ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

বাকপ্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

এম.জে.এ মামুন:

কুমিল্লার দেবিদ্বারে এক বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে (৪০) জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে ফারুক হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ইউছুফপুর ইউনিয়নের পৈরাংকুল আব্দু মার্কেট এলাকায় এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে দেবিদ্বার থানা ঘেরাওসহ বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন বক্তারা।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন মাতব্বর সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। এতে মামলা দায়েরে বিলম্ব হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। পরে মামলা হলেও অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইউপি সদস্য মো. বাছির, মো. খাইরুল আমীন, আবুল হাসেম, মো. ছোটন মিয়া, মো. রায়হান মোরশেদ, মো. সোহেলসহ স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ইউছুফপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পৈরাংকুল কোনাহাটি এলাকার মৃত মফিজ আলীর ছেলে অটোরিকশাচালক ফারুক হোসেন একই এলাকার আব্দুল কাইয়ুমের মুদি দোকানের পেছনে ওই বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। পরে ভুক্তভোগী নারীর ভাই মো. হান্নান মিয়া বাদী হয়ে ঘটনার দুই দিন পর ১ সেপ্টেম্বর রাতে ফারুক হোসেনকে একমাত্র আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দেবিদ্বার থানায় মামলা করেন।

এদিকে গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠিত এক সালিসে অভিযুক্ত ফারুক হোসেনের পাশাপাশি তার দুই কর্মক্ষম ছেলে রাজমিস্ত্রি খায়রুল ইসলাম (২৩) ও অটোরিকশাচালক মো. রুহুল আমিন (২০) কেও গ্রাম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মানবিক কারণে অভিযুক্তের স্ত্রী, সাত বছর বয়সী এক কন্যাশিশু ও নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরকে বাড়িতে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সালিসদার বলেন, “অভিযুক্ত পিতার সঙ্গে তার পরিবারের উপার্জনক্ষম নিরপরাধ দুই ছেলেকেও গ্রামছাড়া করা ঠিক হয়নি। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। পরিবারটির ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার মতো আর কেউ থাকল না।”

তবে স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মো. আলী হোসেন বলেন, “আমরা সালিসে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ফারুকসহ তার দুই ছেলেকে গ্রাম থেকে বহিষ্কার করেছি। কারণ তারা তাদের অভিযুক্ত বাবাকে আইনের আওতায় আনতে সহযোগিতা করেনি। ফারুক গ্রেপ্তার হলে তার দুই ছেলের গ্রামে ফিরতে কোনো বাধা থাকবে না।”

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান নাগরিক ভাবনাকে বলেন, “প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।”

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের নাশকতা ঠেকাতে রূপগঞ্জে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল

19 September 2026

কক্সবাজারে জলসীমা থেকে বিপুল ইউরিয়া সার ও নিত্যপণ্যসামগ্রীসহ ১০-পাচারকারী আটক

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

বাকপ্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৫:৪৬:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এম.জে.এ মামুন:

কুমিল্লার দেবিদ্বারে এক বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে (৪০) জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে ফারুক হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ইউছুফপুর ইউনিয়নের পৈরাংকুল আব্দু মার্কেট এলাকায় এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে দেবিদ্বার থানা ঘেরাওসহ বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন বক্তারা।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন মাতব্বর সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। এতে মামলা দায়েরে বিলম্ব হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। পরে মামলা হলেও অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইউপি সদস্য মো. বাছির, মো. খাইরুল আমীন, আবুল হাসেম, মো. ছোটন মিয়া, মো. রায়হান মোরশেদ, মো. সোহেলসহ স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ইউছুফপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পৈরাংকুল কোনাহাটি এলাকার মৃত মফিজ আলীর ছেলে অটোরিকশাচালক ফারুক হোসেন একই এলাকার আব্দুল কাইয়ুমের মুদি দোকানের পেছনে ওই বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। পরে ভুক্তভোগী নারীর ভাই মো. হান্নান মিয়া বাদী হয়ে ঘটনার দুই দিন পর ১ সেপ্টেম্বর রাতে ফারুক হোসেনকে একমাত্র আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দেবিদ্বার থানায় মামলা করেন।

এদিকে গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠিত এক সালিসে অভিযুক্ত ফারুক হোসেনের পাশাপাশি তার দুই কর্মক্ষম ছেলে রাজমিস্ত্রি খায়রুল ইসলাম (২৩) ও অটোরিকশাচালক মো. রুহুল আমিন (২০) কেও গ্রাম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মানবিক কারণে অভিযুক্তের স্ত্রী, সাত বছর বয়সী এক কন্যাশিশু ও নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরকে বাড়িতে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সালিসদার বলেন, “অভিযুক্ত পিতার সঙ্গে তার পরিবারের উপার্জনক্ষম নিরপরাধ দুই ছেলেকেও গ্রামছাড়া করা ঠিক হয়নি। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। পরিবারটির ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার মতো আর কেউ থাকল না।”

তবে স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মো. আলী হোসেন বলেন, “আমরা সালিসে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ফারুকসহ তার দুই ছেলেকে গ্রাম থেকে বহিষ্কার করেছি। কারণ তারা তাদের অভিযুক্ত বাবাকে আইনের আওতায় আনতে সহযোগিতা করেনি। ফারুক গ্রেপ্তার হলে তার দুই ছেলের গ্রামে ফিরতে কোনো বাধা থাকবে না।”

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান নাগরিক ভাবনাকে বলেন, “প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।”

Share this news as a Photo Card