ঢাকা, বাংলাদেশ। , শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

থাই গেম ও ভিসা চক্রের সদস্যরা বে-পরোয়া  থানায় দফায় দফায় আক্রমণের চেষ্টা

প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:৪১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / ৬১ বার পঠিত
সরকার সালাউহদ্দীন সুমন, নীলফামারী : এবার থাই গেম ও ভিসা চক্রের সদস্যরা লাঠি সোটা নিয়ে দফায় দফায় থানায় আক্রমণের চেষ্টা করেছে।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রয়ারী) রাত সাড়ে ৯ টায় দু’ দফায় থানার ভিতরে ঢুকে তাদেরকে আক্রমণের চেষ্টা করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান- রাত দশটার দিকে প্রায় শতাধিক ছেলে হাতে লাঠি সোটা নিয়ে থানার দিকে গিয়ে তারা ধর ধর চিৎকার করে থানার ভিতরে প্রবেশ করে। অপর দিকে থানার ভিতরে থাকা কিছু লোক থানার মূলভবনে ছুটে যায়। এসময় স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সদস্য তাদের বাঁধা দিয়ে পিছনে হটিয়ে দেয়। পরে তারা তাদের দলে আরও কিছু লোকজন জড়ো হলে আবারও তারা থানায় ওইসব লোকের উপর ধর ধর ও বিভিন্ন গালিগালাজ করতে করতে থানার প্রধান ফটক দিয়ে থানার ভিতরে প্রবেশ করে। এসময় থানার পার্শ্ববতী দোকানসহ এলাকায় আতংক সৃষ্টি হয়। অনেকে দোকানের সাটার বন্ধ করে রাখে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়- মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয় টার দিকে মুশরুত পানিয়ালপুকুর গ্রামের মাহফুজার রহমানের পুত্র ওয়ারেজ আলী বাড়ী থেকে উপজেলার দিকে আসার সময় আমতলী মোড়ে তার গতিপথ রোধ করে থাই গেম ও ভিসা চক্রের হোতা বেনজির তার দলবল নিয়ে। এ সময় ওয়ারেজের চিৎকারে আঃ রউফ ও সালাম নামে দুজন এগিয়ে আসলে তাদেরকেও বেধড়ক মারপিট করাসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে প্রাণনাশের চেষ্টা করে।
ওয়ারেজ আলী জানান- এ ঘটনায় আমরা থানায় অভিযোগ করতে আসলে বেনজিরের নেতৃত্বে  থাই গেম ও ভিসা চক্রের সদস্যরা আমাদের মারার জন্য লাঠি সোটা নিয়ে রাত দশ টার টার দিকে প্রথমে আক্রমণের চেষ্টা করে। এসময় তারা থানার ভিতরে লাঠি সোটাসহ দেশীয় অস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে আমাদের খুঁজতে থাকে। থানা পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন তাদের পিছনে হটিয়ে দেয়। এরপর ওই চক্রের সদস্যরা আবারও রাত সাড়ে দশটার দিকে থানায় আমাদের উপর আক্রমণের চেষ্টা করে ও গালিগালাজ করে। তিনি আরও জানান- থানার ভিতরে আমাদের মারার জন্য আসলেও পুলিশ নিরব ছিল। ওয়ারেজ আরও জানায়- আমার গতিপথ রোধ করে ছিনতাই ও মারপিটের ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি।
রউফ জানান- আমার ভাগিনা সর্ম্পকে ওয়ারেজকে গতিপথ রোধ করে মারপিট করে তখন আমি এগিয়ে গেলে আমাকেও মারপিট করে বেনজির।
পরে মাগরিবের নামাজ পড়তে যাওয়া আমার বড় ভাই সালামকে প্রতারক চক্রের হোতা বেনজির মারপিট করে। থানায় অভিযোগ করতে আসলে থানায় আমাদেরকে দু দফায় মারপিটের জন্য তারা আসে।
অন্যদিকে এ ঘটনার পর বেনজিরের বাবা আব্দুল মালেক গাড়ি ভাংচুর ও টাকা চুরির অভিযোগ এনে চারজনকে আসামী করে থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছে।
থানা আক্রমনের কথা শুনে সাধারণ মানুষ সেখানে ছুটে আসে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে স্থানীয় লোকজন ও থানা পুলিশ আক্রমণকারীদের হটিয়ে দেয়। পুলিশের দাবী কৌশলে তাদের হটিয়ে না দিলে বড় ধরণের দূঘর্টনা ঘটার আশংকা ছিল।
কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফুল ইসলাম জানান- একটি পক্ষ থানায় অভিযোগ করতে আসলে তাদের উপর আক্রমণ করার জন্য অপর পক্ষ আক্রমণের চেষ্টা করে। আমরা কৌশলে পরিস্থিতি শান্ত করেছি, না হলে বড় ধরণের বিশৃংখলা ঘটার আশংকা ছিল। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

থাই গেম ও ভিসা চক্রের সদস্যরা বে-পরোয়া  থানায় দফায় দফায় আক্রমণের চেষ্টা

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:৪১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
সরকার সালাউহদ্দীন সুমন, নীলফামারী : এবার থাই গেম ও ভিসা চক্রের সদস্যরা লাঠি সোটা নিয়ে দফায় দফায় থানায় আক্রমণের চেষ্টা করেছে।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রয়ারী) রাত সাড়ে ৯ টায় দু’ দফায় থানার ভিতরে ঢুকে তাদেরকে আক্রমণের চেষ্টা করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান- রাত দশটার দিকে প্রায় শতাধিক ছেলে হাতে লাঠি সোটা নিয়ে থানার দিকে গিয়ে তারা ধর ধর চিৎকার করে থানার ভিতরে প্রবেশ করে। অপর দিকে থানার ভিতরে থাকা কিছু লোক থানার মূলভবনে ছুটে যায়। এসময় স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সদস্য তাদের বাঁধা দিয়ে পিছনে হটিয়ে দেয়। পরে তারা তাদের দলে আরও কিছু লোকজন জড়ো হলে আবারও তারা থানায় ওইসব লোকের উপর ধর ধর ও বিভিন্ন গালিগালাজ করতে করতে থানার প্রধান ফটক দিয়ে থানার ভিতরে প্রবেশ করে। এসময় থানার পার্শ্ববতী দোকানসহ এলাকায় আতংক সৃষ্টি হয়। অনেকে দোকানের সাটার বন্ধ করে রাখে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়- মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয় টার দিকে মুশরুত পানিয়ালপুকুর গ্রামের মাহফুজার রহমানের পুত্র ওয়ারেজ আলী বাড়ী থেকে উপজেলার দিকে আসার সময় আমতলী মোড়ে তার গতিপথ রোধ করে থাই গেম ও ভিসা চক্রের হোতা বেনজির তার দলবল নিয়ে। এ সময় ওয়ারেজের চিৎকারে আঃ রউফ ও সালাম নামে দুজন এগিয়ে আসলে তাদেরকেও বেধড়ক মারপিট করাসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে প্রাণনাশের চেষ্টা করে।
ওয়ারেজ আলী জানান- এ ঘটনায় আমরা থানায় অভিযোগ করতে আসলে বেনজিরের নেতৃত্বে  থাই গেম ও ভিসা চক্রের সদস্যরা আমাদের মারার জন্য লাঠি সোটা নিয়ে রাত দশ টার টার দিকে প্রথমে আক্রমণের চেষ্টা করে। এসময় তারা থানার ভিতরে লাঠি সোটাসহ দেশীয় অস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে আমাদের খুঁজতে থাকে। থানা পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন তাদের পিছনে হটিয়ে দেয়। এরপর ওই চক্রের সদস্যরা আবারও রাত সাড়ে দশটার দিকে থানায় আমাদের উপর আক্রমণের চেষ্টা করে ও গালিগালাজ করে। তিনি আরও জানান- থানার ভিতরে আমাদের মারার জন্য আসলেও পুলিশ নিরব ছিল। ওয়ারেজ আরও জানায়- আমার গতিপথ রোধ করে ছিনতাই ও মারপিটের ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি।
রউফ জানান- আমার ভাগিনা সর্ম্পকে ওয়ারেজকে গতিপথ রোধ করে মারপিট করে তখন আমি এগিয়ে গেলে আমাকেও মারপিট করে বেনজির।
পরে মাগরিবের নামাজ পড়তে যাওয়া আমার বড় ভাই সালামকে প্রতারক চক্রের হোতা বেনজির মারপিট করে। থানায় অভিযোগ করতে আসলে থানায় আমাদেরকে দু দফায় মারপিটের জন্য তারা আসে।
অন্যদিকে এ ঘটনার পর বেনজিরের বাবা আব্দুল মালেক গাড়ি ভাংচুর ও টাকা চুরির অভিযোগ এনে চারজনকে আসামী করে থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছে।
থানা আক্রমনের কথা শুনে সাধারণ মানুষ সেখানে ছুটে আসে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে স্থানীয় লোকজন ও থানা পুলিশ আক্রমণকারীদের হটিয়ে দেয়। পুলিশের দাবী কৌশলে তাদের হটিয়ে না দিলে বড় ধরণের দূঘর্টনা ঘটার আশংকা ছিল।
কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফুল ইসলাম জানান- একটি পক্ষ থানায় অভিযোগ করতে আসলে তাদের উপর আক্রমণ করার জন্য অপর পক্ষ আক্রমণের চেষ্টা করে। আমরা কৌশলে পরিস্থিতি শান্ত করেছি, না হলে বড় ধরণের বিশৃংখলা ঘটার আশংকা ছিল। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।