শাপলা চত্বর ইস্যুতে কথা বলতে জাতির ১৩ বছরের অপেক্ষা: জবি ভিসি

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:৩৭:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
- / ৮ বার পঠিত

শাপলা চত্বর গণহত্যা দিবস উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)-এর উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সেমিনার কক্ষে এ আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য । তিনি বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে কথা বলতে জাতিকে দীর্ঘ ১৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ঘটনার মধ্যে আবেগ, বেদনা ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার উপাদান রয়েছে। তৎকালীন রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক শক্তির দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত এই ঘটনা জাতির জন্য এক গভীর ক্ষত হিসেবে রয়ে গেছে।
উপাচার্য বলেন, নবী করিম (সা.)-এর সম্মান রক্ষা ও ধর্মীয় অনুভূতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে যারা সেদিন সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তারা ছিলেন সাহসী ও দৃঢ়চেতা। তিনি শহীদদের প্রকৃত ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান এবং ঘটনার সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষক ও লেখক আলী হাসান উসামা। তিনি ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের সমাবেশ, হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি এবং পরবর্তী রাতের অভিযানের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করেন।
তিনি বলেন, ওই ঘটনায় ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের ওপর রাষ্ট্রীয় শক্তির কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল। এছাড়া ও শাপলা চত্বরের ঘটনার পর পর্যাপ্ত প্রতিবাদ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিভিন্ন পক্ষের নীরবতা সত্য উদঘাটনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। শহীদদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ না হওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজ না নেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার । তিনি বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনা শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে গবেষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে প্রকৃত তথ্য ও শহীদদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।
জকসুর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম আরিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জকসু ভিপি মোঃ রিয়াজুল ইসলাম।





















