ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

‎মৌলভীবাজারের রাজনগরে জ্বালানি তেলের বর্তমান পরিস্থিতি

সঞ্জয় মালাকার, রাজনগর, মৌলভীবাজার
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১০:১২:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১২ বার পঠিত
Print News

সঞ্জয় মালাকার, রাজনগর, মৌলভীবাজার:   বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে (বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে) জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা এবং আশেপাশের এলাকাগুলোতে এর সরাসরি প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
‎​রাজনগর ও জেলার বর্তমান অবস্থা ‎​সরবরাহ ঘাটতি: রাজনগরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের  (ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল) সরবরাহ আগের তুলনায় অনেকটা সীমিত। অনেক ক্ষেত্রে পাম্পগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে এবং কিছু পাম্পে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর তেল শেষ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
‎​কৃষি খাতে প্রভাব: এপ্রিল মাস বোরো ধান কাটা এবং আউশ আবাদের মৌসুম হওয়ায় রাজনগরের কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। সেচ পাম্প এবং ধান কাটার মেশিনের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল সংগ্রহ করতে কৃষকদের দূর-দূরান্তে ছুটতে হচ্ছে। গ্রামীণ খুচরা দোকানগুলোতে তেল বিক্রি প্রায় বন্ধ থাকায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
‎​পরিবহন ও লোডশেডিং: জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যার ফলে রাজনগর এলাকায় লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও উর্ধ্বমুখী।
‎​সরকারি পদক্ষেপ ও পর্যবেক্ষণ মজুদ ও পাহারা: মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে, শ্রীমঙ্গলের প্রধান ডিপোগুলোতে পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে। তেলের ডিপোগুলোর নিরাপত্তা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
‎​কৃত্রিম সংকট ও অভিযান: গত কয়েকদিনে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে তেল মজুত করার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়েছে (সম্প্রতি কমলগঞ্জে ১৬০০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়েছে)। রাজনগরেও অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
‎​জাতীয় পর্যায়: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতি মূলত বৈশ্বিক অস্থিরতার ফল। সরকার মে মাস পর্যন্ত চাহিদা মেটানোর মতো মজুত নিশ্চিত করেছে এবং জুন-জুলাইয়ের জন্য বিকল্প উৎস খুঁজছে।
‎​ভবিষ্যৎ আশঙ্কা: ‎​রাজনগর উপজেলার সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের ধস নামতে পারে। প্রশাসন নিয়মিত তদারকি করলে এবং পাম্পগুলোতে তেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

‎মৌলভীবাজারের রাজনগরে জ্বালানি তেলের বর্তমান পরিস্থিতি

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১০:১২:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Print News

সঞ্জয় মালাকার, রাজনগর, মৌলভীবাজার:   বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে (বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে) জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা এবং আশেপাশের এলাকাগুলোতে এর সরাসরি প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
‎​রাজনগর ও জেলার বর্তমান অবস্থা ‎​সরবরাহ ঘাটতি: রাজনগরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের  (ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল) সরবরাহ আগের তুলনায় অনেকটা সীমিত। অনেক ক্ষেত্রে পাম্পগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে এবং কিছু পাম্পে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর তেল শেষ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
‎​কৃষি খাতে প্রভাব: এপ্রিল মাস বোরো ধান কাটা এবং আউশ আবাদের মৌসুম হওয়ায় রাজনগরের কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। সেচ পাম্প এবং ধান কাটার মেশিনের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল সংগ্রহ করতে কৃষকদের দূর-দূরান্তে ছুটতে হচ্ছে। গ্রামীণ খুচরা দোকানগুলোতে তেল বিক্রি প্রায় বন্ধ থাকায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
‎​পরিবহন ও লোডশেডিং: জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যার ফলে রাজনগর এলাকায় লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও উর্ধ্বমুখী।
‎​সরকারি পদক্ষেপ ও পর্যবেক্ষণ মজুদ ও পাহারা: মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে, শ্রীমঙ্গলের প্রধান ডিপোগুলোতে পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে। তেলের ডিপোগুলোর নিরাপত্তা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
‎​কৃত্রিম সংকট ও অভিযান: গত কয়েকদিনে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে তেল মজুত করার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়েছে (সম্প্রতি কমলগঞ্জে ১৬০০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়েছে)। রাজনগরেও অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
‎​জাতীয় পর্যায়: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতি মূলত বৈশ্বিক অস্থিরতার ফল। সরকার মে মাস পর্যন্ত চাহিদা মেটানোর মতো মজুত নিশ্চিত করেছে এবং জুন-জুলাইয়ের জন্য বিকল্প উৎস খুঁজছে।
‎​ভবিষ্যৎ আশঙ্কা: ‎​রাজনগর উপজেলার সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের ধস নামতে পারে। প্রশাসন নিয়মিত তদারকি করলে এবং পাম্পগুলোতে তেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।