ঢাকা, বাংলাদেশ। , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

মোস্তফা শেখ হত্যা মামলার আসামি ফরহাদ শেখ গ্রেফতার

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী 
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:২৭:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৩৩ বার পঠিত
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বহুল আলোচিত মোস্তফা শেখ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মোঃ ফরহাদ শেখ (৩৬) কে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। র‍্যাব-৫, রাজশাহী এবং র‍্যাব-২, ঢাকা-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল গোপন তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে আটক করে।
র‍্যাব সূত্রে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, খুনি, ধর্ষক, অপহরণকারী, ছিনতাইকারী ও প্রতারকদের গ্রেফতারের মাধ্যমে অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এই বাহিনী।
মামলার এজাহার ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নিহত মোস্তফা শেখের সঙ্গে একই এলাকার একাধিক ব্যক্তির দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে উভয় পক্ষ পারিবারিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সিদ্ধান্ত নিলেও তার আগেই রক্তক্ষয়ী এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে মোস্তফা শেখ মাঠে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাজশাহীর চারঘাট থানাধীন বাসাদিয়াড় গ্রামে জনৈক খয়ের শাহের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তায় পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা অভিযুক্তরা তাকে আটক করে। এ সময় তারা লোহার হাসুয়া, চাপাতি ও রামদাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।
চিৎকার শুনে নিহতের ছেলে ওমর ফারুকসহ স্বজনরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে মোস্তফা শেখের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। একই সঙ্গে হামলায় আরও কয়েকজন আহত হয়। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত মোস্তফা শেখকে দ্রুত পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ছেলে ওমর ফারুক বাদী হয়ে রাজশাহীর চারঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১১ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০২, ৩০৭, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় রুজু করা হয়।
মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ ও র‍্যাব যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। এরই মধ্যে কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতার করা হলেও ফরহাদ শেখসহ একাধিক আসামি আত্মগোপনে চলে যায়। আসামিরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের বাড়িঘর দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে এবং সেই সুযোগে দুর্বৃত্তরা লুটপাট চালায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
পরবর্তীতে র‍্যাব ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, পলাতক আসামি ফরহাদ শেখ ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় অবস্থান করছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে র‍্যাব-৫, রাজশাহী ও র‍্যাব-২, ঢাকার একটি যৌথ দল ডিএমপি মোহাম্মদপুর থানাধীন আল্লাহ করিম বিআরটিসি বাস ডিপোর সামনে অভিযান পরিচালনা করে ফরহাদ শেখকে গ্রেফতার করে।
র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ফরহাদ শেখ মোস্তফা শেখ হত্যা ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে রাজশাহীর চারঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

মোস্তফা শেখ হত্যা মামলার আসামি ফরহাদ শেখ গ্রেফতার

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:২৭:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বহুল আলোচিত মোস্তফা শেখ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মোঃ ফরহাদ শেখ (৩৬) কে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। র‍্যাব-৫, রাজশাহী এবং র‍্যাব-২, ঢাকা-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল গোপন তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে আটক করে।
র‍্যাব সূত্রে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, খুনি, ধর্ষক, অপহরণকারী, ছিনতাইকারী ও প্রতারকদের গ্রেফতারের মাধ্যমে অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এই বাহিনী।
মামলার এজাহার ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নিহত মোস্তফা শেখের সঙ্গে একই এলাকার একাধিক ব্যক্তির দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে উভয় পক্ষ পারিবারিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সিদ্ধান্ত নিলেও তার আগেই রক্তক্ষয়ী এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে মোস্তফা শেখ মাঠে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাজশাহীর চারঘাট থানাধীন বাসাদিয়াড় গ্রামে জনৈক খয়ের শাহের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তায় পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা অভিযুক্তরা তাকে আটক করে। এ সময় তারা লোহার হাসুয়া, চাপাতি ও রামদাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।
চিৎকার শুনে নিহতের ছেলে ওমর ফারুকসহ স্বজনরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে মোস্তফা শেখের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। একই সঙ্গে হামলায় আরও কয়েকজন আহত হয়। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত মোস্তফা শেখকে দ্রুত পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ছেলে ওমর ফারুক বাদী হয়ে রাজশাহীর চারঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১১ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০২, ৩০৭, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় রুজু করা হয়।
মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ ও র‍্যাব যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। এরই মধ্যে কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতার করা হলেও ফরহাদ শেখসহ একাধিক আসামি আত্মগোপনে চলে যায়। আসামিরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের বাড়িঘর দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে এবং সেই সুযোগে দুর্বৃত্তরা লুটপাট চালায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
পরবর্তীতে র‍্যাব ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, পলাতক আসামি ফরহাদ শেখ ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় অবস্থান করছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে র‍্যাব-৫, রাজশাহী ও র‍্যাব-২, ঢাকার একটি যৌথ দল ডিএমপি মোহাম্মদপুর থানাধীন আল্লাহ করিম বিআরটিসি বাস ডিপোর সামনে অভিযান পরিচালনা করে ফরহাদ শেখকে গ্রেফতার করে।
র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ফরহাদ শেখ মোস্তফা শেখ হত্যা ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে রাজশাহীর চারঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।