ঢাকা, বাংলাদেশ। , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

লামায় ৯ কৃষি পরিবারের ৩৯ সদস্য উচ্ছেদ আতঙ্কে 

জাহিদ হাসান,বান্দরবান প্রতিনিধি,
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:১০:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
  • / ৬৯ বার পঠিত
বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড ডলুছড়ি মৌজা পুইট্টা ঝিরি পাড়ার ৯টি কৃষি পরিবার উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। চার দশকের স্বত্ত্ব দখলীয় জমি থেকে জোর পূর্বক উচ্ছেদের পায়তারা চালাচ্ছেন মঞ্জুর আলম নামের এক দুবাই প্রবাসী।স্থানীয় গুটি কয়েক ভূমিদস্যুদের প্ররোচনায় টাকার জোরে জমির প্রকৃত মালিকদের উচ্ছেদের পায়তারা করছেন এই মঞ্জুর আলম। জমির মালিকদেরকে অব্যাহত হুমকি উচ্ছেদের ভয় , মিথ্যা মামলা দায়েরের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে হয়রানী করছেন মঞ্জুর আলম গং। সরেজমিনে দেখা যায়, ডলুছড়ি মৌজার পুইট্টাঝিরিপাড়ায় একটি খাস জায়গায় ১৯৮০’ দশক থেকে বসবাস করে আসছেন এই কৃষি পরিবারগুলো। উক্ত জায়গাটি ভূমিহীন হিসেবে বন্দবস্তি পাওয়ার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিধিমতে সরকার (জেলা প্রশাসক) এর কাছে আবেদন করেছেন তারা। দখলীয় ভূমির পরিমান আনুমানিক ২৫ একর বলে বসবাসকারীরা দাবি করেন। জানাযায়, জায়গাটি সরকারের খাস তৌজি ভুক্ত হওয়ায় জমির প্রকৃত মালিক সরকার বা ডিসি। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিধি অনুসারে সরকারের খাস পতিত জায়গা, ভূমিহীন দখলীয় প্রজা প্রাথমিক স্বত্তবান। ভবিষ্যতে ওই দখলীয় জায়গা তারা বন্দবস্তি পাইতে পারে। মৌজা হেডম্যান সেভাবে জেলা প্রশাসক বরাবর দখলীয় প্রজার অনুকুলে বন্দবস্তির সুপারিশ পেশ করেন। কাগজপত্রাদি পর্যালোচনান্তে জানাযায়, ভূমিতে দখল স্থিত প্রজা বশির আহমদ, নুরুল হুদা, মোস্তফা, আইনুল হক সর্বপিতা- মৃত মৌলভী ইছাক গং এর নামে বন্দবস্তি পাওয়ার আবেদন গ্রহন করেছেন জেলা প্রশাসক। স্থানীয়রা জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে এই জায়গাটির উপর দুবাই প্রবাসী মঞ্জুর আলম গংয়ের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। মঞ্জুর আলম চট্টগ্রাম জেলা লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা বলে জানাযায়। অভিযোগ উঠেছে, মঞ্জুর আলম গং নোটারী পাবলিক জমি ক্রয় বিক্রয় কয়েকটি চুক্তি দলিল মূলে বিভিন্ন তফসিলের কাগজ দেখিয়ে এই ৯ পরিবারের দখলীয় খাস জায়গা জবর দখলের চেষ্টা করে চলেছে। তার এহেন কাজে সহযোগীতা করছেন বর্তমানে গজালিয়া ইউনিয়নের জনৈক মিন্টুর ছেলে নাজমুল গং। চার দশক ধরে বসবাস করা পরিবারগুলোকে উক্ত জায়গা থেকে বর্তমানে উচ্ছেদ করার জন্য, হামলা মামলা ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন মঞ্জুর আলমের জামাতা পরিচয়ে এই নাজমুল। গত কয়েক বছর ধরে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন মাধ্যমকে ব্যাবহার করে ও বিজ্ঞ আদালতে মিথ্যা ভিত্তিহীন মামলা দায়েরসহ, পুলিশ, এসিল্যান্ডের দফতরে ও কাছের একটি সেনাক্যাম্পে কাল্পনিক অভিযোেগ দায়ের করে হয়রানি করে চলছে। ইতিমধ্যে দুইটি মামলায় তদন্তে মঞ্জুর আলমের আনিত অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানিয়েছেন। এতকিছুর পরেও শান্তিপূর্ণভাবে জমির দখলে থাকা পরিবারগুলোকে উচ্ছেদের জন্য বিভিন্ন জায়গায় এখনো মিথ্যা অভিযোগসহ ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে তারা জানান। ১লা জুলাই মঙ্গলবার স্থানীয় তিন সাংবাদিক সরেজমিন তদন্তে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের সত্যতা পান। ওইদিন মঞ্জুর আলমের কথিত জামাতা নাজমুল বেসরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে আইনুল হকদের দখলীয় (খাস) জায়গা পরিমাপ করতে চায়। পরিমাপের পূর্ব শর্তানুযায়ী মঞ্জুর আলমের ক্রয়কৃত জায়গার জমাবন্দি (রেকর্ডের নকল) সার্ভেয়ারের নিকট উপস্থাপন করেন নাই। জমাবন্দি ছাড়া মনগড়াভাবে জোরপূর্বক জায়গা পরিমাপ জন্য মঞ্জুর আলমের প্রতিনিধি ও জামাতা পরিচয়দানকারি নাজমুল ঔদ্বত্যপুর্ণ আচরণ করতে দেখা যায়। পরিমাপের জন্য জমাবন্দি কাগজ উপস্থাপন না করার একটি রহস্যে লুকিয়ে আছে। তা হচ্ছে, যেসব জমাবন্দির অনুবলে মঞ্জুর আলম ক্রয়সূত্রে উক্ত জায়গার মালিক দাবি করছেন তা রেকর্ডে নেই। সেসব জমাবন্দির সরকারি রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখাযায়, ইতোপূর্বে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের নামে দু’টি ও মোস্তফা গ্রুপের নামে একটি মোট তিনটি জমাবন্দিতে প্রায় ১৫ একর জায়গা এই দুই প্রতিষ্ঠানের নামে নামজারি হয়ে আছে। ফলে মঞ্জুর আলমের জামাতা বা প্রতিনিধি জমাবন্দি উপস্থাপন করছেনা। বর্তমানে মঞ্জুর আলম ও নাজমুল গংয়ের দখল আগ্রাসন  অত্যাচার থেকে রেহাই পেতে ও স্বত্ত্ব দখলীয় জমিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখল বজায় থাকতে পারে; তার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট  কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন ভুক্তভোগী ৯ পরিবারের ৩৯ সদস্য।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

লামায় ৯ কৃষি পরিবারের ৩৯ সদস্য উচ্ছেদ আতঙ্কে 

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:১০:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড ডলুছড়ি মৌজা পুইট্টা ঝিরি পাড়ার ৯টি কৃষি পরিবার উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। চার দশকের স্বত্ত্ব দখলীয় জমি থেকে জোর পূর্বক উচ্ছেদের পায়তারা চালাচ্ছেন মঞ্জুর আলম নামের এক দুবাই প্রবাসী।স্থানীয় গুটি কয়েক ভূমিদস্যুদের প্ররোচনায় টাকার জোরে জমির প্রকৃত মালিকদের উচ্ছেদের পায়তারা করছেন এই মঞ্জুর আলম। জমির মালিকদেরকে অব্যাহত হুমকি উচ্ছেদের ভয় , মিথ্যা মামলা দায়েরের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে হয়রানী করছেন মঞ্জুর আলম গং। সরেজমিনে দেখা যায়, ডলুছড়ি মৌজার পুইট্টাঝিরিপাড়ায় একটি খাস জায়গায় ১৯৮০’ দশক থেকে বসবাস করে আসছেন এই কৃষি পরিবারগুলো। উক্ত জায়গাটি ভূমিহীন হিসেবে বন্দবস্তি পাওয়ার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিধিমতে সরকার (জেলা প্রশাসক) এর কাছে আবেদন করেছেন তারা। দখলীয় ভূমির পরিমান আনুমানিক ২৫ একর বলে বসবাসকারীরা দাবি করেন। জানাযায়, জায়গাটি সরকারের খাস তৌজি ভুক্ত হওয়ায় জমির প্রকৃত মালিক সরকার বা ডিসি। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিধি অনুসারে সরকারের খাস পতিত জায়গা, ভূমিহীন দখলীয় প্রজা প্রাথমিক স্বত্তবান। ভবিষ্যতে ওই দখলীয় জায়গা তারা বন্দবস্তি পাইতে পারে। মৌজা হেডম্যান সেভাবে জেলা প্রশাসক বরাবর দখলীয় প্রজার অনুকুলে বন্দবস্তির সুপারিশ পেশ করেন। কাগজপত্রাদি পর্যালোচনান্তে জানাযায়, ভূমিতে দখল স্থিত প্রজা বশির আহমদ, নুরুল হুদা, মোস্তফা, আইনুল হক সর্বপিতা- মৃত মৌলভী ইছাক গং এর নামে বন্দবস্তি পাওয়ার আবেদন গ্রহন করেছেন জেলা প্রশাসক। স্থানীয়রা জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে এই জায়গাটির উপর দুবাই প্রবাসী মঞ্জুর আলম গংয়ের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। মঞ্জুর আলম চট্টগ্রাম জেলা লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা বলে জানাযায়। অভিযোগ উঠেছে, মঞ্জুর আলম গং নোটারী পাবলিক জমি ক্রয় বিক্রয় কয়েকটি চুক্তি দলিল মূলে বিভিন্ন তফসিলের কাগজ দেখিয়ে এই ৯ পরিবারের দখলীয় খাস জায়গা জবর দখলের চেষ্টা করে চলেছে। তার এহেন কাজে সহযোগীতা করছেন বর্তমানে গজালিয়া ইউনিয়নের জনৈক মিন্টুর ছেলে নাজমুল গং। চার দশক ধরে বসবাস করা পরিবারগুলোকে উক্ত জায়গা থেকে বর্তমানে উচ্ছেদ করার জন্য, হামলা মামলা ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন মঞ্জুর আলমের জামাতা পরিচয়ে এই নাজমুল। গত কয়েক বছর ধরে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন মাধ্যমকে ব্যাবহার করে ও বিজ্ঞ আদালতে মিথ্যা ভিত্তিহীন মামলা দায়েরসহ, পুলিশ, এসিল্যান্ডের দফতরে ও কাছের একটি সেনাক্যাম্পে কাল্পনিক অভিযোেগ দায়ের করে হয়রানি করে চলছে। ইতিমধ্যে দুইটি মামলায় তদন্তে মঞ্জুর আলমের আনিত অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানিয়েছেন। এতকিছুর পরেও শান্তিপূর্ণভাবে জমির দখলে থাকা পরিবারগুলোকে উচ্ছেদের জন্য বিভিন্ন জায়গায় এখনো মিথ্যা অভিযোগসহ ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে তারা জানান। ১লা জুলাই মঙ্গলবার স্থানীয় তিন সাংবাদিক সরেজমিন তদন্তে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের সত্যতা পান। ওইদিন মঞ্জুর আলমের কথিত জামাতা নাজমুল বেসরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে আইনুল হকদের দখলীয় (খাস) জায়গা পরিমাপ করতে চায়। পরিমাপের পূর্ব শর্তানুযায়ী মঞ্জুর আলমের ক্রয়কৃত জায়গার জমাবন্দি (রেকর্ডের নকল) সার্ভেয়ারের নিকট উপস্থাপন করেন নাই। জমাবন্দি ছাড়া মনগড়াভাবে জোরপূর্বক জায়গা পরিমাপ জন্য মঞ্জুর আলমের প্রতিনিধি ও জামাতা পরিচয়দানকারি নাজমুল ঔদ্বত্যপুর্ণ আচরণ করতে দেখা যায়। পরিমাপের জন্য জমাবন্দি কাগজ উপস্থাপন না করার একটি রহস্যে লুকিয়ে আছে। তা হচ্ছে, যেসব জমাবন্দির অনুবলে মঞ্জুর আলম ক্রয়সূত্রে উক্ত জায়গার মালিক দাবি করছেন তা রেকর্ডে নেই। সেসব জমাবন্দির সরকারি রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখাযায়, ইতোপূর্বে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের নামে দু’টি ও মোস্তফা গ্রুপের নামে একটি মোট তিনটি জমাবন্দিতে প্রায় ১৫ একর জায়গা এই দুই প্রতিষ্ঠানের নামে নামজারি হয়ে আছে। ফলে মঞ্জুর আলমের জামাতা বা প্রতিনিধি জমাবন্দি উপস্থাপন করছেনা। বর্তমানে মঞ্জুর আলম ও নাজমুল গংয়ের দখল আগ্রাসন  অত্যাচার থেকে রেহাই পেতে ও স্বত্ত্ব দখলীয় জমিতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখল বজায় থাকতে পারে; তার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট  কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন ভুক্তভোগী ৯ পরিবারের ৩৯ সদস্য।