ঢাকা, বাংলাদেশ। , সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

নিম্নমানের ইট দিয়ে চলা নির্মাণকাজের সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার হুমকি

প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:৩১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৩৬ বার পঠিত

মোমিন ইসলাম, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :-

 জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠের নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট দিয়ে করা নির্মাণকাজের সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিককে দেখা নেওয়ার হুমকি দিয়ে জাককানইবি প্রতিনিধির মুঠোফোনে ছবি তুলে রাখেন তুসিবা এন্টারপ্রাইজ এর ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির।

১৪ আগস্ট দুপুর ১১ টার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের সামনের অংশের কাজ চলাকালীন সময়ে এ ঘটনা ঘটে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় চলাচলের জন্য নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ইটের অধিকাংশই নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এসময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিককে হুমকি দিয়ে ঐ সাব্বির বলেন ‘এতোদিন আমাদের ছবি তুলে ভাইরাল করেছেন আজকে আপনার ছবি আমরা তুলি’। এছাড়াও প্রতিবেদককে নিউজের বিষয়ে ব্যঙ্গ করে বলেন “ভালো করে লিখিয়েন, বেশি করে লিইখেন, যা পারবেন কইরেন ইত্যাদি ।”

সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তুসিবা এন্টারপ্রাইজ এর মালিক সিরাজউদ্দীনের দাবি প্রকল্প দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের অনুমতিতেই কাজ চলছে। তারা এসে মাঝে মধ্যেই পর্যবেক্ষণ করে যায় তারা অনুমতি না দিলে আমরা কি কোন কাজ করতে পারবো?

এরপর মুঠোফোনে প্রকল্পের তত্বাবধানে থাকা প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী পরিচালক মোঃ রাহাত হাসান দিদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সহকারী প্রকৌশলী (ইন্সট্রুমেন্ট) জনাব মিজানুর রহমানকে ঘটনাস্থলে পাঠান। এতে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত নিম্নমানের ইটের বিষয়টি স্বীকার করলেও এ বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে চাননি। এতে আবারও রাহাত হাসান দিদারের যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনা স্হলে উপস্থিত হন এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরতদের এসব ইট দিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দেন।

প্রকল্পের এমন নিম্নমানের ইটের ব্যবহারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির মালিকের দাবি এবং সংবাদ সংগ্রহকালীন সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানিক কোন পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিষয়টি অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) সৈয়দ মোফাছিরুল ইসলাম বলেন, ওরা এগুলো বলবে নতুন ঠিকাদার তো। আমি অলরেডি ইঞ্জিনিয়ার দপ্তরের মাহবুব স্যারকে বলেছি আপনাদের মনিটরিং টিম পাঠাতে হবে, একবার পাঠালে হবেনা দিনে অন্তত দুই-তিন বার পাঠাতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আগামী রবিবারে আমি একটা চিঠি পাঠাবো”।

এছাড়াও সাংবাদিকের সাথে দুর্ব্যবহাকারী ইঞ্জিনিয়ার সাব্বিরের বিষয়ে তিনি বলেন, “আজকে আমরা যেভাবে বলেছি ওরে নেক্সট টাইম আর এরকম করার কথা না৷ এগুলো তো ছোটখাটো জিনিস, ফাস্ট টাইম তো ওদের ক্ষমা করে দেওয়াই ভালো।”

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

নিম্নমানের ইট দিয়ে চলা নির্মাণকাজের সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার হুমকি

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:৩১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫

মোমিন ইসলাম, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :-

 জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠের নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট দিয়ে করা নির্মাণকাজের সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিককে দেখা নেওয়ার হুমকি দিয়ে জাককানইবি প্রতিনিধির মুঠোফোনে ছবি তুলে রাখেন তুসিবা এন্টারপ্রাইজ এর ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির।

১৪ আগস্ট দুপুর ১১ টার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের সামনের অংশের কাজ চলাকালীন সময়ে এ ঘটনা ঘটে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় চলাচলের জন্য নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ইটের অধিকাংশই নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এসময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিককে হুমকি দিয়ে ঐ সাব্বির বলেন ‘এতোদিন আমাদের ছবি তুলে ভাইরাল করেছেন আজকে আপনার ছবি আমরা তুলি’। এছাড়াও প্রতিবেদককে নিউজের বিষয়ে ব্যঙ্গ করে বলেন “ভালো করে লিখিয়েন, বেশি করে লিইখেন, যা পারবেন কইরেন ইত্যাদি ।”

সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তুসিবা এন্টারপ্রাইজ এর মালিক সিরাজউদ্দীনের দাবি প্রকল্প দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের অনুমতিতেই কাজ চলছে। তারা এসে মাঝে মধ্যেই পর্যবেক্ষণ করে যায় তারা অনুমতি না দিলে আমরা কি কোন কাজ করতে পারবো?

এরপর মুঠোফোনে প্রকল্পের তত্বাবধানে থাকা প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী পরিচালক মোঃ রাহাত হাসান দিদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সহকারী প্রকৌশলী (ইন্সট্রুমেন্ট) জনাব মিজানুর রহমানকে ঘটনাস্থলে পাঠান। এতে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত নিম্নমানের ইটের বিষয়টি স্বীকার করলেও এ বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে চাননি। এতে আবারও রাহাত হাসান দিদারের যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনা স্হলে উপস্থিত হন এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরতদের এসব ইট দিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দেন।

প্রকল্পের এমন নিম্নমানের ইটের ব্যবহারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির মালিকের দাবি এবং সংবাদ সংগ্রহকালীন সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানিক কোন পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিষয়টি অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) সৈয়দ মোফাছিরুল ইসলাম বলেন, ওরা এগুলো বলবে নতুন ঠিকাদার তো। আমি অলরেডি ইঞ্জিনিয়ার দপ্তরের মাহবুব স্যারকে বলেছি আপনাদের মনিটরিং টিম পাঠাতে হবে, একবার পাঠালে হবেনা দিনে অন্তত দুই-তিন বার পাঠাতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আগামী রবিবারে আমি একটা চিঠি পাঠাবো”।

এছাড়াও সাংবাদিকের সাথে দুর্ব্যবহাকারী ইঞ্জিনিয়ার সাব্বিরের বিষয়ে তিনি বলেন, “আজকে আমরা যেভাবে বলেছি ওরে নেক্সট টাইম আর এরকম করার কথা না৷ এগুলো তো ছোটখাটো জিনিস, ফাস্ট টাইম তো ওদের ক্ষমা করে দেওয়াই ভালো।”