেতারা বাধ্য হয়ে নির্দিষ্ট কয়েকটি কোম্পানির গ্যাস বেশি দামে কিনছেন।
এদিকে হোটেল, রেস্তোরাঁ, চা দোকান ও খাবার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মালিকরা বলছেন, গ্যাসের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাদের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে লোকসান দিয়েও ব্যবসা চালাতে হচ্ছে। কেউ কেউ রান্নার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন, আবার কেউ দোকান আংশিক সময়ের জন্য বন্ধ রাখছেন।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তাদের পক্ষে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে কর্মসংস্থান হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।
অন্যদিকে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ডিলারদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। ডিলারদের নীরবতায় সংকটের প্রকৃত কারণ নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ বাড়ছে।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করা, কৃত্রিম সংকট বন্ধ করা এবং বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

বাড়তি দাম দিয়েও মিলছে না সিলিন্ডার ॥ দুর্ভোগ চরমে

তীব্র এলপিজি গ্যাস সংকটে রাজশাহীবাসী

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৭:৩৯:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
অপু দাস: রাজশাহীতে হঠাৎ করেই এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করেও অনেক ভোক্তা সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে পারছেন না। ফলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ডিলার পর্যায় থেকে নিয়মিত ও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে অর্ডার দেওয়ার পরও প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক কিংবা তারও কম সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে দোকানগুলোতে গ্যাস এলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে।
বিক্রেতাদের অভিযোগ, সংকটের সুযোগে কিছু ক্ষেত্রে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হলেও সিলিন্ডারের সংখ্যা খুবই সীমিত থাকছে। ফলে তারা ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না। এতে দোকানদারদের সঙ্গে ক্রেতাদের অসন্তোষ ও ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।
ভোক্তারা জানান, এক সপ্তাহ আগেও যে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ১ হাজার ২৫০ টাকায় কেনা যেত, বর্তমানে সেটির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতিটি সিলিন্ডারের জন্য অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে ৩৫০ টাকা গুনতে হচ্ছে। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারের রান্নার খরচ বেড়ে গেছে, যা সংসার পরিচালনায় নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।
বাজার পরিদর্শনে দেখা গেছে, রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে মূলত ওমেরা ও ফ্রেশ ব্র্যান্ডের এলপিজি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য কোম্পানির সিলিন্ডার খুব কমই দেখা যাচ্ছে বা একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না। বিকল্প ব্র্যান্ডের অভাবে ক্রেতারা বাধ্য হয়ে নির্দিষ্ট কয়েকটি কোম্পানির গ্যাস বেশি দামে কিনছেন।
এদিকে হোটেল, রেস্তোরাঁ, চা দোকান ও খাবার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মালিকরা বলছেন, গ্যাসের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাদের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে লোকসান দিয়েও ব্যবসা চালাতে হচ্ছে। কেউ কেউ রান্নার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন, আবার কেউ দোকান আংশিক সময়ের জন্য বন্ধ রাখছেন।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তাদের পক্ষে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে কর্মসংস্থান হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।
অন্যদিকে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ডিলারদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। ডিলারদের নীরবতায় সংকটের প্রকৃত কারণ নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ বাড়ছে।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করা, কৃত্রিম সংকট বন্ধ করা এবং বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন।