ঢাকা, বাংলাদেশ। , সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

প্রসূতি মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আল মদিনা হাসপাতালে হামলা–লুটপাটের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও কর্মবিরতি

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:০৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৪৬ বার পঠিত
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আল মদিনা জেনারেল হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও কর্মবিরতি পালন করেছে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতি।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় দেবিদ্বার নিউমার্কেট এলাকার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সহস্রাধিক চিকিৎসক, মালিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী। মানববন্ধন শেষে দ্রুত বিচারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ তাজুল ইসলাম সরকার, সাধারণ সম্পাদক ভিপি ময়নাল হোসেন, সহ সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল কালাম আজাদ, দেবিদ্বার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ আবদুল আলীম সরকার, সাধারণ সম্পাদক মোঃ তমিজ উদ্দিন, আল মদিনা হাসপাতালের কো-চেয়ারম্যান সুলতান আহাম্মদ মুন্সী, সততা হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুস, জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. শাহীন আলম সরকার ও শিশু মাতৃ হাসপাতালের এমডি আতিকুল ইসলাম সরকারসহ বহু চিকিৎসক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
এর আগে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে দেবিদ্বার মা’-মনি’ হাসপাতাল মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আল মদিনা হাসপাতালের কো-চেয়ারম্যান সুলতান আহাম্মদ মুন্সী হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রাইভেট হাসপাতাল মালিক সমিতির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক ময়নাল হোসেন ভিপি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সোহাগ রানা সোহেল, সহ-সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সেন্ট্রাল হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও পৌর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল আলীম, দেবিদ্বার জেনারেল হাসপাতালের এমডি ডা. শাহীন আলম, আল মদিনার এমডি মোবারক হোসেন, মডার্ন হাসপাতালের পরিচালক তমিজ উদ্দিনসহ উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালকবৃন্দ।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ৪ ডিসেম্বর রাতে মুমূর্ষু অবস্থায় লিজা আক্তার নামে এক প্রসূতীকে আল মদিনা হাসপাতালে আনা হয়। ডেলিভারির পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা দ্রুত তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রেফার করার পর পথেই প্রসূতীর মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর উসকানিতে কিছু বহিরাগত সন্ত্রাসী রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালে হামলা চালায়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হামলাকারীরা হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষ, থাই গ্লাস, দরজা-জানালা, লোহার গেট, চেয়ার-টেবিলসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে।
এছাড়াও তারা ক্যাশ কাউন্টার ভেঙে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩৪৯ টাকা এবং ল্যাপটপ, কম্পিউটার, এক্স-রে মেশিন, থ্রি-ডি আলট্রাসনো মেশিন, প্যাথলজি সরঞ্জামসহ মোট ৪ লাখ ৬০ হাজার ১৪৯ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মারধর করা হয় এবং জীবননাশের হুমকিও দেওয়া হয়। হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরাও হামলাকারীদের আঘাত থেকে বাঁচতে প্রাণপণে চেষ্টা করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, হামলার সময় তারা জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে দ্রুত দেবিদ্বার থানা পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও তদন্তের জন্য পুলিশকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত, লুট হওয়া টাকাপত্র ও মালামাল উদ্ধার, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভবিষ্যতে হাসপাতাল ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

প্রসূতি মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আল মদিনা হাসপাতালে হামলা–লুটপাটের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও কর্মবিরতি

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:০৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আল মদিনা জেনারেল হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও কর্মবিরতি পালন করেছে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতি।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় দেবিদ্বার নিউমার্কেট এলাকার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সহস্রাধিক চিকিৎসক, মালিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী। মানববন্ধন শেষে দ্রুত বিচারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ তাজুল ইসলাম সরকার, সাধারণ সম্পাদক ভিপি ময়নাল হোসেন, সহ সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল কালাম আজাদ, দেবিদ্বার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ আবদুল আলীম সরকার, সাধারণ সম্পাদক মোঃ তমিজ উদ্দিন, আল মদিনা হাসপাতালের কো-চেয়ারম্যান সুলতান আহাম্মদ মুন্সী, সততা হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুস, জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. শাহীন আলম সরকার ও শিশু মাতৃ হাসপাতালের এমডি আতিকুল ইসলাম সরকারসহ বহু চিকিৎসক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
এর আগে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে দেবিদ্বার মা’-মনি’ হাসপাতাল মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আল মদিনা হাসপাতালের কো-চেয়ারম্যান সুলতান আহাম্মদ মুন্সী হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রাইভেট হাসপাতাল মালিক সমিতির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক ময়নাল হোসেন ভিপি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সোহাগ রানা সোহেল, সহ-সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সেন্ট্রাল হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও পৌর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল আলীম, দেবিদ্বার জেনারেল হাসপাতালের এমডি ডা. শাহীন আলম, আল মদিনার এমডি মোবারক হোসেন, মডার্ন হাসপাতালের পরিচালক তমিজ উদ্দিনসহ উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালকবৃন্দ।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ৪ ডিসেম্বর রাতে মুমূর্ষু অবস্থায় লিজা আক্তার নামে এক প্রসূতীকে আল মদিনা হাসপাতালে আনা হয়। ডেলিভারির পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা দ্রুত তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রেফার করার পর পথেই প্রসূতীর মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর উসকানিতে কিছু বহিরাগত সন্ত্রাসী রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালে হামলা চালায়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হামলাকারীরা হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষ, থাই গ্লাস, দরজা-জানালা, লোহার গেট, চেয়ার-টেবিলসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে।
এছাড়াও তারা ক্যাশ কাউন্টার ভেঙে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩৪৯ টাকা এবং ল্যাপটপ, কম্পিউটার, এক্স-রে মেশিন, থ্রি-ডি আলট্রাসনো মেশিন, প্যাথলজি সরঞ্জামসহ মোট ৪ লাখ ৬০ হাজার ১৪৯ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মারধর করা হয় এবং জীবননাশের হুমকিও দেওয়া হয়। হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরাও হামলাকারীদের আঘাত থেকে বাঁচতে প্রাণপণে চেষ্টা করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, হামলার সময় তারা জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে দ্রুত দেবিদ্বার থানা পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও তদন্তের জন্য পুলিশকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত, লুট হওয়া টাকাপত্র ও মালামাল উদ্ধার, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভবিষ্যতে হাসপাতাল ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।