ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

রাজবাড়ীতে বাড়ছে হাম ও ডেঙ্গু,ওষুধ-চিকিৎসক সংকটে ভোগান্তি রোগীদের

রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী

রাজবাড়ীতে একদিকে বাড়ছে হামের উপসর্গ, অন্যদিকে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এতে জেলার হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৩২৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৬৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় ৯০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে একজন মারা গেছে।
জ্বর, সর্দি-কাশি ও শরীরে লালচে দানাসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন রোগীরা। গতকাল শনিবার থেকে রাজবাড়ীতে হামের টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। এ জেলায় টিকা পাবে ৭৯৩২ জন।

এদিকে, গত এক মাসে রাজবাড়ীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু রঙের সংখ্যা রাজবাড়ীতে ১৫৫ জন হয়েছে।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা পেতে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেক রোগী হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ দু-এক ধরনের ওষুধ পেলেও বাকি ওষুধ বাইরে থেকে কিনছেন। আবার কোনো কোনো রোগী একেবারেই ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

এ ছাড়া চিকিৎসক সংকটের কারণেও রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের সুবিধা নেই। প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্রপাতির সংকটও রয়েছে। ফলে রোগীর অবস্থা কিছুটা গুরুতর হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর কিংবা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রোগী ও স্বজনরা।

স্বজনদের ভাষ্য, ফরিদপুর বা ঢাকায় রোগী নিয়ে যাওয়ায় যাতায়াত, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার পেছনে বাড়তি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যও রোগীদের বাইরে যেতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসা ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আর এম ও ডঃ মোঃ রুমেল হাসান বলেন, হামের টিকাদান কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। হামের উপসর্গ ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারিতে রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বর, সর্দি-কাশি কিংবা শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে রোগীকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগও শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
11 October 2026

সৌদি আরবে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় কটিয়াদীর প্রবাসী ফয়সালের মৃত্যু

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

রাজবাড়ীতে বাড়ছে হাম ও ডেঙ্গু,ওষুধ-চিকিৎসক সংকটে ভোগান্তি রোগীদের

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৭:১৪:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী

রাজবাড়ীতে একদিকে বাড়ছে হামের উপসর্গ, অন্যদিকে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এতে জেলার হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৩২৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৬৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় ৯০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে একজন মারা গেছে।
জ্বর, সর্দি-কাশি ও শরীরে লালচে দানাসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন রোগীরা। গতকাল শনিবার থেকে রাজবাড়ীতে হামের টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। এ জেলায় টিকা পাবে ৭৯৩২ জন।

এদিকে, গত এক মাসে রাজবাড়ীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু রঙের সংখ্যা রাজবাড়ীতে ১৫৫ জন হয়েছে।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা পেতে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেক রোগী হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ দু-এক ধরনের ওষুধ পেলেও বাকি ওষুধ বাইরে থেকে কিনছেন। আবার কোনো কোনো রোগী একেবারেই ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

এ ছাড়া চিকিৎসক সংকটের কারণেও রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের সুবিধা নেই। প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্রপাতির সংকটও রয়েছে। ফলে রোগীর অবস্থা কিছুটা গুরুতর হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর কিংবা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রোগী ও স্বজনরা।

স্বজনদের ভাষ্য, ফরিদপুর বা ঢাকায় রোগী নিয়ে যাওয়ায় যাতায়াত, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার পেছনে বাড়তি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যও রোগীদের বাইরে যেতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসা ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আর এম ও ডঃ মোঃ রুমেল হাসান বলেন, হামের টিকাদান কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। হামের উপসর্গ ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারিতে রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বর, সর্দি-কাশি কিংবা শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে রোগীকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগও শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

Share this news as a Photo Card