ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
তাজা খবর
কক্সবাজারে গহীন বনে ‘রহস্যময় ঘর’ ঘিরে চাঞ্চল্য
কিশোর গ্যাং সৃষ্টি মাদকেই
“কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন
উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ১৪৪ তম খুলনা দিবস!
চট্রগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হোমনার বাঘা শরীফ
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রমানিত: ব্যাবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ

সোহেল রানা, পাইকগাছা (খুলনা)
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:০৪:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
- / ৬ বার পঠিত

সোহেল রানা, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কপিলমুনি জাফর আউলিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার সাময়িক বরখাস্ত বহু অপকর্মের হোতা অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ প্রমাণিত হলেও ফের বহাল তবিয়তে ফিরলেন অধ্যক্ষ হিসেবে। তদন্ত কমিটির কাছে সুনির্দিষ্ট প্রমানিত হওয়ায় দুর্নীতির দায়ে সাময়িক বরখাস্ত অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তারকে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাতিল ও লুটপাটের টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে চাকরিতে যোগদান করতে আদেশ দেওয়া হয়েছে। সেই আদেশের ফলে মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) বহিরাগতদের সাথে নিয়ে জাফর আউলিয়া মাদ্রাসায় প্রবেশ করেন। এসময় তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও অসন্তোষ দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, তদন্ত কমিটি তার বিরুদ্ধে সব দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে। কিন্তু লুটপাট করা টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে চাকরিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ায় আমার হতবাক হয়েছি।
ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় তদন্ত প্রতিবেদনে পত্রে বলা হয়েছে, হুবহু তুলে ধরা হলো।
সার্বিক বিবেচনায় যেহেতু তদন্ত কমিটির নিকট অভিযোগ নং (খ), (ঘ), (ছ) এবং (জ) সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে সেহেতু তদন্ত কমিটি জনাব মোঃ আব্দুস সাত্তার, অধ্যক্ষ (সাময়িক বরখাস্ত) কে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় বেসরকারি মাদরাসা শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী চাকুরি সংক্রান্ত প্রবিধান-২০২৫ (সংশোধিত) ধারা-১৩ এর (৩) কর্তব্য পালনে অবহেলা বা উদাসীনতা, ধারা-১৩ এর (৬) মাদরাসার কোন সম্পদ অপচয় করা অথবা অর্থ আত্মসাৎ করা। ধারা-১৩ এর (৭) ক্ষমতার অপব্যবহার করা। এবং ধারা-১৩ এর (৯) এমন কোন কার্যসম্পাদন করা, যা শিক্ষক/ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিশৃঙ্খলা অথবা নৈতিক অবক্ষয় সৃষ্টি করতে পারে। মোতাবেক উক্ত অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে নিম্নরূপ শাস্তির সুপারিশ করছে:
১. PBGSI’এর প্রকল্পের আত্মসাৎ কৃত ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা এবং টিউশন ফিসের (আনুমানিক ৮ লাখ) টাকা জনাব মোঃ আব্দুস সাত্তার, অধ্যক্ষ(সাময়িক বরখাস্ত) এর বেতন থেকে আদায় করে গভর্নিং বডির মাধ্যমে একটা কমিটি গঠনপূর্বক ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণে ব্যবস্থা করা এবং সরকারি নীতিমালা অনুসারে ব্যয়ের ব্যবস্থা করা।
২. জনাব মোঃ আব্দুস সাত্তার, অধ্যক্ষ (সাময়িক বরখাস্ত) এর বাকী চাকুরি জীবনে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাতিলকরণ।
এদিকে বহু অপকর্মের হোতা দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তারের যোগদানের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। মাদ্রাসার জমি দাতাদের পক্ষ থেকে শেখ ইউনুস আলী জানান, মাদ্রাসার জমি নিজের নামে সল্পমুল্যে লিখে নিলেও আমরা অভিযোগ করে বিচার পায়নি। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে জমির বিষয়টি সম্পন্ন বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ আমরা জমি মাদ্রাসায় দান করলাম আর সে তার নামে দলিল করে নিয়েছে। এর বিচার আমরা পেলাম না। তিনি আরো বলেন, আমরা আদালতের মাধ্যমে বিচারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। কপিলমুনি জাফর আউলিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার (ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ) মোঃ জামিরুল ইসলাম বলেন, দুর্নীতি প্রমাণিত হয়েছে এবং দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে চাকরিতে যোগদান করেছেন তিনি।





















