অপু দাস, রাজশাহী : রাজশাহীর পদ্মা নদীর বুকে গড়ে ওঠা দর্শনীয় স্থান ‘মিডিল চর’ বর্তমানে ভ্রমণপ্রেমীদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত এই স্থানে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি। সেই সঙ্গে বেড়েছে নৌপথে যাত্রী পারাপারের সংখ্যাও। দর্শনার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের মালেকডগার ঘাটে নৌকার মাঝিদের মাঝে লাইফ জ্যাকেট বিতরণ করা হয়। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটনের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানে রাসিকের সচিব সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত থেকে মাঝিদের হাতে লাইফ জ্যাকেট তুলে দেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মিডিল চরে দর্শনার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নৌপথে যাত্রী পরিবহনের বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে নদী পারাপারের সময় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নৌকার মাঝিদের মধ্যে লাইফ জ্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে এবং সেগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
লাইফ জ্যাকেট বিতরণ অনুষ্ঠানে মাঝিদের উদ্দেশ্যে বলা হয়, যাত্রী পরিবহনের সময় অবশ্যই নিরাপত্তা বিধি মেনে চলতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী তোলা যাবে না। যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে এবং নদীতে চলাচলের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এছাড়া নৌযাত্রার সময় যেকোনো ধরনের ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল আলমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, নগরবাসী ও বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। তাই যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণের স্বার্থে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
লাইফ জ্যাকেট পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নৌকার মাঝিরা। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা নদীতে যাত্রী পারাপারের কাজ করলেও এ ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম বিতরণের উদ্যোগ আগে খুব একটা দেখা যায়নি। তাদের মতে, লাইফ জ্যাকেট থাকলে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
একজন মাঝি বলেন, “আমরা প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে নদী পারাপার করি। অনেক সময় আবহাওয়া হঠাৎ পরিবর্তন হয় কিংবা নদীতে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এমন অবস্থায় লাইফ জ্যাকেট যাত্রী ও মাঝি উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সরঞ্জাম। এই উদ্যোগ আমাদের কাজকে আরও দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনা করতে সহায়তা করবে।”
অন্যদিকে দর্শনার্থীরাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, মিডিল চরে যেতে হলে নৌপথই প্রধান মাধ্যম। ফলে নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা থাকায় তারা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি নিশ্চিন্তে নদী পারাপার করতে পারবেন।
দর্শনার্থী লাবনী আক্তার বলেন, “মিডিল চরে ঘুরতে আসা মানুষের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। নদী পারাপারের সময় নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও এখন লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা থাকায় স্বস্তি লাগছে। যাত্রীদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে এমন উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা আনন্দিত।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মিডিল চরকে কেন্দ্র করে রাজশাহীতে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তাই এই এলাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, লাইফ জ্যাকেট বিতরণের পাশাপাশি নৌযান তদারকি, নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও কমে আসবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নৌযাত্রায় নিরাপত্তা সম্পর্কে মাঝি ও যাত্রীদের সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে দর্শনার্থীরা আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে পদ্মার মিডিল চরে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের এই পদক্ষেপ ইতোমধ্যে স্থানীয় জনগণ, নৌকার মাঝি এবং পর্যটকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 



















