ঢাকা, বাংলাদেশ। , সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

নবীনগরে সরকারি জমি দখল করে চলছে বালুর ব্যবসা

আবু হাসান আপন , নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধি। 
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:৫৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
  • / ৬৭ বার পঠিত

 

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের ভিটি বিশাড়া গ্রামে সরকারি অধিগ্রহণকৃত জায়গায় বালু ভরাট করে বালু ব্যবসা চালাচ্ছে প্রভাবশালীরা।  ওই প্রভাবশালীদের  বিরুদ্ধে  গতকাল বুধবার (২৩/০৭) স্থানীয় এলাকার প্রায় অর্ধশত লোকের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে দাখিল করা হয়।

 

অভিযোগ  সূত্রে জানা যায়, ভিটিবিশাড়া গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বায়তুল মামুন মসজিদের সামনে ও যমুনা নদীর পাড়ে  সরকারি অধিগ্রহণকৃত ভূমি এলাকার প্রভাবশালী সোহাগ মিয়া ও জয়নাল মিয়া দখল করে বালি দিয়ে ভরাট করে  বালু ব্যবসার চালিয়ে আসছে।

 

যমুনা নদীর পাড়ে দখলকৃত সরকারি জায়গায় একটি সরকারি  গণঘাটলা রয়েছে। ওই ঘাটলা দিয়ে এলাকার নারী পুরুষরা নদীতে গোসল ও নিত্য প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করে। নদীর পাড়ে সরকারি জায়গায় বালু ব্যবসা করার ফলে লোক সমাগম থাকায় বিশেষ করে নারীরা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এলাকাবাসীরা আশঙ্কা করছেন, জায়গাটি ভরাটের ফলে ভারী ট্রাক চলাচল করায় ঘাটলার পাশেই নির্মিত কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি নতুন ব্রিজ ও রাস্তা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার নিষেধ করার পরও অভিযুক্তরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা স্থানীয় প্রভাব ও রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে সরকারি জমি দখল করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,স্থানীয় প্রভাবশালী জয়নাল সরকার ও সোহাগ আহমেদ ভিটি বিশাড়া দক্ষিণ পাড়া বাইতুল মামুন মসজিদ সামনে খলা ঘাট ব্রিজ সংলগ্ন যমুনা নদীর পাড়ের  সরকারি অধিগ্রহনকৃত জায়গা ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ভরাট করে বালু ব্যবসার চালিয়ে যাচ্ছে।

 

বায়তুল মামুন জামে মসজিদের সেক্রেটারি মিজানুর রহমান বলেন, “মসজিদের সামনে এমন অবৈধ কার্যক্রম ধর্মীয় পরিবেশ নষ্ট করছে। নারীদের চলাফেরাতেও সমস্যা হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সোহাগ ও জয়নাল মিয়া বলেন, আমরা এখানকার কৃষকের জমি কট রেখে বালু  ভরাট করে বালু ব্যবসা করছি, এখানে সরকারি খাস জায়গায় আছে কিনা আমি জানিনা, যদি কোন সরকারের জায়গা থাকে আমরা ছেড়ে দেব। কৃষি জমি ভরাটে শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন না শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়নি।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব চৌধুরী অভিযোগ প্রাপ্তি স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সরকারি কমিশনার (ভূমি)কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত পূর্বক  অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

নবীনগরে সরকারি জমি দখল করে চলছে বালুর ব্যবসা

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:৫৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫

 

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের ভিটি বিশাড়া গ্রামে সরকারি অধিগ্রহণকৃত জায়গায় বালু ভরাট করে বালু ব্যবসা চালাচ্ছে প্রভাবশালীরা।  ওই প্রভাবশালীদের  বিরুদ্ধে  গতকাল বুধবার (২৩/০৭) স্থানীয় এলাকার প্রায় অর্ধশত লোকের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে দাখিল করা হয়।

 

অভিযোগ  সূত্রে জানা যায়, ভিটিবিশাড়া গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বায়তুল মামুন মসজিদের সামনে ও যমুনা নদীর পাড়ে  সরকারি অধিগ্রহণকৃত ভূমি এলাকার প্রভাবশালী সোহাগ মিয়া ও জয়নাল মিয়া দখল করে বালি দিয়ে ভরাট করে  বালু ব্যবসার চালিয়ে আসছে।

 

যমুনা নদীর পাড়ে দখলকৃত সরকারি জায়গায় একটি সরকারি  গণঘাটলা রয়েছে। ওই ঘাটলা দিয়ে এলাকার নারী পুরুষরা নদীতে গোসল ও নিত্য প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করে। নদীর পাড়ে সরকারি জায়গায় বালু ব্যবসা করার ফলে লোক সমাগম থাকায় বিশেষ করে নারীরা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এলাকাবাসীরা আশঙ্কা করছেন, জায়গাটি ভরাটের ফলে ভারী ট্রাক চলাচল করায় ঘাটলার পাশেই নির্মিত কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি নতুন ব্রিজ ও রাস্তা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার নিষেধ করার পরও অভিযুক্তরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা স্থানীয় প্রভাব ও রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে সরকারি জমি দখল করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,স্থানীয় প্রভাবশালী জয়নাল সরকার ও সোহাগ আহমেদ ভিটি বিশাড়া দক্ষিণ পাড়া বাইতুল মামুন মসজিদ সামনে খলা ঘাট ব্রিজ সংলগ্ন যমুনা নদীর পাড়ের  সরকারি অধিগ্রহনকৃত জায়গা ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ভরাট করে বালু ব্যবসার চালিয়ে যাচ্ছে।

 

বায়তুল মামুন জামে মসজিদের সেক্রেটারি মিজানুর রহমান বলেন, “মসজিদের সামনে এমন অবৈধ কার্যক্রম ধর্মীয় পরিবেশ নষ্ট করছে। নারীদের চলাফেরাতেও সমস্যা হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সোহাগ ও জয়নাল মিয়া বলেন, আমরা এখানকার কৃষকের জমি কট রেখে বালু  ভরাট করে বালু ব্যবসা করছি, এখানে সরকারি খাস জায়গায় আছে কিনা আমি জানিনা, যদি কোন সরকারের জায়গা থাকে আমরা ছেড়ে দেব। কৃষি জমি ভরাটে শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন না শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়নি।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব চৌধুরী অভিযোগ প্রাপ্তি স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সরকারি কমিশনার (ভূমি)কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত পূর্বক  অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।