আবু জাফর বিশ্বাস, ঝালকাঠিঃ পেয়ারার মৌসুম শুরু হতেই ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী ভিমরুলির ভাসমান হাটে জমে উঠেছে বেচাকেনা। ভোর থেকেই ছোট ছোট নৌকায় করে কৃষকেরা বাগান থেকে তোলা টাটকা পেয়ারা নিয়ে আসছেন হাটে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকাররা এসব পেয়ারা কিনে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাচ্ছেন। একই সঙ্গে ভাসমান হাট ও সবুজ পেয়ারা বাগান দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা।
ঝালকাঠি, বরিশাল ও পিরোজপুর জেলার তিন উপজেলার চারটি ইউনিয়নজুড়ে বিস্তৃত প্রায় তিনশ বছরের পুরোনো দেশি পেয়ারা বাগান এখন ফলে ভরপুর। আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র—এই তিন মাসজুড়ে চলে পেয়ারার মৌসুম। প্রতিদিন ভোরে কৃষকেরা বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করে নৌকায় করে ভিমরুলিসহ আশপাশের বিভিন্ন ভাসমান হাটে নিয়ে আসেন।
এ অঞ্চলে একাধিক পেয়ারা হাট থাকলেও ভিমরুলির ভাসমান হাটই সবচেয়ে বড়। প্রতিদিন এখানে লাখ লাখ টাকার পেয়ারা কেনাবেচা হয়। চলতি মৌসুমে ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেলেও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে প্রতি মণ পেয়ারা প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় বাগান মালিকরা জানান, শ্রমিকের মজুরি, সার ও বাগান পরিচর্যার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে আগের মতো লাভ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও ভালো ফলন এবং বাজারে সন্তোষজনক দাম থাকায় তারা আশাবাদী।
ভিমরুলির ভাসমান হাট এখন কৃষিপণ্যের বাজারের পাশাপাশি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রেও পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার পর্যটকদের ভিড় সবচেয়ে বেশি থাকে। দর্শনার্থীরা নৌকায় করে পেয়ারা বাগান ঘুরে দেখেন এবং গাছ থেকে সদ্য তোলা টাটকা পেয়ারার স্বাদ নেন।
তবে পর্যটকদের অভিযোগ, এলাকায় মানসম্মত আবাসন, খাবারের ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। এসব সুবিধা বাড়ানো হলে ভিমরুলি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করছেন তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঝালকাঠি জেলায় ৫৭০ হেক্টর জমিতে পেয়ারার আবাদ হয়েছে। এ বছর প্রায় ৫ হাজার ৯০ মেট্রিক টন পেয়ারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ আশা করছে, অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 




















