ঢাকা, বাংলাদেশ। , মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

মাদকের স্বর্গরাজ্য: রাজবাড়ীর পাঁচ উপজেলাসহ বিভিন্ন পাড়া মহল্লা

রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী 
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৫৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৪ বার পঠিত
রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী:   ঢাকা বিভাগের অন্যতম জেলা রাজবাড়ীতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে মাদক ব্যবসা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গ্রাম, হাট-বাজার এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশেও প্রকাশ্যে চলছে মাদক বিক্রির রমরমা বাণিজ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ-প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা কম থাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীর অন্যতম মাদকের রেট জোন স্পট দৌলতদিয়ার পুরা ভিটায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে মাদক ব্যবসায়ীদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তাছাড়া সদর উপজেলার খানখানাপুর, পাচুঁরিয়া, বসন্তপুর, আলিপুর, মিজানপুর ,খানগঞ্জ,। তাছাড়া কালুখালী ,বালিয়াকান্দি ও পাংশায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাদকের বিস্তার রয়েছে।
বিশেষ করে পুরা ভিটা ও যৌনপল্লী এলাকায় প্রকাশ্যেই মাদক কেনাবেচা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামতেই গভীর রাত পর্যন্ত পুরা ভিটা ,যৌনপল্লী,শহরের লোকোশেড, মেসো ঘাটা ,পাচুঁরিয়া ইউনিয়নের খোলাবাড়ি এলাকার বিভিন্ন ইট ভাটায় আশপাশের উপজেলায় বিভিন্ন স্পটে স্পটে চলে মাদকসেবীদের আসর। কেউ খোলা জায়গায় বসে সেবন করছে, কেউ রুমের ভিতরে বা আশেপাশের ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে সেবন করে।
স্থানীয়দের জানান, অনেক সময় পুলিশ ও মাদকদ্রব্য কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনলেও কিছুদিন পর তারা জামিনে মুক্ত হয়ে আবার আগের মতো মাদক ব্যবসা শুরু করে। ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তারা আরো অভিযোগ করে বলেন,মাদকদ্রব্যের কর্মকর্তারা সেবনকারীদের আটক করছেন,কিন্তু মাদক কারবারি যা থাকছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিল, হেরোইন, বাংলা মদ, বিদেশী মদ,সহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য নিয়মিত বিক্রি হচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও ভ্যানযোগে এসব মাদক আশপাশের গ্রাম ও বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, সহজলভ্যতার কারণে এলাকার কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক অবক্ষয়ও বাড়ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, মাদক ব্যবসা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধও বেড়ে যাচ্ছে। অনেক সময় মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কথা বললেও নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয়।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশাসনের কঠোর অভিযান পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় না আনলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তারা মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু আব্দুল্লাহ জাহিদ জানান, দায় এড়িয়ে বললেন আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। আমাদের এখানে ইন্সপেক্টর তিনজন থাকার কথা আছেন একজন। এবং সাব ইন্সপেক্টর থাকার কথা দুইজন আছে একজন। আমাদের শূন্য পদের যদি অফিসার নিয়োগ দেয়া হয় তাহলে আমরা আরো জোরালোভাবে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারব। গত মাসে আমরা ১৪৬ টি অভিযান করেছি এবং ৪৩ টি মামলা দায়ের করেছি ৪৩ জনকে গ্রেফতার করেছি। তাছাড়া আলামত হিসেবে বিভিন্ন মাদক আমরা উদ্ধার করেছি। আমাদের অভিযান চলমান থাকবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা—অচিরেই কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে রাজবাড়ী জেলা কে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে পুলিশ-প্রশাসন দৃশ্যমান ভূমিকা রাখবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

মাদকের স্বর্গরাজ্য: রাজবাড়ীর পাঁচ উপজেলাসহ বিভিন্ন পাড়া মহল্লা

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৫৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী:   ঢাকা বিভাগের অন্যতম জেলা রাজবাড়ীতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে মাদক ব্যবসা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গ্রাম, হাট-বাজার এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশেও প্রকাশ্যে চলছে মাদক বিক্রির রমরমা বাণিজ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ-প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা কম থাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীর অন্যতম মাদকের রেট জোন স্পট দৌলতদিয়ার পুরা ভিটায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে মাদক ব্যবসায়ীদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তাছাড়া সদর উপজেলার খানখানাপুর, পাচুঁরিয়া, বসন্তপুর, আলিপুর, মিজানপুর ,খানগঞ্জ,। তাছাড়া কালুখালী ,বালিয়াকান্দি ও পাংশায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাদকের বিস্তার রয়েছে।
বিশেষ করে পুরা ভিটা ও যৌনপল্লী এলাকায় প্রকাশ্যেই মাদক কেনাবেচা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামতেই গভীর রাত পর্যন্ত পুরা ভিটা ,যৌনপল্লী,শহরের লোকোশেড, মেসো ঘাটা ,পাচুঁরিয়া ইউনিয়নের খোলাবাড়ি এলাকার বিভিন্ন ইট ভাটায় আশপাশের উপজেলায় বিভিন্ন স্পটে স্পটে চলে মাদকসেবীদের আসর। কেউ খোলা জায়গায় বসে সেবন করছে, কেউ রুমের ভিতরে বা আশেপাশের ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে সেবন করে।
স্থানীয়দের জানান, অনেক সময় পুলিশ ও মাদকদ্রব্য কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনলেও কিছুদিন পর তারা জামিনে মুক্ত হয়ে আবার আগের মতো মাদক ব্যবসা শুরু করে। ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তারা আরো অভিযোগ করে বলেন,মাদকদ্রব্যের কর্মকর্তারা সেবনকারীদের আটক করছেন,কিন্তু মাদক কারবারি যা থাকছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিল, হেরোইন, বাংলা মদ, বিদেশী মদ,সহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য নিয়মিত বিক্রি হচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও ভ্যানযোগে এসব মাদক আশপাশের গ্রাম ও বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, সহজলভ্যতার কারণে এলাকার কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক অবক্ষয়ও বাড়ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, মাদক ব্যবসা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধও বেড়ে যাচ্ছে। অনেক সময় মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কথা বললেও নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয়।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশাসনের কঠোর অভিযান পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় না আনলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তারা মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু আব্দুল্লাহ জাহিদ জানান, দায় এড়িয়ে বললেন আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। আমাদের এখানে ইন্সপেক্টর তিনজন থাকার কথা আছেন একজন। এবং সাব ইন্সপেক্টর থাকার কথা দুইজন আছে একজন। আমাদের শূন্য পদের যদি অফিসার নিয়োগ দেয়া হয় তাহলে আমরা আরো জোরালোভাবে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারব। গত মাসে আমরা ১৪৬ টি অভিযান করেছি এবং ৪৩ টি মামলা দায়ের করেছি ৪৩ জনকে গ্রেফতার করেছি। তাছাড়া আলামত হিসেবে বিভিন্ন মাদক আমরা উদ্ধার করেছি। আমাদের অভিযান চলমান থাকবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা—অচিরেই কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে রাজবাড়ী জেলা কে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে পুলিশ-প্রশাসন দৃশ্যমান ভূমিকা রাখবে।