ঢাকা, বাংলাদেশ || বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

পৌর ভূমি অফিসে জনবল সংকট, সেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে মানুষ

শাহজাহান খন্দকার, উলিপুর (কুড়িগ্রাম):   কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌর ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত ভূমি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। খারিজ, খাজনা পরিশোধ, জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাইসহ বিভিন্ন সেবা পেতে বিলম্ব হওয়ায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একটি পৌর ভূমি অফিসে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা—এই দুইটি পদে কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে পুরো অফিসের দায়িত্ব পালন করছেন শুধু ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা বিধান চন্দ্র বর্মণ। ফলে একজন কর্মকর্তার ওপর পুরো অফিসের কার্যক্রম পরিচালনার চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন মৌজা থেকে আসা সেবাপ্রত্যাশীরা প্রয়োজনীয় কাজের জন্য অফিসে এসে অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, একজন কর্মকর্তার পক্ষে একটি পৌর ভূমি অফিসের বিপুল কর্মচাপ সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। তাই দ্রুত শূন্য পদে জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আব্দুল হাকিম মৌজার এক সেবাগ্রহীতা জানান, গত তিন সপ্তাহ ধরে তিনি খারিজের প্রস্তাব নেওয়ার জন্য অফিসে আসছেন। কয়েকবার এসেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাননি। সর্বশেষ গত ৫ জুলাই অফিসে এসে জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সাত দিনের ছুটিতে রয়েছেন। এতে তাঁর আবেদন নিষ্পত্তি আরও বিলম্বিত হয়েছে।
নারিকেলবাড়ী মৌজার বাসিন্দা করিম মিয়া বলেন, “খাজনা দিতে এসে দেখি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নেই। তাই কাজ না করেই ফিরে যেতে হয়েছে।”
একই মৌজার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সেবাগ্রহীতা বলেন, “খারিজের আবেদন করেছি। প্রস্তাব নেওয়ার জন্য কয়েকবার অফিসে এসেছি। কিন্তু কর্মকর্তাকে না পাওয়ায় এখনো কাজ শেষ করতে পারিনি।”
উলিপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের এক দলিল লেখক বলেন, দলিল নিবন্ধনের আগে জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও খাজনা পরিশোধ বাধ্যতামূলক। কিন্তু পৌর ভূমি অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে না পাওয়ায় অনেকের দলিল নিবন্ধনের কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।
আরেক সেবাগ্রহীতা বলেন, “পৌর ভূমি অফিসে যদি দুইজন কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকতেন, তাহলে একজন অনুপস্থিত থাকলেও অন্যজনের মাধ্যমে অন্তত প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যেত। কাউকে খালি হাতে ফিরে যেতে হতো না।”
সেবাপ্রত্যাশী আমিনুল ইসলাম ও খন্দকার মোসারফ হোসেন বলেন, “এর আগে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির দায়িত্ব পালনকালে নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থেকে দ্রুত সেবা প্রদান করতেন। বর্তমানে সেই মানের সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁকে পুনরায় উলিপুর পৌর ভূমি অফিসে দায়িত্ব দেওয়া হলে সেবার মান আগের মতো ফিরে আসবে।”
সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় শুধু জনদুর্ভোগই বাড়ছে না, সরকারের রাজস্ব আদায়ও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কর্মজীবী মানুষ স্বল্প সময় নিয়ে অফিসে এসেও প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে উলিপুর পৌর ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা বিধান চন্দ্র বর্মণ বলেন, “আমি বর্তমানে অসুস্থতাজনিত ছুটিতে রয়েছি। আগামী ৯ জুলাই অফিসে যোগদান করব। শুধু একজন অফিস সহায়ক দিয়ে সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। আমাদের অফিসে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অফিসিয়ালভাবে জানিয়েছি।”
উলিপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস. এম. মেহেদী হাসান বলেন, “জনবল নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। উলিপুর পৌর ভূমি অফিসের জনবল সংকটের বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। আমি দায়িত্ব গ্রহণের আগেও বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল।”
উলিপুরবাসীর দাবি, দ্রুত শূন্য পদ পূরণ, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে জনভোগান্তি কমবে, ভূমি সেবার মান উন্নত হবে এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ও স্বাভাবিক থাকবে।

Share this news as a Photo Card

14 October 2026

পিরোজপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা অভিযান

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com

পৌর ভূমি অফিসে জনবল সংকট, সেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে মানুষ

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৪:০১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
শাহজাহান খন্দকার, উলিপুর (কুড়িগ্রাম):   কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌর ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত ভূমি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। খারিজ, খাজনা পরিশোধ, জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাইসহ বিভিন্ন সেবা পেতে বিলম্ব হওয়ায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একটি পৌর ভূমি অফিসে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা—এই দুইটি পদে কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে পুরো অফিসের দায়িত্ব পালন করছেন শুধু ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা বিধান চন্দ্র বর্মণ। ফলে একজন কর্মকর্তার ওপর পুরো অফিসের কার্যক্রম পরিচালনার চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন মৌজা থেকে আসা সেবাপ্রত্যাশীরা প্রয়োজনীয় কাজের জন্য অফিসে এসে অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, একজন কর্মকর্তার পক্ষে একটি পৌর ভূমি অফিসের বিপুল কর্মচাপ সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। তাই দ্রুত শূন্য পদে জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আব্দুল হাকিম মৌজার এক সেবাগ্রহীতা জানান, গত তিন সপ্তাহ ধরে তিনি খারিজের প্রস্তাব নেওয়ার জন্য অফিসে আসছেন। কয়েকবার এসেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাননি। সর্বশেষ গত ৫ জুলাই অফিসে এসে জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সাত দিনের ছুটিতে রয়েছেন। এতে তাঁর আবেদন নিষ্পত্তি আরও বিলম্বিত হয়েছে।
নারিকেলবাড়ী মৌজার বাসিন্দা করিম মিয়া বলেন, “খাজনা দিতে এসে দেখি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নেই। তাই কাজ না করেই ফিরে যেতে হয়েছে।”
একই মৌজার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সেবাগ্রহীতা বলেন, “খারিজের আবেদন করেছি। প্রস্তাব নেওয়ার জন্য কয়েকবার অফিসে এসেছি। কিন্তু কর্মকর্তাকে না পাওয়ায় এখনো কাজ শেষ করতে পারিনি।”
উলিপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের এক দলিল লেখক বলেন, দলিল নিবন্ধনের আগে জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও খাজনা পরিশোধ বাধ্যতামূলক। কিন্তু পৌর ভূমি অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে না পাওয়ায় অনেকের দলিল নিবন্ধনের কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।
আরেক সেবাগ্রহীতা বলেন, “পৌর ভূমি অফিসে যদি দুইজন কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকতেন, তাহলে একজন অনুপস্থিত থাকলেও অন্যজনের মাধ্যমে অন্তত প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যেত। কাউকে খালি হাতে ফিরে যেতে হতো না।”
সেবাপ্রত্যাশী আমিনুল ইসলাম ও খন্দকার মোসারফ হোসেন বলেন, “এর আগে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির দায়িত্ব পালনকালে নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থেকে দ্রুত সেবা প্রদান করতেন। বর্তমানে সেই মানের সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁকে পুনরায় উলিপুর পৌর ভূমি অফিসে দায়িত্ব দেওয়া হলে সেবার মান আগের মতো ফিরে আসবে।”
সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় শুধু জনদুর্ভোগই বাড়ছে না, সরকারের রাজস্ব আদায়ও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কর্মজীবী মানুষ স্বল্প সময় নিয়ে অফিসে এসেও প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে উলিপুর পৌর ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা বিধান চন্দ্র বর্মণ বলেন, “আমি বর্তমানে অসুস্থতাজনিত ছুটিতে রয়েছি। আগামী ৯ জুলাই অফিসে যোগদান করব। শুধু একজন অফিস সহায়ক দিয়ে সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। আমাদের অফিসে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অফিসিয়ালভাবে জানিয়েছি।”
উলিপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস. এম. মেহেদী হাসান বলেন, “জনবল নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। উলিপুর পৌর ভূমি অফিসের জনবল সংকটের বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। আমি দায়িত্ব গ্রহণের আগেও বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল।”
উলিপুরবাসীর দাবি, দ্রুত শূন্য পদ পূরণ, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে জনভোগান্তি কমবে, ভূমি সেবার মান উন্নত হবে এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ও স্বাভাবিক থাকবে।

Share this news as a Photo Card