ভোটের মাঠে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের প্রতিপক্ষ কারা

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৯:৪৩:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৩৭ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে দলটি ৩০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। কোটাবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করা এই দলের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া একঝাঁক তরুণ শীর্ষ নেতা।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ, আরিফুল ইসলাম খান আদীব, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম—সবাই শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হলেও তাদের সামনে রয়েছে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ।
ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলামের কঠিন লড়াই
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ (রামপুরা-বাড্ডা-ভাটারা-হাতিরঝিল আংশিক) আসনে প্রার্থী হয়েছেন। তার প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুম।
স্থানীয়দের মতে, এ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে।
বাড্ডা এলাকার ভোটার বজলুর রহমান বলেন, এনসিপি তরুণদের দল। ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময় হলেও এই আসনে বিএনপি প্রার্থী কাইয়ুম দীর্ঘদিন ধরে জনগণের সঙ্গে যুক্ত।
রংপুর-৪ আসনে আখতার হোসেনের ত্রিমুখী লড়াই
রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামায়াত প্রার্থী এ আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। তবে মাঠে আখতারের সামনে রয়েছে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে। আখতার হোসেনের প্রধান প্রতিপক্ষ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী পীরগাছা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান।
ঢাকা-৮ আসনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মুখোমুখি মির্জা আব্বাস
ঢাকা-৮ (রমনা-মতিঝিল) আসনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী। তার প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস। পাশাপাশি গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী মডেল মেঘনা আলমও এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নোয়াখালী-৬ আসনে হান্নান মাসউদের সামনে বিভক্ত বিএনপি
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ প্রার্থী হয়েছেন। এখানে বিএনপির প্রার্থী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহবুবের রহমান থাকলেও দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে বিএনপির ভোট বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানভীর উদ্দিন এবং সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিম। দুজনকেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আব্দুল্লাহর সামনে বিএনপিশূন্য মাঠ
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রার্থী হয়েছেন। এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই।
হাসনাত আবদুল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন—গণঅধিকার পরিষদের মো. জসীম উদ্দিন, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের ইরফানুল হক সরকার, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ মজিবুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আব্দুল করিম।
পঞ্চগড়-১ আসনে সারজিস আলমের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী
পঞ্চগড়-১ (তেঁতুলিয়া-সদর-আটোয়ারী) আসনে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম প্রার্থী হয়েছেন। তার প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমির।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন এবং বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে গণসংযোগ চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, জুলাই আন্দোলনের নেতা সারজিস আলম প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে নিয়মিত মাঠে কাজ করছেন।























