ঢাকা, বাংলাদেশ। , শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

যথাযোগ্য মর্যাদায় ৭ ডিসেম্বর হালুয়াঘাট মুক্ত দিবস পালিত 

সমীর সরকার, ময়মনসিংহ বিশেষ প্রতিনিধি :
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:৪২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৬৪ বার পঠিত

মহান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে মুক্তিকামী ছাত্র, কৃষক, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে হানাদারমুক্ত করেন।

জানায় ৫ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনী তিন দিক থেকে হালুয়াঘাটে সমন্বিত আক্রমণ চালায়। ৬ ডিসেম্বর সকাল থেকে চলা টানা আক্রমণে ভারতীয় বিমানবাহিনীর চারটি যুদ্ধবিমানের বোমাবর্ষণে পাকিস্তানি বাহিনী বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং পিছু হটতে বাধ্য হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা হালুয়াঘাট দখল করেন এবং শত্রুমুক্ত জনপদে বিজয়ের পতাকা উড়তে শুরু করে।

মুক্ত হালুয়াঘাটে তখনই ফেটে পড়ে আনন্দ-উল্লাস। গ্রাম থেকে গ্রাম, জনপদ থেকে জনপদে প্রতিধ্বনিত হয় ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি। স্বাধীনতার স্বপ্নপূরণের উচ্ছ্বাসে সাধারণ মানুষ বিজয়ের মিছিলে শামিল হয়ে সেদিন উদযাপন করেন এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ৭ ডিসেম্বরের এই দিনে তৎকালীন সিও রেভিনিউ (ভূমি অফিস) মাঠে হালুয়াঘাট থানা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সীমান্তবন্ধু কুদ্রত মন্ডল (এমপিএ) বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং হালুয়াঘাটকে ‘মুক্তাঞ্চল’ ঘোষণা করেন। দিনটি তাই গর্ব, ত্যাগ, বীরত্ব ও মুক্তির এক চিরস্মরণীয় অধ্যায়। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন, হালুয়াঘাট পৌরসভা,জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, স্কুল কলেজ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে  দিবস উদযাপন  করেন, সকালে হালুয়াঘাট মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্তম্ভে মালঞ্চ ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, বর্ণাঢ্য  বিজয় র‌্যালী,ও আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে  বিজয় র‌্যালীটি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স  চত্বর থেকে শুরু হয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ  চত্বরে (কোর্ট ভবন) এসে শেষ হয়। পরে  হালুয়াঘাট উপজেলা কনফারেন্স রুমে এক স্মৃতিচারণ  সভা অনুষ্ঠিত হয়,  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলীনূর খান  সভাপতিত্বে অনুষ্টানে উপস্থিত থেকে স্মৃতিচারণ করেন,  সহকারী কমিশনার ভূমি জন্নাত, ওসি তদন্ত,   বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ আলী , উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আসলাম মিয়া বাবুল,  বীর মুক্তিযোদ্ধ বৃন্দ, মুক্তিযুদ্ধের সন্তান কমান্ড,  সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিশিষ্টজন।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

যথাযোগ্য মর্যাদায় ৭ ডিসেম্বর হালুয়াঘাট মুক্ত দিবস পালিত 

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:৪২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

মহান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে মুক্তিকামী ছাত্র, কৃষক, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে হানাদারমুক্ত করেন।

জানায় ৫ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনী তিন দিক থেকে হালুয়াঘাটে সমন্বিত আক্রমণ চালায়। ৬ ডিসেম্বর সকাল থেকে চলা টানা আক্রমণে ভারতীয় বিমানবাহিনীর চারটি যুদ্ধবিমানের বোমাবর্ষণে পাকিস্তানি বাহিনী বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং পিছু হটতে বাধ্য হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা হালুয়াঘাট দখল করেন এবং শত্রুমুক্ত জনপদে বিজয়ের পতাকা উড়তে শুরু করে।

মুক্ত হালুয়াঘাটে তখনই ফেটে পড়ে আনন্দ-উল্লাস। গ্রাম থেকে গ্রাম, জনপদ থেকে জনপদে প্রতিধ্বনিত হয় ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি। স্বাধীনতার স্বপ্নপূরণের উচ্ছ্বাসে সাধারণ মানুষ বিজয়ের মিছিলে শামিল হয়ে সেদিন উদযাপন করেন এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ৭ ডিসেম্বরের এই দিনে তৎকালীন সিও রেভিনিউ (ভূমি অফিস) মাঠে হালুয়াঘাট থানা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সীমান্তবন্ধু কুদ্রত মন্ডল (এমপিএ) বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং হালুয়াঘাটকে ‘মুক্তাঞ্চল’ ঘোষণা করেন। দিনটি তাই গর্ব, ত্যাগ, বীরত্ব ও মুক্তির এক চিরস্মরণীয় অধ্যায়। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন, হালুয়াঘাট পৌরসভা,জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, স্কুল কলেজ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে  দিবস উদযাপন  করেন, সকালে হালুয়াঘাট মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্তম্ভে মালঞ্চ ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, বর্ণাঢ্য  বিজয় র‌্যালী,ও আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে  বিজয় র‌্যালীটি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স  চত্বর থেকে শুরু হয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ  চত্বরে (কোর্ট ভবন) এসে শেষ হয়। পরে  হালুয়াঘাট উপজেলা কনফারেন্স রুমে এক স্মৃতিচারণ  সভা অনুষ্ঠিত হয়,  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলীনূর খান  সভাপতিত্বে অনুষ্টানে উপস্থিত থেকে স্মৃতিচারণ করেন,  সহকারী কমিশনার ভূমি জন্নাত, ওসি তদন্ত,   বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ আলী , উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আসলাম মিয়া বাবুল,  বীর মুক্তিযোদ্ধ বৃন্দ, মুক্তিযুদ্ধের সন্তান কমান্ড,  সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিশিষ্টজন।