ঢাকা, বাংলাদেশ। , মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

শখ থেকে স্বপ্ন—খামার গড়ে স্বাবলম্বী যুবক শহীদুল্লাহ

মোঃশাহ্ আলম শেরপুর প্রতিনিধি :
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৭:৩৬:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ৩০ বার পঠিত

শেরপুর জেলার ফাকরাবাদ গ্রাম  এলাকার যুবক মোঃ শহীদুল্লাহ। এক সময় শখের বসে তিনি দু-একটি গরু পালন শুরু করেছিলেন। পরিবার ও সমাজে খুব একটা সাড়া না পেলেও তিনি স্বপ্ন দেখতেন একদিন এই ছোট উদ্যোগটিই হবে তার স্বাবলম্বিতার হাতিয়ার। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। বর্তমানে তার খামারে ২০টিরও বেশি গাভি রয়েছে। প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে দুধ, বাড়ছে আয়, আর সেই সাথে বেড়েছে এলাকার মানুষের আগ্রহ ও প্রশংসা।শুরুটা ছিল ছোট্ট উদ্যোগ

 

শহীদুল্লাহ জানান, “প্রথমে শুধু শখের বশেই বাড়ির আঙিনায় কয়েকটি গরু পালন শুরু করি। তখন হয়তো মনে হয়নি যে একদিন এটা বড় আকার নেবে। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝতে পারি সঠিক পরিকল্পনা আর যত্ন নিলে গরু পালন খুব লাভজনক হতে পারে।”এরপর তিনি স্থানীয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করেন। সেখানে আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, পশু চিকিৎসা, খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও দুধ উৎপাদন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেন। সেই প্রশিক্ষণই হয়ে ওঠে তার খামার গড়ার পথচলার বড় সহায়ক।

খামারের বর্তমান চিত্র

শহীদুল্লাহর খামারে রয়েছে দুধেল গাভি। প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ লিটার দুধ বিক্রি করছেন তিনি। স্থানীয় বাজার ছাড়াও কাছাকাছি দোকান, চা স্টল এবং পরিবারগুলোতে এই দুধ সরবরাহ করা হয়। ফলে তার খামার থেকে নিয়মিত আয় হচ্ছে। শুধু তাই নয়, গরুর গোবর দিয়ে জৈব সার উৎপাদন করে এলাকার কৃষকদের কাছে বিক্রিও করছেন তিনি।খামারের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত পশু চিকিৎসক দ্বারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ—এসব বিষয়ে তিনি অত্যন্ত সচেতন। খামারে ঢুকলেই বোঝা যায় সঠিক পরিকল্পনা ও যত্ন দিয়ে কিভাবে একটি স্বপ্ন সফল করা যায়।

পরিবারের অবদান ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া

শহীদুল্লাহর পরিবারের সদস্যরাও এখন খামারের কাজে তাকে সহায়তা করছেন। তার স্ত্রী খামারের খরচ-খাতা ও দুধ বিক্রির হিসাব রাখেন। সন্তানরা স্কুল শেষে খামারের গরুগুলোকে খাবার দেওয়ায় সাহায্য করে।এলাকার মানুষজন তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। অনেক তরুণ এখন শহীদুল্লাহর খামার দেখতে আসেন এবং খামার করার ব্যাপারে পরামর্শ নেন। এক সময় বেকারত্বের হতাশায় ভোগা যুবকের সাফল্যের গল্প এখন অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

শহীদুল্লাহর স্বপ্ন এখানেই থেমে নেই। তিনি বলেন,“আমি চাই আগামী কয়েক বছরের মধ্যে খামারের গরুর সংখ্যা দ্বিগুণ করতে। শুধু দুধ নয়, গরুর বাচ্চা বিক্রি এবং গোবর থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনের পরিকল্পনাও করছি। যদি সরকারি সহায়তা ও ঋণ পাই, তাহলে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারব।”

অনুকরণীয় উদ্যোগ

স্থানীয় কৃষি ও পশুসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, শহীদুল্লাহর মত তরুণরা যদি খামার করে স্বাবলম্বী হন, তাহলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। একদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের ঘাটতিও অনেকটা মেটানো সম্ভব হবে।এভাবেই একসময় শখের বশে শুরু করা গরু পালন এখন শহীদুল্লাহর জীবন বদলে দিয়েছে। তার সাফল্যের গল্প আজ তরুণ সমাজের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

শখ থেকে স্বপ্ন—খামার গড়ে স্বাবলম্বী যুবক শহীদুল্লাহ

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৭:৩৬:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শেরপুর জেলার ফাকরাবাদ গ্রাম  এলাকার যুবক মোঃ শহীদুল্লাহ। এক সময় শখের বসে তিনি দু-একটি গরু পালন শুরু করেছিলেন। পরিবার ও সমাজে খুব একটা সাড়া না পেলেও তিনি স্বপ্ন দেখতেন একদিন এই ছোট উদ্যোগটিই হবে তার স্বাবলম্বিতার হাতিয়ার। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। বর্তমানে তার খামারে ২০টিরও বেশি গাভি রয়েছে। প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে দুধ, বাড়ছে আয়, আর সেই সাথে বেড়েছে এলাকার মানুষের আগ্রহ ও প্রশংসা।শুরুটা ছিল ছোট্ট উদ্যোগ

 

শহীদুল্লাহ জানান, “প্রথমে শুধু শখের বশেই বাড়ির আঙিনায় কয়েকটি গরু পালন শুরু করি। তখন হয়তো মনে হয়নি যে একদিন এটা বড় আকার নেবে। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝতে পারি সঠিক পরিকল্পনা আর যত্ন নিলে গরু পালন খুব লাভজনক হতে পারে।”এরপর তিনি স্থানীয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করেন। সেখানে আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, পশু চিকিৎসা, খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও দুধ উৎপাদন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেন। সেই প্রশিক্ষণই হয়ে ওঠে তার খামার গড়ার পথচলার বড় সহায়ক।

খামারের বর্তমান চিত্র

শহীদুল্লাহর খামারে রয়েছে দুধেল গাভি। প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ লিটার দুধ বিক্রি করছেন তিনি। স্থানীয় বাজার ছাড়াও কাছাকাছি দোকান, চা স্টল এবং পরিবারগুলোতে এই দুধ সরবরাহ করা হয়। ফলে তার খামার থেকে নিয়মিত আয় হচ্ছে। শুধু তাই নয়, গরুর গোবর দিয়ে জৈব সার উৎপাদন করে এলাকার কৃষকদের কাছে বিক্রিও করছেন তিনি।খামারের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত পশু চিকিৎসক দ্বারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ—এসব বিষয়ে তিনি অত্যন্ত সচেতন। খামারে ঢুকলেই বোঝা যায় সঠিক পরিকল্পনা ও যত্ন দিয়ে কিভাবে একটি স্বপ্ন সফল করা যায়।

পরিবারের অবদান ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া

শহীদুল্লাহর পরিবারের সদস্যরাও এখন খামারের কাজে তাকে সহায়তা করছেন। তার স্ত্রী খামারের খরচ-খাতা ও দুধ বিক্রির হিসাব রাখেন। সন্তানরা স্কুল শেষে খামারের গরুগুলোকে খাবার দেওয়ায় সাহায্য করে।এলাকার মানুষজন তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। অনেক তরুণ এখন শহীদুল্লাহর খামার দেখতে আসেন এবং খামার করার ব্যাপারে পরামর্শ নেন। এক সময় বেকারত্বের হতাশায় ভোগা যুবকের সাফল্যের গল্প এখন অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

শহীদুল্লাহর স্বপ্ন এখানেই থেমে নেই। তিনি বলেন,“আমি চাই আগামী কয়েক বছরের মধ্যে খামারের গরুর সংখ্যা দ্বিগুণ করতে। শুধু দুধ নয়, গরুর বাচ্চা বিক্রি এবং গোবর থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনের পরিকল্পনাও করছি। যদি সরকারি সহায়তা ও ঋণ পাই, তাহলে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারব।”

অনুকরণীয় উদ্যোগ

স্থানীয় কৃষি ও পশুসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, শহীদুল্লাহর মত তরুণরা যদি খামার করে স্বাবলম্বী হন, তাহলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। একদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের ঘাটতিও অনেকটা মেটানো সম্ভব হবে।এভাবেই একসময় শখের বশে শুরু করা গরু পালন এখন শহীদুল্লাহর জীবন বদলে দিয়েছে। তার সাফল্যের গল্প আজ তরুণ সমাজের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে।