ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

শংকরকাটি খাদিজা নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে কোনো ছাত্রীনা থাকলেও উক্ত শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত

মাহফুজুর রহমান, শ্যামনগর:    সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার শংকরকাটি খাদিজা নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনো ছাত্রী নেই। অথচ বিদ্যালয়টিতে কর্মরত রয়েছেন ৮ জন শিক্ষক ও ২ জন কর্মচারী। প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থী না থাকলেও সরকারি অর্থে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে কোনো ছাত্রী না থাকলেও উক্ত শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত থাকা এবং এমপিও সুবিধা চালু থাকা সরকারি অর্থের অপচয়ের শামিল। ছাত্রীশূন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও এমপিও সুবিধা কীভাবে চলমান রয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় চত্বরে সুনসান নীরবতা। ৮ জন শিক্ষককে একটি কক্ষে বসে থাকতে দেখা যায়। দুজন কর্মচারী বাইরে অবস্থান করছিলেন। শ্রেণিকক্ষগুলো ছিল ফাঁকা। বিদ্যালয়ের কাগজপত্রে ১২২ জন ছাত্রীর সংখ্যা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে কোনো ছাত্রী পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের দাবি, ১০ জন ছাত্রী উপবৃত্তি পাচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল খায়ের আল আজাদের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা রিপোর্ট করলেও আমাদের কিছু হবে না। সরকার অন্যত্র বদলি করে দেবে—এমন বিধান আছে।’’ ছাত্রীদের উপস্থিতি না থাকা নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের সঙ্গে কোনো মতবিনিময় সভা বা যোগাযোগ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি এর সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘‘আমি হাতে-পায়ে ধরে শিক্ষার্থী আনতে পারব না।’’
বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক মনোরঞ্জন কুমার মণ্ডল, বাংলা শিক্ষক জাহিদ আলম, সমাজবিজ্ঞান শিক্ষক কাজল কুমার দেবনাথসহ কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষকের গাফিলতি ও ব্যবস্থাপনার কারণে বিদ্যালয়ের এ দুরবস্থা তৈরি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল জব্বার পৈয়াদা বলেন, শিক্ষকদের অবহেলার কারণে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের পথে। ১৯৮৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১ জানুয়ারি ১৯৯৪ সালে এমপিওভুক্ত হয়। শিক্ষকরা প্রতি মাসে সরকারি বেতন-ভাতা সুবিধা পেলেও এর বিনিময়ে শিক্ষার্থী না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত পরিচালিত হচ্ছে না। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ তেজারত বলেন, ‘‘বিদ্যালয়টিতে কোনো ছাত্রী নেই—বিষয়টি আমি জানি। প্রধান শিক্ষককে ছাত্রী ভর্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’
বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামছুজ্জাহান কনক বলেন, ‘‘বিষয়টি তদন্ত করে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয়

দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর : মাহদী আমিন

21 September 2026

দৌলতপুরে লাখ টাকার পূজার সামগ্রী চুরি, গ্রেপ্তার-৩

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

শংকরকাটি খাদিজা নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে কোনো ছাত্রীনা থাকলেও উক্ত শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৫:০৫:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মাহফুজুর রহমান, শ্যামনগর:    সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার শংকরকাটি খাদিজা নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনো ছাত্রী নেই। অথচ বিদ্যালয়টিতে কর্মরত রয়েছেন ৮ জন শিক্ষক ও ২ জন কর্মচারী। প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থী না থাকলেও সরকারি অর্থে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে কোনো ছাত্রী না থাকলেও উক্ত শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত থাকা এবং এমপিও সুবিধা চালু থাকা সরকারি অর্থের অপচয়ের শামিল। ছাত্রীশূন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও এমপিও সুবিধা কীভাবে চলমান রয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় চত্বরে সুনসান নীরবতা। ৮ জন শিক্ষককে একটি কক্ষে বসে থাকতে দেখা যায়। দুজন কর্মচারী বাইরে অবস্থান করছিলেন। শ্রেণিকক্ষগুলো ছিল ফাঁকা। বিদ্যালয়ের কাগজপত্রে ১২২ জন ছাত্রীর সংখ্যা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে কোনো ছাত্রী পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের দাবি, ১০ জন ছাত্রী উপবৃত্তি পাচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল খায়ের আল আজাদের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা রিপোর্ট করলেও আমাদের কিছু হবে না। সরকার অন্যত্র বদলি করে দেবে—এমন বিধান আছে।’’ ছাত্রীদের উপস্থিতি না থাকা নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের সঙ্গে কোনো মতবিনিময় সভা বা যোগাযোগ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি এর সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘‘আমি হাতে-পায়ে ধরে শিক্ষার্থী আনতে পারব না।’’
বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক মনোরঞ্জন কুমার মণ্ডল, বাংলা শিক্ষক জাহিদ আলম, সমাজবিজ্ঞান শিক্ষক কাজল কুমার দেবনাথসহ কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষকের গাফিলতি ও ব্যবস্থাপনার কারণে বিদ্যালয়ের এ দুরবস্থা তৈরি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল জব্বার পৈয়াদা বলেন, শিক্ষকদের অবহেলার কারণে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের পথে। ১৯৮৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১ জানুয়ারি ১৯৯৪ সালে এমপিওভুক্ত হয়। শিক্ষকরা প্রতি মাসে সরকারি বেতন-ভাতা সুবিধা পেলেও এর বিনিময়ে শিক্ষার্থী না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত পরিচালিত হচ্ছে না। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ তেজারত বলেন, ‘‘বিদ্যালয়টিতে কোনো ছাত্রী নেই—বিষয়টি আমি জানি। প্রধান শিক্ষককে ছাত্রী ভর্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’
বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামছুজ্জাহান কনক বলেন, ‘‘বিষয়টি তদন্ত করে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share this news as a Photo Card