অপু দাস,রাজশাহী: বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং চাকরি সরকারীকরণের দাবিতে রাজশাহীতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এআই (আর্টিফিশিয়াল ইনসেমিনেশন) টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতির নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। একই সঙ্গে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
দুপুর ১২টা থেকে রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার এআই টেকনিশিয়ানরা ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সামনে জড়ো হন। পরে তারা বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বৈষম্য, বকেয়া বেতন-ভাতা এবং চাকরির স্থায়ীকরণের দাবি তুলে ধরেন তারা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দেশের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম পরিচালনা এবং উন্নত জাতের পশু উৎপাদনে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও তারা ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত। বহু বছর ধরে নিয়মিত বেতন-ভাতা না পাওয়ায় অধিকাংশ টেকনিশিয়ান পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
সমিতির নেতারা বলেন, মাঠপর্যায়ে প্রতিদিন খামারিদের দোরগোড়ায় গিয়ে কৃত্রিম প্রজনন সেবা দিয়ে দেশের দুগ্ধ ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধিতে তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। কিন্তু তাদের সেই অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার দাবি জানানো হলেও সমস্যার কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি।
তাদের ভাষ্য, প্রায় ৩০ বছর ধরে প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে কাজ করলেও এখনো চাকরি সরকারীকরণ হয়নি। আগে মাসিক দুই হাজার টাকা সম্মানী দেওয়া হলেও সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ তাদের কার্যক্রম থেকে গত অর্থবছরে সরকারি রাজস্ব খাতে প্রায় ১২ কোটি টাকা জমা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
আন্দোলনকারীরা আরও বলেন, এটি কোনো প্রতীকী কর্মসূচি নয়, বরং টিকে থাকার লড়াই। বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং চাকরি সরকারীকরণের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হবে না। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম প্রজনন (এআই) সেবাও বন্ধ থাকবে বলে জানান তারা।
অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এআই টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতির রাজশাহী জেলা সভাপতি মো. মাসুদ রানা, নওগাঁ জেলা সভাপতি মোস্তাক আহম্মেদ, নাটোর জেলা সভাপতি এস. এম. কায়কোবাদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমানসহ চার জেলার নেতৃবৃন্দ ও বিপুলসংখ্যক এআই টেকনিশিয়ান।
কর্মসূচি থেকে দ্রুত দাবি বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। একই সঙ্গে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।

অপু দাস,রাজশাহী 



















