ঢাকা, বাংলাদেশ। , সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন

লামায় ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

জাহিদ হাসান, বান্দরবান
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৮:২৭:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫
  • / ৯৫ বার পঠিত

বান্দরবানের লামা উপজেলায় চলমান ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন উপজেলাবাসী, ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অসংখ্য মানুষ। বিদ্যুৎ বিভাগ গাছের ডালপালা ছাঁটাইকে লোডশেডিংয়ের কারণ বললেও, স্থানীয়দের অভিযোগের তীর দুর্নীতিগ্রস্ত এক কর্মকর্তার দিকে।

লামা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়। বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না; কোথাও আধা ঘণ্টার জন্য এলেও, কখনো টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকছে এলাকা। এতে আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রিন্ট ও লেমিনেটিং মেশিনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম এবং বাসাবাড়ির ফ্রিজ, এসি, টিভি ও কম্পিউটারসহ বিভিন্ন দামি জিনিসপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় ইন্টারনেট সেবাও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস ও ডিজিটাল কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে।অনেক স্থানীয়ের দাবি, বর্তমান দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা লামা উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই এই সমস্যার সূত্রপাত। অভিযোগ উঠেছে, কক্সবাজারের রামুতে বিদ্যুৎ সরবরাহ অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী গৌতম চৌধুরীর বিরুদ্ধে এর আগেও রাজস্ব আত্মসাৎ, গ্রাহক হয়রানি ও নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। গত ৫ জানুয়ারি রামু উপজেলা পরিষদের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে ভুক্তভোগীরা তার দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরেছিলেন। পরবর্তীতে তাকে লামা উপজেলায় বদলি করা হয়।লামার সচেতন মহল দ্রুত এই সমস্যার সমাধান এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।

এদিকে, লামা বিদ্যুৎ সরবরাহ, বিউবো, লামার আবাসিক প্রকৌশলী জানিয়েছেন, কক্সবাজারের ১৩২/৩৩ কেভি গ্রীড উপকেন্দ্রের পাওয়ার ট্রান্সফরমারের অভ্যন্তরীণ ত্রুটির কারণে কক্সবাজার টু চকরিয়া ৩৩ কেভি লাইনে মাত্র ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে। একইসাথে, দোহাজারী টু চকরিয়া ৩৩ কেভি লাইনটি লাইন ফল্টের কারণে বন্ধ আছে। চকরিয়াতে প্রাপ্ত ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ থেকে লামা ও আলীকদম উপজেলায় মাত্র ২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যেখানে তাদের প্রয়োজন ৬ মেগাওয়াট। তাই লোডশেডিংয়ের মাধ্যমেই বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখা হচ্ছে।

আবাসিক প্রকৌশলী আরও জানান, এই মুহূর্তে লোডশেডিং ছাড়া দুইটি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার কোনো উপায় নেই। কক্সবাজার গ্রীড থেকে পূর্ণ লোড বিদ্যুৎ সরবরাহ না হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। দোহাজারী টু চকরিয়া ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইনে ফল্ট চেকিং চলছে। দোহাজারী লাইনটি সচল হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জনসাধারণকে এই সাময়িক অসুবিধা সহ্য করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন

লামায় ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৮:২৭:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫

বান্দরবানের লামা উপজেলায় চলমান ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন উপজেলাবাসী, ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অসংখ্য মানুষ। বিদ্যুৎ বিভাগ গাছের ডালপালা ছাঁটাইকে লোডশেডিংয়ের কারণ বললেও, স্থানীয়দের অভিযোগের তীর দুর্নীতিগ্রস্ত এক কর্মকর্তার দিকে।

লামা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়। বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না; কোথাও আধা ঘণ্টার জন্য এলেও, কখনো টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকছে এলাকা। এতে আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রিন্ট ও লেমিনেটিং মেশিনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম এবং বাসাবাড়ির ফ্রিজ, এসি, টিভি ও কম্পিউটারসহ বিভিন্ন দামি জিনিসপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় ইন্টারনেট সেবাও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস ও ডিজিটাল কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে।অনেক স্থানীয়ের দাবি, বর্তমান দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা লামা উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই এই সমস্যার সূত্রপাত। অভিযোগ উঠেছে, কক্সবাজারের রামুতে বিদ্যুৎ সরবরাহ অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী গৌতম চৌধুরীর বিরুদ্ধে এর আগেও রাজস্ব আত্মসাৎ, গ্রাহক হয়রানি ও নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। গত ৫ জানুয়ারি রামু উপজেলা পরিষদের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে ভুক্তভোগীরা তার দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরেছিলেন। পরবর্তীতে তাকে লামা উপজেলায় বদলি করা হয়।লামার সচেতন মহল দ্রুত এই সমস্যার সমাধান এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।

এদিকে, লামা বিদ্যুৎ সরবরাহ, বিউবো, লামার আবাসিক প্রকৌশলী জানিয়েছেন, কক্সবাজারের ১৩২/৩৩ কেভি গ্রীড উপকেন্দ্রের পাওয়ার ট্রান্সফরমারের অভ্যন্তরীণ ত্রুটির কারণে কক্সবাজার টু চকরিয়া ৩৩ কেভি লাইনে মাত্র ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে। একইসাথে, দোহাজারী টু চকরিয়া ৩৩ কেভি লাইনটি লাইন ফল্টের কারণে বন্ধ আছে। চকরিয়াতে প্রাপ্ত ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ থেকে লামা ও আলীকদম উপজেলায় মাত্র ২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যেখানে তাদের প্রয়োজন ৬ মেগাওয়াট। তাই লোডশেডিংয়ের মাধ্যমেই বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখা হচ্ছে।

আবাসিক প্রকৌশলী আরও জানান, এই মুহূর্তে লোডশেডিং ছাড়া দুইটি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার কোনো উপায় নেই। কক্সবাজার গ্রীড থেকে পূর্ণ লোড বিদ্যুৎ সরবরাহ না হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। দোহাজারী টু চকরিয়া ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইনে ফল্ট চেকিং চলছে। দোহাজারী লাইনটি সচল হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জনসাধারণকে এই সাময়িক অসুবিধা সহ্য করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।