ঢাকা, বাংলাদেশ। , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

রাষ্ট্রের পরশে এবার লালন স্মরণে — ছেঁউড়িয়ায় তিন দিনের ভাবোৎসব

প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৮:৫২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
  • / ৮৩ বার পঠিত
উজ্জ্বল মাহমুদ :কুষ্টিয়া :
আধ্যাত্মিক সাধক ও বাউলসম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩৫তম তিরোধান দিবস আজ (১৭ অক্টোবর / ১ কার্তিক)। এবছরই প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে এই দিনটি।
এ উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়িতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবের উদ্বোধন করবেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। বিকেলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের পর্দা তোলবেন বলে জানিয়েছে লালন একাডেমি।
উৎসবকে ঘিরে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া এখন যেন এক বিশাল ভাবজগত। দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো সাধু, গুরু ও লালনভক্ত জড়ো হয়েছেন আখড়াবাড়ি ও আশপাশের মরা কালীগঙ্গা নদীর তীরে। নদীর পশ্চিম প্রান্তের মাঠে শতাধিক বাউল অনুসারী অস্থায়ী তাঁবু গেড়ে অবস্থান নিয়েছেন। একতারা, দোতারা, খমক আর বাঁশির সুরে ভরে উঠেছে চারপাশ।
মাঠের দক্ষিণ পাশে নির্মিত বিশাল মঞ্চে প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত চলবে লালন সংগীতের আসর। উত্তরের অংশে বসেছে পণ্যের দোকান, হস্তশিল্পের পসরা আর স্থানীয় খাবারের আয়োজন।
উদ্বোধনী দিনে প্রয়াত লালনসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভিনের স্মরণে একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শিত হবে।
 লালনের সমাধিস্থলের পাশের উন্মুক্ত সেডে ভক্তরা গেয়ে চলেছেন সাঁইজির বাণী— “মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি”। কেউ ধ্যানে মগ্ন, কেউবা ভাবগানে হারিয়ে গেছেন লালনের দর্শনে।
সাধু মামুন বলেন, “রাষ্ট্রীয়ভাবে এমন আয়োজন অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। দেরিতে হলেও সরকারের উদ্যোগে লালনের বাণী দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে— এতে আমরা গর্বিত।”
দর্শনার্থী জেরিনের ভাষায়, “প্রতি বছরই আসি। এবারের আয়োজন আগেভাগে শুরু হওয়ায় ভিড়ও বেশি।”
স্থানীয় অনুসারী ফারুক সাধু বলেন, “আমরা এখানে আসি সাঁইজির মর্মবাণী চর্চা আর ভাব বিনিময়ের জন্য। এখানে জাত-পাত নেই, অহঙ্কার নেই— সবাই এক সূত্রে বাঁধা।”
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন জানান, “লালন শাহের ১৩৫তম তিরোধান দিবসকে ঘিরে লালন একাডেমি, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক ফকির লালন শাহ দেহত্যাগ করেন। তারপর থেকেই তাঁর স্মরণে প্রতি বছর আখড়াবাড়িতে লালন স্মরণোৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবারের বিশেষত্ব— এই প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে এই মহাসাধকের তিরোধান দিবস।
অনুষ্ঠানমালা চলবে আগামী রোববার গভীর রাত পর্যন্ত।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

রাষ্ট্রের পরশে এবার লালন স্মরণে — ছেঁউড়িয়ায় তিন দিনের ভাবোৎসব

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৮:৫২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
উজ্জ্বল মাহমুদ :কুষ্টিয়া :
আধ্যাত্মিক সাধক ও বাউলসম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩৫তম তিরোধান দিবস আজ (১৭ অক্টোবর / ১ কার্তিক)। এবছরই প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে এই দিনটি।
এ উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়িতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবের উদ্বোধন করবেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। বিকেলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের পর্দা তোলবেন বলে জানিয়েছে লালন একাডেমি।
উৎসবকে ঘিরে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া এখন যেন এক বিশাল ভাবজগত। দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো সাধু, গুরু ও লালনভক্ত জড়ো হয়েছেন আখড়াবাড়ি ও আশপাশের মরা কালীগঙ্গা নদীর তীরে। নদীর পশ্চিম প্রান্তের মাঠে শতাধিক বাউল অনুসারী অস্থায়ী তাঁবু গেড়ে অবস্থান নিয়েছেন। একতারা, দোতারা, খমক আর বাঁশির সুরে ভরে উঠেছে চারপাশ।
মাঠের দক্ষিণ পাশে নির্মিত বিশাল মঞ্চে প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত চলবে লালন সংগীতের আসর। উত্তরের অংশে বসেছে পণ্যের দোকান, হস্তশিল্পের পসরা আর স্থানীয় খাবারের আয়োজন।
উদ্বোধনী দিনে প্রয়াত লালনসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভিনের স্মরণে একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শিত হবে।
 লালনের সমাধিস্থলের পাশের উন্মুক্ত সেডে ভক্তরা গেয়ে চলেছেন সাঁইজির বাণী— “মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি”। কেউ ধ্যানে মগ্ন, কেউবা ভাবগানে হারিয়ে গেছেন লালনের দর্শনে।
সাধু মামুন বলেন, “রাষ্ট্রীয়ভাবে এমন আয়োজন অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। দেরিতে হলেও সরকারের উদ্যোগে লালনের বাণী দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে— এতে আমরা গর্বিত।”
দর্শনার্থী জেরিনের ভাষায়, “প্রতি বছরই আসি। এবারের আয়োজন আগেভাগে শুরু হওয়ায় ভিড়ও বেশি।”
স্থানীয় অনুসারী ফারুক সাধু বলেন, “আমরা এখানে আসি সাঁইজির মর্মবাণী চর্চা আর ভাব বিনিময়ের জন্য। এখানে জাত-পাত নেই, অহঙ্কার নেই— সবাই এক সূত্রে বাঁধা।”
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন জানান, “লালন শাহের ১৩৫তম তিরোধান দিবসকে ঘিরে লালন একাডেমি, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক ফকির লালন শাহ দেহত্যাগ করেন। তারপর থেকেই তাঁর স্মরণে প্রতি বছর আখড়াবাড়িতে লালন স্মরণোৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবারের বিশেষত্ব— এই প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে এই মহাসাধকের তিরোধান দিবস।
অনুষ্ঠানমালা চলবে আগামী রোববার গভীর রাত পর্যন্ত।