ঢাকা, বাংলাদেশ। , মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

মুক্তিযোদ্ধারা অবহেলিত, গণআন্দোলনের যোদ্ধারা কতটা নিরাপদ?

মোঃ শাহ আলম ঝিনাইগাতী, শেরপুর  
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৮:০৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৬১ বার পঠিত
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যে মানুষগুলো বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল—তাদের আমরা বলি মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু আজ সেই মুক্তিযোদ্ধারাই বারবার লাঞ্ছিত, অবহেলিত আর বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেকে জীবন-জীবিকার চাপে ভগ্নস্বাস্থ্যে কাটাচ্ছেন শেষ বয়স, আবার কেউ কেউ সামান্য সম্মান ভাতার জন্য বছরের পর বছর ভোগান্তির শিকার। অথচ আমরা স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও তাদের ন্যায্য মর্যাদা দিতে পারিনি।
মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অবহেলা
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে প্রায় ৩০ লাখ শহীদ আর অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগের বিনিময়ে জন্ম নেয় বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে নিবন্ধিত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার। কিন্তু এদের বড় একটি অংশ এখনো যথাযথ চিকিৎসা, আবাসন বা সামাজিক নিরাপত্তার বাইরে। অনেক এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নিয়ে জালিয়াতি ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগও বারবার এসেছে, যার ফলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারাও অপমানিত হচ্ছেন।
নতুন প্রজন্ম ও ২০২৪-এর গণআন্দোলন
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়। দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটাতে লাখো মানুষ রাজপথে নেমেছিল। ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবী, কৃষক—সবার মিলিত আন্দোলনেই ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। এই আন্দোলনের অনেকেই আহত হয়েছেন, কেউ কেউ জীবন দিয়েছেন। কিন্তু বড় প্রশ্ন হচ্ছে—আজ থেকে ২০ বছর পর এই মানুষগুলো কতটুকু মর্যাদা পাবেন? তারা কি মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই একদিন ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই পেলেও বাস্তবে অবহেলিত হয়ে পড়বেন?
নিরাপত্তাহীনতা ও ইতিহাস বিকৃতির আশঙ্কা
বাংলাদেশে রাজনৈতিক ইতিহাসকে বিকৃত করার নজির নতুন নয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়েও বারবার রাজনীতি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ২০২৪-এর গণআন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে কীভাবে উপস্থাপিত হবে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
যারা আন্দোলনের অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন, তারা কি সত্যিই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাবেন?
নাকি রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে তাদের ত্যাগ অস্বীকার করা হবে?
নতুন প্রজন্ম কি জানতে পারবে, এই স্বাধীন গণতান্ত্রিক বাতাস কারা এনেছিল?
রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা
রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো ইতিহাসকে সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করা, সংগ্রামী মানুষদের সম্মান ও নিরাপত্তা দেওয়া। যেমন—
মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা।
২০২৪-এর গণআন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের নথিভুক্ত করা।
শহীদ ও আহতদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা দেওয়া।
শিক্ষাপাঠ্যক্রমে এসব আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করা।
মুক্তিযোদ্ধারা যদি আজ অবহেলার শিকার হন, তবে ২০২৪-এর গণআন্দোলনের যোদ্ধারাও একই পরিণতির মুখে পড়তে পারেন। আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরাই এখন সবচেয়ে জরুরি। না হলে একদিন তারা প্রশ্ন করবে—“যারা দেশকে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র উপহার দিলেন, তারা কেন নিরাপত্তাহীন ও অবহেলিত হয়ে পড়লেন?”
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

মুক্তিযোদ্ধারা অবহেলিত, গণআন্দোলনের যোদ্ধারা কতটা নিরাপদ?

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৮:০৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যে মানুষগুলো বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল—তাদের আমরা বলি মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু আজ সেই মুক্তিযোদ্ধারাই বারবার লাঞ্ছিত, অবহেলিত আর বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেকে জীবন-জীবিকার চাপে ভগ্নস্বাস্থ্যে কাটাচ্ছেন শেষ বয়স, আবার কেউ কেউ সামান্য সম্মান ভাতার জন্য বছরের পর বছর ভোগান্তির শিকার। অথচ আমরা স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও তাদের ন্যায্য মর্যাদা দিতে পারিনি।
মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অবহেলা
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে প্রায় ৩০ লাখ শহীদ আর অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগের বিনিময়ে জন্ম নেয় বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে নিবন্ধিত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার। কিন্তু এদের বড় একটি অংশ এখনো যথাযথ চিকিৎসা, আবাসন বা সামাজিক নিরাপত্তার বাইরে। অনেক এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নিয়ে জালিয়াতি ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগও বারবার এসেছে, যার ফলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারাও অপমানিত হচ্ছেন।
নতুন প্রজন্ম ও ২০২৪-এর গণআন্দোলন
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়। দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটাতে লাখো মানুষ রাজপথে নেমেছিল। ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবী, কৃষক—সবার মিলিত আন্দোলনেই ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। এই আন্দোলনের অনেকেই আহত হয়েছেন, কেউ কেউ জীবন দিয়েছেন। কিন্তু বড় প্রশ্ন হচ্ছে—আজ থেকে ২০ বছর পর এই মানুষগুলো কতটুকু মর্যাদা পাবেন? তারা কি মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই একদিন ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই পেলেও বাস্তবে অবহেলিত হয়ে পড়বেন?
নিরাপত্তাহীনতা ও ইতিহাস বিকৃতির আশঙ্কা
বাংলাদেশে রাজনৈতিক ইতিহাসকে বিকৃত করার নজির নতুন নয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়েও বারবার রাজনীতি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ২০২৪-এর গণআন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে কীভাবে উপস্থাপিত হবে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
যারা আন্দোলনের অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন, তারা কি সত্যিই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাবেন?
নাকি রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে তাদের ত্যাগ অস্বীকার করা হবে?
নতুন প্রজন্ম কি জানতে পারবে, এই স্বাধীন গণতান্ত্রিক বাতাস কারা এনেছিল?
রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা
রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো ইতিহাসকে সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করা, সংগ্রামী মানুষদের সম্মান ও নিরাপত্তা দেওয়া। যেমন—
মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা।
২০২৪-এর গণআন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের নথিভুক্ত করা।
শহীদ ও আহতদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা দেওয়া।
শিক্ষাপাঠ্যক্রমে এসব আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করা।
মুক্তিযোদ্ধারা যদি আজ অবহেলার শিকার হন, তবে ২০২৪-এর গণআন্দোলনের যোদ্ধারাও একই পরিণতির মুখে পড়তে পারেন। আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরাই এখন সবচেয়ে জরুরি। না হলে একদিন তারা প্রশ্ন করবে—“যারা দেশকে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র উপহার দিলেন, তারা কেন নিরাপত্তাহীন ও অবহেলিত হয়ে পড়লেন?”