ঢাকা, বাংলাদেশ। , মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

বৈষম্যহীন-চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই- ডাঃ শফিকুর রহমান

নাঈম ইসলাম, কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:৪০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৯০ বার পঠিত

নাঈম ইসলাম, কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ): বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়, বরং এই দেশ সকল ধর্মের মানুষের,এদেশে আমরা দুর্নীতি-চাদাঁবাজি করবো না,করতে দিবোও না। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনকে বলি আপনারা সততা ও সাহসীকতার সাথে নিরপেক্ষ থাকবেন ১৮কোটি মানুষ আপনাদের স্যালুট দিবে।

তিনি বলেন,বৈষম্যহীন,দুর্নীতিমুক্ত,পরিবারতন্ত্রহীন ও আমরা এই বাংলাদেশটাকে সব ধর্ম দিয়ে ইনশাআল্লাহ একটি ফুলের বাগানের মতো সাজাবো। ধর্মের সৌন্দর্যই হলো একে অপরের সাথে চমৎকার সম্পর্ক রক্ষা করা। বিভেদের রাজনীতি করে যারা জাতিকে টুকরো টুকরো করতে চায়, তাদের আর সেই সুযোগ দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের উদ্যোগে কটিয়াদী কলেজ মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন,অতীতের কাসুন্দি ঘেঁটে লাভ নেই, জনগণ এখন আর ওসব শুনতে চায় না। যারা বিগত দিনে জনগণকে গালগল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিল আর পেছনের দরজা দিয়ে মানুষের কপাল ও জনপদের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে, তাদের জায়গা আর বাংলাদেশে হবে না। তেরো তারিখ থেকে বাংলাদেশে পরিবর্তনের যে সূচনা হবে, সেখানে অতীতের ‘পোড়া রাজনীতি’ বা ব্যক্তিগত লড়াইয়ের কোনো স্থান নেই।
কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্য তুলে ধরে আমীরে জামায়াত বলেন, এটি আলেম-ওলামা, মুক্তিযোদ্ধা এবং মেধাবীদের জেলা। এখানকার মানুষ কঠোর পরিশ্রমী ও দেশপ্রেমিক। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, বছরের পর বছর এই কিশোরগঞ্জের সন্তানরাই প্রশাসনের এবং সরকারের সর্বোচ্চ পদ অলংকৃত করেছেন। অথচ এই এলাকার মানুষ কী পেয়েছে? যোগাযোগ ব্যবস্থা আজও ঝুঁকিপূর্ণ, হাওর অঞ্চলের মানুষের কষ্ট ঘোচেনি। আপনারা নিজেরাই তার সাক্ষী।

তিনি আরও যোগ করেন, কিশোরগঞ্জ জেলা মূলত কৃষিভিত্তিক এলাকা। আমাদের পরিকল্পনা হলো কৃষিকে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে শিল্পে রূপান্তরিত করা। যাতে কৃষকের শ্রমে ফলানো ফসল তাদের ভাগ্য বদলে দেয়।

নির্বাচনী প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার ৬টি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের জন্য দোয়া ও সমর্থন চেয়ে বলেন, আমরা মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে একটি দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, মামলাবাজমুক্ত এবং শোষণহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই। জমিদারি প্রথা ও পারিবারিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে আমরা আপনাদের পবিত্র ভোটের আমানত রক্ষা করব এবং ইনসাফের ভিত্তিতে আস্থার প্রতিদান দেব।
জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার ত্যাগের কথা স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান তরুণ প্রজন্মের প্রতি তার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমাদের তরুণরা বেকার ভাতা চায় না, তারা চায় ‘জাস্টিস’। তারা চায় মেধার মূল্যায়ন। কোনো রাজনৈতিক প্রভাবে বা ‘লাল টেলিফোনের’ নির্দেশে যেন মেধাবীদের কপাল পুড়ে না যায়, আমরা সেই নিশ্চয়তা দেব। আমরা যুবকদের হাতে কাজ তুলে দেব, তাদের দক্ষ কারিগর হিসেবে গড়ে তুলব।
চা বলয় যেদিকে, জয়ের পাল্লা সেদিকেই!
তরুণদের উজ্জীবিত করে তিনি একটি বিশেষ উপমা ব্যবহার করে বলেন, বাংলাদেশ নামের যে উড়োজাহাজ, তার ককপিটে অর্থাৎ চালকের আসনে আমরা যুবকদের বসিয়ে দেব। দেশ তারাই চালাবে, তারাই গড়বে। আর আমরা প্রবীণরা প্যাসেঞ্জার সিটে বসে তাদের দিকনির্দেশনা দেব। এখন আর পেছনে তাকানোর সময় নেই, এখন শুধু সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা।
সর্বশেষ গণভোটের “হ্যা” এর পক্ষ হয়ে বলেন, এই নির্বাচনে দুটি পক্ষ, একটি দলীয় ভোট অন্যটি গণভোট,এই গণভোটে অবশ্যই আমরা হ্যা ভোট দিবো।কারন হ্যা হলো আজাদী আর না হলো গোলামী। আমরা অবশ্যই আজাদীর পক্ষে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

বৈষম্যহীন-চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই- ডাঃ শফিকুর রহমান

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:৪০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নাঈম ইসলাম, কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ): বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়, বরং এই দেশ সকল ধর্মের মানুষের,এদেশে আমরা দুর্নীতি-চাদাঁবাজি করবো না,করতে দিবোও না। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনকে বলি আপনারা সততা ও সাহসীকতার সাথে নিরপেক্ষ থাকবেন ১৮কোটি মানুষ আপনাদের স্যালুট দিবে।

তিনি বলেন,বৈষম্যহীন,দুর্নীতিমুক্ত,পরিবারতন্ত্রহীন ও আমরা এই বাংলাদেশটাকে সব ধর্ম দিয়ে ইনশাআল্লাহ একটি ফুলের বাগানের মতো সাজাবো। ধর্মের সৌন্দর্যই হলো একে অপরের সাথে চমৎকার সম্পর্ক রক্ষা করা। বিভেদের রাজনীতি করে যারা জাতিকে টুকরো টুকরো করতে চায়, তাদের আর সেই সুযোগ দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের উদ্যোগে কটিয়াদী কলেজ মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন,অতীতের কাসুন্দি ঘেঁটে লাভ নেই, জনগণ এখন আর ওসব শুনতে চায় না। যারা বিগত দিনে জনগণকে গালগল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিল আর পেছনের দরজা দিয়ে মানুষের কপাল ও জনপদের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে, তাদের জায়গা আর বাংলাদেশে হবে না। তেরো তারিখ থেকে বাংলাদেশে পরিবর্তনের যে সূচনা হবে, সেখানে অতীতের ‘পোড়া রাজনীতি’ বা ব্যক্তিগত লড়াইয়ের কোনো স্থান নেই।
কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্য তুলে ধরে আমীরে জামায়াত বলেন, এটি আলেম-ওলামা, মুক্তিযোদ্ধা এবং মেধাবীদের জেলা। এখানকার মানুষ কঠোর পরিশ্রমী ও দেশপ্রেমিক। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, বছরের পর বছর এই কিশোরগঞ্জের সন্তানরাই প্রশাসনের এবং সরকারের সর্বোচ্চ পদ অলংকৃত করেছেন। অথচ এই এলাকার মানুষ কী পেয়েছে? যোগাযোগ ব্যবস্থা আজও ঝুঁকিপূর্ণ, হাওর অঞ্চলের মানুষের কষ্ট ঘোচেনি। আপনারা নিজেরাই তার সাক্ষী।

তিনি আরও যোগ করেন, কিশোরগঞ্জ জেলা মূলত কৃষিভিত্তিক এলাকা। আমাদের পরিকল্পনা হলো কৃষিকে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে শিল্পে রূপান্তরিত করা। যাতে কৃষকের শ্রমে ফলানো ফসল তাদের ভাগ্য বদলে দেয়।

নির্বাচনী প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার ৬টি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের জন্য দোয়া ও সমর্থন চেয়ে বলেন, আমরা মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে একটি দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, মামলাবাজমুক্ত এবং শোষণহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই। জমিদারি প্রথা ও পারিবারিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে আমরা আপনাদের পবিত্র ভোটের আমানত রক্ষা করব এবং ইনসাফের ভিত্তিতে আস্থার প্রতিদান দেব।
জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার ত্যাগের কথা স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান তরুণ প্রজন্মের প্রতি তার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমাদের তরুণরা বেকার ভাতা চায় না, তারা চায় ‘জাস্টিস’। তারা চায় মেধার মূল্যায়ন। কোনো রাজনৈতিক প্রভাবে বা ‘লাল টেলিফোনের’ নির্দেশে যেন মেধাবীদের কপাল পুড়ে না যায়, আমরা সেই নিশ্চয়তা দেব। আমরা যুবকদের হাতে কাজ তুলে দেব, তাদের দক্ষ কারিগর হিসেবে গড়ে তুলব।
চা বলয় যেদিকে, জয়ের পাল্লা সেদিকেই!
তরুণদের উজ্জীবিত করে তিনি একটি বিশেষ উপমা ব্যবহার করে বলেন, বাংলাদেশ নামের যে উড়োজাহাজ, তার ককপিটে অর্থাৎ চালকের আসনে আমরা যুবকদের বসিয়ে দেব। দেশ তারাই চালাবে, তারাই গড়বে। আর আমরা প্রবীণরা প্যাসেঞ্জার সিটে বসে তাদের দিকনির্দেশনা দেব। এখন আর পেছনে তাকানোর সময় নেই, এখন শুধু সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা।
সর্বশেষ গণভোটের “হ্যা” এর পক্ষ হয়ে বলেন, এই নির্বাচনে দুটি পক্ষ, একটি দলীয় ভোট অন্যটি গণভোট,এই গণভোটে অবশ্যই আমরা হ্যা ভোট দিবো।কারন হ্যা হলো আজাদী আর না হলো গোলামী। আমরা অবশ্যই আজাদীর পক্ষে।