ঢাকা, বাংলাদেশ। , মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টাকে রুখে দিতে ঝর্ণার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন

গংগাচড়া (রংপুর)
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:৩৫:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৮৬ বার পঠিত

রংপুরের গঙ্গাচড়ার গজঘণ্টা ইউনিয়নে ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ এর চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১০ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বলা হয়েছে, গজঘণ্টা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বরাদ্দকৃত ১০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণের তালিকায় অনেক দুঃস্থ অসহায় পরিবারের নাম থাকা স্বত্বেও চাল পাননি। এতে স্থানীয় ইউপি সদস্য ঝর্ণা বেগমের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাৎ ও স্লিপ গায়েব করার মতো গুরুতর অপরাধের শাস্তি দাবি করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) বরাবর ভুক্তভোগীদের গণস্বাক্ষর সম্বলিত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন পঙ্গু নাজমূল ইসলাম নামের একজন ভুক্তভোগী।

গঠিত তদন্ত কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মোজাহেদুজ্জামানকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ খায়রুল ইসলাম এবং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ভূপাল চন্দ্র রায়। কমিটি গঠনের চিঠি অনুযায়ী আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে এ কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, শুধু ভিজিএফ নয়, বরাদ্দকৃত রেশন, বয়স্ক ও বিধবা ভাতা, এমনকি ৪০ দিনের কর্মসূচির কাজ নিয়েও চলছে দালালি ও ঘুষ বাণিজ্য। ভুক্তভোগী পঙ্গু নাজমুল ইসলাম বলেন, “আমার নাম তালিকায় ছিল, কিন্তু কোনো স্লিপ পাইনি। পরে শুনি আমার নামে চাল উঠেছে।” একই অভিযোগ করেছেন শাহাজুল ইসলাম, ছাবেরা বেগম, মমতাজ বেগমসহ আরও অনেকে। অন্যদিকে বিধবা রওশনারা বেগম জানান, “৪০ দিনের কাজ দেওয়ার আশ্বাসে ৪ হাজার টাকা এবং বিধবা ভাতার জন্য আরও ১ হাজার টাকা নিয়েছে ইউপি সদস্য ঝর্ণা বেগম , কিন্তু আমাকে কোন কিছুই দেয়া হয়নি ।” সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইউপি সদস্য ঝর্ণা বেগম বলেন,মোক বেইজ্জত করেন না ভাই ।

এগুলা বিষয় নিয়া বাড়াবাড়ি করি মোক বিপদোত না ফেলান। উল্লেখ্য, ঝর্ণা বেগমের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। ২০২২ ও ২০২৩ সালেও রেশন কার্ড ও ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে , যার লিখিত প্রমাণ রয়েছে ইউএনও কার্যালয়ে। তবে অভিযোগকারীরা পরে ইউপি চেয়ারম্যানের চাপ ও মামলার ভয় দেখিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ রয়েছে । এবিষয়ে ইউএনও মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টাকে রুখে দিতে ঝর্ণার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:৩৫:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৫

রংপুরের গঙ্গাচড়ার গজঘণ্টা ইউনিয়নে ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ এর চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১০ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বলা হয়েছে, গজঘণ্টা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বরাদ্দকৃত ১০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণের তালিকায় অনেক দুঃস্থ অসহায় পরিবারের নাম থাকা স্বত্বেও চাল পাননি। এতে স্থানীয় ইউপি সদস্য ঝর্ণা বেগমের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাৎ ও স্লিপ গায়েব করার মতো গুরুতর অপরাধের শাস্তি দাবি করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) বরাবর ভুক্তভোগীদের গণস্বাক্ষর সম্বলিত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন পঙ্গু নাজমূল ইসলাম নামের একজন ভুক্তভোগী।

গঠিত তদন্ত কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মোজাহেদুজ্জামানকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ খায়রুল ইসলাম এবং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ভূপাল চন্দ্র রায়। কমিটি গঠনের চিঠি অনুযায়ী আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে এ কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, শুধু ভিজিএফ নয়, বরাদ্দকৃত রেশন, বয়স্ক ও বিধবা ভাতা, এমনকি ৪০ দিনের কর্মসূচির কাজ নিয়েও চলছে দালালি ও ঘুষ বাণিজ্য। ভুক্তভোগী পঙ্গু নাজমুল ইসলাম বলেন, “আমার নাম তালিকায় ছিল, কিন্তু কোনো স্লিপ পাইনি। পরে শুনি আমার নামে চাল উঠেছে।” একই অভিযোগ করেছেন শাহাজুল ইসলাম, ছাবেরা বেগম, মমতাজ বেগমসহ আরও অনেকে। অন্যদিকে বিধবা রওশনারা বেগম জানান, “৪০ দিনের কাজ দেওয়ার আশ্বাসে ৪ হাজার টাকা এবং বিধবা ভাতার জন্য আরও ১ হাজার টাকা নিয়েছে ইউপি সদস্য ঝর্ণা বেগম , কিন্তু আমাকে কোন কিছুই দেয়া হয়নি ।” সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইউপি সদস্য ঝর্ণা বেগম বলেন,মোক বেইজ্জত করেন না ভাই ।

এগুলা বিষয় নিয়া বাড়াবাড়ি করি মোক বিপদোত না ফেলান। উল্লেখ্য, ঝর্ণা বেগমের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। ২০২২ ও ২০২৩ সালেও রেশন কার্ড ও ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে , যার লিখিত প্রমাণ রয়েছে ইউএনও কার্যালয়ে। তবে অভিযোগকারীরা পরে ইউপি চেয়ারম্যানের চাপ ও মামলার ভয় দেখিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ রয়েছে । এবিষয়ে ইউএনও মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।