ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
তাজা খবর
“কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন
উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ১৪৪ তম খুলনা দিবস!
চট্রগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হোমনার বাঘা শরীফ
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
বাংলাদেশে প্রথমবার পালিত হলো তিলকা মাঝি দিবস

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:৫৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৮২ বার পঠিত

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: খেরওয়াল বিদ্রোহের অবিসংবাদিত নেতা ও ব্রিটিশ শাসনবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রদূত তিলকা মাঝির স্মরণে বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো পালিত হলো ‘তিলকা মাঝি দিবস’। দিবসটি উপলক্ষে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় আলোচনা সভাসহ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে গোদাগাড়ী উপজেলার সাঁওতাল অধ্যুষিত বর্ষাপাড়া রক্ষাগোলা গ্রাম সমাজ সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির আয়োজনে এবং সিসিবিভিও, রাজশাহী ও জার্মানির আন্তর্জাতিক সংস্থা ব্রেড ফর দি ওয়ার্ল্ডের সহযোগিতায় দিনব্যাপী এই দিবস পালিত হয়।
দিবসের শুরুতে তিলকা মাঝি, খেরওয়াল বিদ্রোহের শহীদ এবং নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের আন্দোলনে আত্মদানকারী সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।
বর্ষাপাড়া রক্ষাগোলা গ্রাম সমাজ সংগঠনের মাঞ্জি হাড়াম রাজেন টুডুর সভাপতিত্বে এবং সিসিবিভিও’র কর্মসূচি কর্মকর্তা যোশেফ রামদাস হাঁসদার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিসিবিভিও’র সভাপতি প্রফেসর মোহাম্মদ আবদুস সালাম, সিসিবিভিও’র নির্বাহী প্রধান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সারওয়ার-ই-কামাল স্বপন, দৈনিক প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার আবুল কালাম আজাদ এবং সিসিবিভিও সমন্বয়কারী আরিফ ইথার।
আলোচনা সভার শুরুতে সভাপতির প্রারম্ভিক বক্তব্যের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। পরে সিসিবিভিও’র ঊর্ধ্বতন কর্মসূচি কর্মকর্তা সৌমিক ডুমরী তিলকা মাঝি দিবসের ঐতিহাসিক পটভূমি ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়াও রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির নেতা রঘুনাথ পাহাড়িয়া ও বাপ্পী মার্ডী তাদের বক্তব্যে নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের অধিকার বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, অবিভক্ত ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিলকা মাঝিই ছিলেন প্রথম শহীদ। তার আত্মত্যাগ ও সংগ্রাম নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের আন্দোলনে আজও অনুপ্রেরণার উৎস। বক্তারা তিলকা মাঝির আদর্শ ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার করার আহ্বান জানান।
তিলকা মাঝি, যিনি ইতিহাসে তিলকা মুরমু নামেও পরিচিত, ১৭৮১ থেকে ১৭৮৪ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে সংঘটিত খেরওয়াল বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। জমি লুট, অতিরিক্ত খাজনা আদায় ও শোষণের বিরুদ্ধে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর ক্ষোভকে তিনি সংগঠিত গণবিদ্রোহে রূপ দেন। ১৭৭৮ সালে প্রায় ১৩০০ সাঁওতাল যোদ্ধা নিয়ে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রামগড় ব্যাটালিয়ন দখল করেন এবং লুণ্ঠিত অর্থ সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করেন।
পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী তাকে গ্রেফতার করে ১৭৮৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ভাগলপুরে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে ফাঁসি দেয়। ইতিহাসে তিলকা মাঝি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে স্বীকৃত। তার স্মরণে ভারতের ভাগলপুর ও দুমকায় তার ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে এবং ভাগলপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয়েছে ‘তিলকা মাঝি ভাগলপুর বিশ্ববিদ্যালয়’।
অনুষ্ঠানে সিসিবিভিও’র পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কর্মসূচি সমন্বয়কারী মো. শাহাবুদ্দিন, কর্মসূচি কর্মকর্তা পৌল টুডু, রুমা লাভলী মুর্মু এবং সমাজ সংগঠক মানিক এক্কা, দীপিকা মান্ড্রী, রুমিলা হেম্ব্রম, সুচিত্রা হেম্ব্রম, কাথারিনা হাঁসদা, ইমরুল সাদাত ও ভবেশ লাকড়া।
সভাপতি তার সমাপনী বক্তব্যে নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রথমবারের মতো পালিত তিলকা মাঝি দিবসের কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।



















