
এম.জে.এ মামুন:
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ময়লার ভাগাড়ের পাশে তিনদিন ধরে পড়ে থাকা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে অবশেষে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর স্থানীয় শিক্ষার্থী ও সচেতন মানুষের উদ্যোগে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে তাকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
জানা গেছে, গত বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে দেবিদ্বার পৌর এলাকার ভিংলাবাড়ি থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করেন দেবিদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অজয় চক্রবর্তী। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় পুলিশ।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, পুলিশ আহত নারীকে সরকারি হাসপাতালে দিয়ে আসে। তবে পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি না করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ময়লার ভাগাড়ের পাশে ফেলে রাখা হয়।
এরপর টানা প্রায় ৫৫ ঘন্টা ওই নারীকে হাসপাতাল চত্বরের ময়লার ভাগাড়ের পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি নিজের নাম-পরিচয় কিংবা স্বজনদের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারছিলেন না। ফলে পরিচয়হীন অবস্থায় হাসপাতাল চত্বরে পড়ে থাকলেও তার যথাযথ চিকিৎসা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, একজন অসুস্থ ও অসহায় মানুষকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনার পর তার চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা মানবিক দায়িত্ব। অথচ তাকে হাসপাতালের ময়লার ভাগাড়ের পাশে পড়ে থাকতে হয়েছে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মানুষ হিসেবে তো আমাদেরও এই রোগীর সেবা করা উচিত ছিল। অথচ হাসপাতালে এনে ময়লার ভাগাড়ের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে, এটা কেমন কাজ? মানুষ কি পশুর চেয়েও খারাপ হয়ে গেল?”
এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও (RMO) কবির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি মোবাইল ফোনে বলেন, “কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তির চিকিৎসা আমরা দিই না। তাই তাকে এখানে ফেলে রাখা হয়েছে।”
এদিকে সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় শিক্ষার্থী, সচেতন নাগরিক ও মানবিক মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তারা ওই নারীর চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেন। পরে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তাকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
বিষয়টি নজরে আসার পর দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা ওই নারীর খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ ও দেখভালের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর অন্তত ওই অসহায় নারীর চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে তার পরিচয় ও স্বজনদের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত তার যথাযথ দেখভাল এবং পরবর্তী সময়ে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করাই এখন বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দ্রুত ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করে তার স্বজনদের খুঁজে বের করা হবে। একই সঙ্গে তার চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 













